সর্বশেষ আপডেট : ৪৮ মিনিট ১৪ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৩ পৌষ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সুনামগঞ্জের হাওর পাড়ের মন্ডপে মন্ডপে বিদায়ের সুর

তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি ::

সুনামগঞ্জের হাওরপাড়ের সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দূর্গা পূজার বিজয়া দশমী এ উপলক্ষ্যে শনিবার সকাল থেকেই প্রতিটি মন্ডপে মন্ডপে শেষ মুহুর্তে বেজেছিল বিদায়ের সুর। হাওর পাড়ের সকল হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন ভীড় শুরু করে নিজ নিজ মন্ডপকে ঘিরে। বাদ্ধ বাজনার তালে তালে, কেউবা করছেন অঞ্জলী দান, কেউবা মনের কামনা বাসনা পূরনের শেষ প্রার্থনা,কেউবা অশ্রুজলে বিদায় জানান। আর সকল প্রস্তুতি নিতে ব্যস্থ সময় পার করেন প্রতিটি মন্ডপ সংশ্লিষ্ট দায়িত্বে থাকা লোকজন।

সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শাস্ত্রমতে, মহালয়ার মাধ্যমে মর্তে আগমন করেন মা দূর্গা। মহালয়া থেকে দশমী পর্যন্ত ১২দিন মা পৃথিবীতে (বাপের বাড়ি) অবস্থান করেন। বিজয়া দশমী শেষ পক্ষে দূর্গা বিদায় নিয়ে শশুর বাড়ি (কৈলাশে) চলে যায়। জানাযায়,সুনামগঞ্জের হাওরপাড়ে সনাতন হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় দূর্গা উৎসবকে সামনে রেখে শিশু থেকে নারী-পুরুষ ও মধ্যবয়সী সবাই আনন্দে মাতোয়ারা থাকত।

এবার অন্যান্য বছরের মত উৎসবের উচ্ছাস ছিল না। সবার মুখে অবর্ননীয় দূশ্চিন্তার ছাপ। বেচেঁ থাকার লড়াই করতে করতেই তারা ক্লান্ত ছিল। এবার এক ফসলী বোরো ধান অকাল বন্যায় হারানোর কারনে তাদের প্রধান উৎসব দূর্গা পূজা নিয়ে উৎসাহ-উদ্দিপনা হারিয়ে গেছে মন থেকে। আরো জানাযায়-কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই সুন্দর ভাবে দূর্গা পূজা অনুষ্টিত হয়েছে।

সুনামগঞ্জ জেলার ১১টি উপজেলায় ৩শতাধিক মন্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হত প্রতি বছর। এর মধ্যে জেলা সদরে ১৬টি,দক্ষিন সুনামগঞ্জে ১৭টি,জগন্নাথপুরে ২১টি,ছাতকে ২৬টি,ধর্মপাশায় ১৩টি,মধ্যনগরে ২১টি,বিশ্বাম্ভরপুরে ১৭টি,দিরাইয়ে ৪৭টি,দোয়ারা বাজারে ১০টি,জামালগঞ্জে ৪০টি,তাহিরপুরে ২২টি এবং শাল্লায় ২১টি পূজা মন্ডপ তৈরি করা হয়েছিল। এবার তার অর্ধেকের বেশি হয় নি জানান হাওরবাসী। আর দূর্গা পূজার জন্য মন্ডব যা তৈরী হয়েছে তা শুধু নাম মাত্র।

জেলা ও উপজেলা পূজা উৎযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দরা বলেন-পূজা মানেই আনন্দ,পূজা মানেই হিংসা,বিদ্ধেশ ও সকল বেধাবেদ ভুলে ঐক্যের জয়গান। তবে এবার বন্যায় বোরো ফসলের অপূরনীয় ক্ষতির কারনে পুজার আনন্দ আর আগের মত হয় নি। তার পরও আমরা প্রধান এই উৎসব শুশৃংখল ও সুন্দর ভাবে উৎযাপন করার জন্য আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী সহ সবার একান্ত সহযোগীতায় উৎযাপন করেছি। অনেকেই বির্ষজন দিয়ে দিয়েছেন বাকী গুলো বিকালের পূর্বেই দেওয়া হবে। তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল জানান-হাওরাঞ্চলে এবার বোরো ধান অকাল বন্যায় ক্ষতির কারনে ক্ষতিগ্রস্থ হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের মাঝেও নেই আনন্দ ছিল না। তারপরও কষ্ট ভুলে আনন্দের দিনে আনন্দ পাবার জন্য সনাতন হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন প্রধান উৎসব দূর্গাপূজা উৎযাপন করছেন। তাহিরপুর থানার ওসি নন্দন কান্তি ধর জানান,দূর্গা পূজায় আইনশৃংখলা রক্ষায় আমাদের পক্ষ থেকে সর্বাতœক চেষ্ট করায় কোথাও কোন প্রকার বিশৃংখলা হয় নি। দূর্গাপূজা সুষ্ট ভাবেই সম্পন্ন হযেছে।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: