সর্বশেষ আপডেট : ১২ মিনিট ৩৭ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৯ কার্তিক ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বিসিএস ক্যাডার কারো দান নয়, যোগ্যতার বিষয়

ইসমাঈল হোসেন (রোমান) ::
বর্তমান সরকার ২৮৩টি কলেজ জাতীয়করণ করেছেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই যুগোপযোগী উদ্যোগকে আন্তরিকতার সাথে স্বাগত জানাই। জাতীয়করণে শিক্ষা ক্যাডারদের কোন আপত্তি নেই, কিন্ত আমাদের আপত্তি হলো আত্তীকৃত শিক্ষকদের ক্যাডার মর্যাদা দেয়ার ব্যাপারে।

ক্যাডার কারো দান নয়, এটি একটি যোগ্যতার বিষয়। যা নিজের মেধা, প্রজ্ঞা ও যোগ্যতার মাধ্যমে অর্জন করতে হয়। বর্তমানে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের ২৭টি ক্যাডারের মধ্যে অন্য কোন ক্যাডারে বিসিএস ছাড়া ক্যাডার মর্যাদা পাওয়ার কোন নিয়ম নেই।

তাহলে শিক্ষা ক্যাডারে কেন? আমরা যারা শিক্ষা ক্যাডারে এসেছি। আমাদের মধ্যে প্রত্যেকেই আড়াই থেকে তিন লক্ষ পরীক্ষার্থীদের মধ্যে বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করে নিজের মেধা, প্রজ্ঞা ও যোগ্যতার বলে ক্যাডার সার্ভিসে নিয়োগ পেয়েছি। যদি আত্তীকৃতদের ক্যাডার মর্যাদা দেয়া হয় তাহলে আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি, এদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় সিডরের মত দুর্যোগ নেমে আসবে এবং মেধাবীরা ভবিষ্যতে কখনই এ ক্যাডারে আসার আগ্রহ প্রকাশ করবে না।

শুধু তাই নয় ক্যাডার সার্ভিসে শিক্ষা ক্যাডার একটি প্রহসনের বিষয় হয়ে দাঁড়াবে। আত্তীকৃতরা যুক্তি পেশ করে যে, ইতিপূর্বে যে সকল কলেজ ধাপে ধাপে জাতীয়করণ হয়েছে, তারাতো শিক্ষা ক্যাডারের মর্যাদা পেয়েছে, আমরা কেন পাব না? এই ব্যাপারে আমি কতিপয় যুক্তি তুলে ধরছি।

প্রথমত:
ক্যাডার কম্পোজিশন রুলস ১৯৮০ ধারা ৬ এ নিয়োগের ধরন বলা হয়েছে ২টি। (১) সরাসরি নিয়োগ (২) পদোন্নতির মাধ্যমে নিয়োগ। আবার ক্যাডার রিক্রুটমেন্ট রুলস ১৯৮১ তে নিয়োগের ধরন বলা হয়েছে ২টি। (১) ধারা ৪ এ সরাসরি নিয়োগ (২) ধারা ৫ এ পদোন্নতির মাধ্যমে নিয়োগ।

দ্বিতীয়ত:
সরকার কলেজ জাতীয়করণ করলে ১৯৮১ জাতীয়করণকৃত কলেজ শিক্ষকদের জন্য একটি বিধি তৈরি করে যেটা Teachers and Non Teaching Stuff of Nationalized Colleges Absorption Rules, ১৯৮১ নামে পরিচিত। এই বিধিতেও জাতীয়করণকৃত কলেজ শিক্ষকদের ক্যাডারভুক্ত করার কোন সুযোগ নেই। তাদেরকে কলেজ জাতীয়করণের তারিখ হতে চাকরি গণনায় সিনিয়রিটির যে বিষয়টি উল্লেখ আছে সেটাও তাদের মধ্যে।

তৃতীয়ত:
১৯৯৮ সালে জাতীয়করণকৃত কলেজ শিক্ষকদের জন্য Teachers and Non Teaching Stuff of Nationalized Colleges Absorption Rules, ১৯৮১ বাতিল করে স্বপদে আত্তীকরণ বিধিমালা ১৯৯৮ প্রণয়ন করা হয়। এই বিধিতে ও জাতীয়করণকৃত কলেজ শিক্ষকদের তারা অধ্যক্ষ/উপাধ্যক্ষ/ বা যে যে পদেই থাকবেন সে পদে আত্তীকরণ করা হয়। কিন্তু ক্যাডারভুক্ত করার কোন সুযোগ নেই।

চতুর্থত:
২০০০ সালে জাতীয়করণকৃত কলেজ শিক্ষকদের জন্য জাতীয়করণকৃত কলেজ শিক্ষক অশিক্ষক কর্মচারী আত্তীকরণ বিধিমালা ২০০০ নামে একটি বিধি প্রণয়ন করা হয়। এই বিধিতে কৌশলে একটি ধারা ৯(২) সংযোজন করা হয়। যেখানে আত্তীকরণ বিধি ১৯৯৮ প্রণয়নের সময় বাতিলকৃত বিধি Teachers and Non Teaching Stuff of Nationalized Colleges Absorption Rules, ১৯৮১ এর জ্যেষ্ঠতা ও আর্থিক সুবিধা প্রদান করা হয় এবং ক্যাডার কম্পোজিশন রুলস ১৯৮০ ও ক্যাডার রিক্রুটমেন্ট রুলস ১৯৮১ পরিপন্থীভাবে তাদেরকে ক্যাডারভুক্ত করা হয়। যার দরুন আজও শিক্ষা ক্যাডারদের মধ্যে হাজার হাজার কর্মকর্তা প্রতিনিয়ত চরম ভোগান্তির স্বীকার হচ্ছেন। সুতরাং আমরা এই ২০০০ বিধির পুনরাবৃত্তি আর কখনই চাই না।

পঞ্চম:
২০১০ সালে যে শিক্ষানীতি প্রণয়ন করা হয়েছে তাতে স্পষ্টভাবে শিক্ষা ক্যাডারদের মর্যাদার ব্যাপারে অধ্যায়-২৭ (শিক্ষা প্রশাসন) এ বলা আছে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারিকরণের জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা থাকা জরুরী। এই নীতিমালায় জাতীয়কণকৃত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক/কর্মকর্তা/কর্মচারীদের চাকরি সংক্রান্ত বিধি বিধান থাকবে যাতে কর্মকমিশন কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের স্বার্থ সংরক্ষিত হয়। একই সাথে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের স্বার্থ সংরক্ষণের ব্যবস্থা ও থাকবে। এখন আমরা জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ এর পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়ন চাই।

ষষ্ঠ:
যারা কোনদিন বিসিএস প্রিলি পাশ করেননি বা অনেকবার চেষ্টা করে ও একটি নন ক্যাডার প্রথম শ্রেণি/ ২য় শ্রেণির চাকরি পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেননি। আজ তার কী করে ক্যাডারের মর্যাদা দাবী করেন! তা অত্যন্ত দুঃখজনক।

তাছাড়া বর্তমানে সরকারি কলেজ রয়েছে ৩২৬টি এবং এতে শিক্ষা ক্যাডারের সংখ্যা প্রায় ১৫০০০ হাজার। আরো যদি ২৮৩টি কলেজ এবং প্রায় ১২০০০/১৪০০০ হাজার শিক্ষক আত্তীকৃত হয় তাহলে তা প্রহসন ছাড়া আর কিছুই হবে না। আমি এবং আমরা মনে করি ২০০০ বিধি পরিবর্তন করে ২০১৭ বিধি এমনভাবে প্রণয়ন করা হোক যাতে করে আর কখনও আত্তীকৃতরা ক্যাডার মর্যাদা না পায়। শুধু তাই নয় তার জন্য আলাদা বিধি, প্রয়োজনে কমিশন গঠন করা হোক। তাহলে শিক্ষা ক্যাডারের মর্যাদা রক্ষা হবে এবং ভবিষ্যতে যোগ্য, দক্ষ ও মেধাবীরা শিক্ষা ক্যাডারে আসবে। এমনকি মান সম্মত শিক্ষা সুনিশ্চিত হবে।

পরিশেষে বলতে চাই No BCS, No Cadre

 

লেখক : প্রভাষক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, ৩৫ তম বিসিএস, মানিকগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজ, মানিকগঞ্জ।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: