সর্বশেষ আপডেট : ৮ মিনিট ১৫ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

চাকরি হারানোর ভয়ে আছেন সৌদি প্রবাসী বাংলাদেশি চালকরা

প্রবাস ডেস্ক ::
সৌদি বাদশাহ সালমান দেশের নারীদের গাড়ী চালানোর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পর দেশ জুড়ে শুরু আনন্দ উল্লাস। সৌদি বাদশাহর এই ঘোষণা আন্তর্জাতিক মহলেও বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছে। বাদশাহ সালমানকে অভিনন্দন জানিয়েছে স্বয়ং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর কন্যা ইভাঙ্কা ট্রাম্প।

কিন্তু বাদশাহর এই ঘোষণায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে দেশটিতে চালক হিসেবে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের মধ্যে। তাদের উদ্বেগ এই কারণে যে, সৌদি নারীরা গাড়ি চালানো শুরু করলে তাদের চাকরি থাকবে তো!

সৌদি আরবের বাসাবাড়ির জন্য লাখ লাখ অভিবাসী ড্রাইভারের রয়েছে। এক হিসাবে, শুধু সৌদি নারীদের যাতায়াতের প্রয়োজনে সে দেশে ৮ লক্ষ ড্রাইভার কাজ করে থাকেন। এদের মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বাংলাদেশি। তবে সৌদিতে ঠিক কতজন বাংলাদেশি গাড়িচালক হিসেবে আছেন তার কোনো সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি।

এ সম্পর্কে ঢাকার শীর্ষস্থানীয় এক জনসম্পদ রপ্তানিকারক আলী হায়দার চৌধুরী বিবিসিকে বলছেন, গৃহকর্মে কাজের জন্য নতুন করে লোক নিয়োগের ভিসা দেওয়া শুরুর পর গত দেড় বছরে বাংলাদেশ থেকে অন্তত ৫০ হাজার লোক ড্রাইভারের চাকরি নিয়ে সৌদি আরব গেছেন।

জেদ্দায় রেন্ট- এ-কার ব্যবসার সাথে ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে কাজ করছেন বাহার বকুল। তিনি বিবিসিকে বলেন, প্রচুর বাংলাদেশিকে তিনি চেনেন যারা বিভিন্ন সৌদি পরিবারে গাড়ী চালকের কাজ করেন। তিনি বলেন, ‘অনেক বাড়িতে একাধিক ড্রাইভার কাজ করেন। মনে করেন, তিনটি বাচ্চা তিনটি ভিন্ন ভিন্ন স্কুলে যায়, তাদের তিনজনের জন্যই হয়তো তিনজন ড্রাইভার। এদের অধিকাংশই বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান বা শ্রীলঙ্কার।’

নারীরা গাড়ি চালানো শুরু করলে তাদের চাকির হুমকিতে পড়তে পারে কি? এই প্রশ্নের জবাবে বাহার বকুল বললেন, এখনই চট করে বলা মুশকিল। তার ভাষায়, ‘একজন ড্রাইভারের বেতন কম করে ১৫শ রিয়াল। সৌদি নারীরা গাড়ি চালাতে পারলে হয়তো অনেক পরিবার পয়সা বাঁচানোর চেষ্টা করতে পারে।’

বকুল আরো বলেন, সৌদি আরবে বেশ কিছুদিন ধরে বিভিন্ন কাজে নারীদের দেখা যাচ্ছে যেটা আগে দেখাই যেত না। সুপার মার্কেটগুলোতেও এখন মেয়েরা কাজ করছেন। গাড়ি চালাতেও দেখবো হয়তো কিছুদিন পর।’

তবে সৌদি নারীরা গাড়ি চালানোর অধিকার পেলেও এতে বাংলাদেশি চালকদের তেমন কোনো সমস্যা হবে না বলেই মনে করছেন জনসম্পদ রপ্তানিকারক আলী হায়দার চৌধুরী। তার আরও ধারণা ভবিষ্যতে খুব কম সৌদি নারীই হয়তো গাড়ি চালাবেন।

তিনি দীর্ঘ ২২ বছর সৌদি আরবে ছিলেন আলী হায়দার চৌধুরী। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি বলেন, ‘আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি সৌদি সমাজ এতটাই রক্ষণশীল যে তাদের কতজন গাড়ি চালাবেন, তা নিয়ে আমার সন্দেহ আছে। পশ্চিমা দেশে গিয়ে পড়াশোনা করে আসা কিছু হয়তো গাড়ি চালাবেন, কিন্তু সেই সংখ্যা খুব বেশি নয়।’

উদাহরণ হিসাবে তিনি কাতার এবং কুয়েতের কথা উল্লেখ করেন। ‘কুয়েত, কাতারেও মেয়েরা গাড়ি চালাতে পারে। কিন্তু তারপরও ঐ দুই দেশে অনেকেই বাসাবাড়িতে ড্রাইভারের কাজ নিয়ে যাচ্ছে।’

আলী হায়দার চৌধুরী আরো বলেন, কতজন সৌদি নারী ড্রাইভারের পয়সা বাঁচাতে গাড়ি চালাবেন, তা অনেকটাই নির্ভর করবে সৌদি অর্থনীতির গতিপ্রকৃতির ওপর।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: