সর্বশেষ আপডেট : ৮ ঘন্টা আগে
শনিবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৬ কার্তিক ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ওসমানীনগরে মাদরাসা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন ও যৌতুকের অভিযোগ

বালাগঞ্জ প্রতিনিধি:: ওসমানীনগরের এক মাদরাসা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন ও যৌতুক নেয়ার অভিযোগ ওঠেছে। ওই অধ্যক্ষ বিয়ের পর থেকেই তার পরিবারের সদস্যদের সহযোগীতায় স্ত্রীকে নির্যাতনসহ নানা অজুহাতে দফায়-দফায় শশুড় বাড়ির লোকজনের কাছ থেকে বড় অঙ্কেরে টাকা আদায় করেছেন। শশুড়বাড়ি থেকে আদায়কৃত টাকা আত্মসাৎসহ জনৈক এক মহিলাকে বিয়ে করার হীন উদ্দেশ্যে নিজ স্ত্রীকে মারপিট করে তাড়িয়ে দিয়েছেন বলেও তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠেছে। অভিযুক্ত আবু সালেহ আল মাহমুদ ওসমানীনগরের চক বাজার ইসলামিয়া আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ ও উপজেলার দয়ামীর ইউনিয়নের চিন্তামনী গ্রামের আরফান আলীর ছেলে।

যৌতুক আদায় ও নির্যাতনের অভিযোগে অধ্যক্ষের স্ত্রী মাছুমা ছিদ্দিকা বাদি হয়ে গত ১৮ সেপ্টেম্বর সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলা নং- ৬১৪/১৭। মামলায় অধ্যক্ষসহ তাঁর ভাই কয়ছর মিয়া, বোন দিলারা বেগম ও অধ্যক্ষের ভাইয়ের স্ত্রী নিলুফা আক্তার মালাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারক মো: মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের জন্য গত ২০ সেপ্টেম্বর দক্ষিন সুরমা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ প্রদান করেন।
আদালতে দাখিলৃত মামলার বিবরণে জানা যায়, মোগলাবাজার থানার দাউদপুর গ্রামের মখদ্দছ আলী ছিদ্দিকির মেয়ে মাছুমা ছিদ্দিকার (মামলার বাদি) সাথে ১৯৯৯ সালের ১৫ই আগষ্ট অভিযুক্ত আবু সালেহ আল মাহমুদের পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের কিছু দিনপর থেকে যৌতুকের দাবিতে মাহমুদ স্ত্রী মাছুমাকে কারণে-অকারণে নির্যাতন করে আসছিলেন। মাছুমার লন্ডন প্রবাসী ভাই বিভিন্ন সময়ে মাছুমার ব্যক্তিগত একাউন্টে টাকা পাঠাতেন। টাকা পাঠানোর বিষয়টি জানতে পেরে জোর পূর্বক মাছুমার স্বাক্ষর নিয়ে সেই টাকা থেকে ৮ লক্ষ টাকা তুলে নেন মাহমুদ। কিন্তু সংসার ঠিকানোর স্বার্থে মুখ খুলে কিছু বলেন নি স্ত্রী মাছুমা। অর্থলোভী মাহমুদ টাকা নিয়েই ক্ষান্ত হননি। এক সময় তার লন্ডন যাওয়ার খায়েশ জাগে। মাছুমার লন্ডন প্রবাসী ভাইয়ের মাধ্যমে তাকে লন্ডন নেয়ার জন্য স্ত্রী মাছুমার কাছে তিনি বায়না ধরেন। বোনের সুখ-শান্তির কথা চিন্তা করে স্পন্সরের মাধ্যমে মাহমুদকে লন্ডন নেন মাছুমার ভাই হাবিবুর রহমান ছিদ্দিকি। কিছু দিনপর মাছুমার ভাইকে না জানিয়ে অগোচরে লন্ডন থেকে দেশে চলে আসেন মাহমুদ। দেশে আসার পর ২য় বিয়ের অনুমতি চেয়ে স্ত্রী মাছুমাকে চাপ সৃষ্টি করেন তিনি। কিন্তু মাছুমা ২য় বিয়ের অনুমতি দেননি। এতে স্বামী মাহমুদ মাহমুদ আরো ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। শশুড় বাড়ি থেকে আরো ১০লক্ষ টাকা এনে দেয়ার জন্য পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে স্ত্রী মাছুমার ওপর নির্যাতনের মাত্রা আরো বাড়িয়ে দেন। এমতাবস্থায় চলতি বছরের ৮এপ্রিল টাকার জন্য মাছুমাকে খুব বেশি মারপিট করা হয়। মারপিটের খবর পেয়ে মাছুমার পিতার বাড়ির লোকজন মাছুমাকে আহত অবস্থায় স্বামীর বাড়ি থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়ে পিত্রালয়ে নিয়ে যান। এরপর থেকে মাহমুদ স্ত্রী মাছুমা ও শশুড় বাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচারে লিপ্ত থাকেন। এদিকে গত ৩০ আগষ্ট এসংক্রান্ত বিষয়ে সালিশ বসে। এতে চতুর মাহমুদ কথিপয় সালিশ ব্যক্তিদের কৌশলে হাত করে স্ত্রী মাছুমাকে তালাক দেয়ার চেষ্টা চালান বলে মাছুমার পরিবারের অভিযোগ।

এবিষয়ে মাছুমার ভাই ফেরদৌসুর রহমান ছিদ্দিকি আফরোজ বলেন, অধ্যক্ষ নামধারী এই মাহমুদ পার্শ্ববর্তী বাড়ির এক মহিলার সাথে পরকিয়ায় লিপ্ত রয়েছেন। ওই মহিলাকে বিয়ে করার জন্য তিনি আমার বোনকে তাড়িয়ে দিয়েছেন। তিনির একাধিক মেয়ের সাথে পরকিয়ায় লিপ্ত থাকার বিষয়টি আমার বোন জানলেও সংসার ঠিকিয়ে রাখার স্বার্থে প্রতিবাদ করতে সাহস পায়নি। এছাড়া তিনি কয়েকবার জোর পূর্বক আমার বোনের গর্ভপাতও ঘঠিয়ে আমার বোনের গর্ভে সন্তান আসেনা বলে অপবাদ দিয়ে যাচ্ছেন। বিয়ের পর তার আসল চেহারা আমাদের কাছে ফুটে ওঠলেও আমরা শুধুমাত্র আমার বোনের সুখের কথা চিন্তা করে বিভিন্ন সময়ে তাকে প্রায় ১৮ লক্ষ টাকা দিয়েছি। তিনি আমার বোনকে বিয়ে করার আগে গোপনে আরো একাধিক বিয়ে করেছিলেন। সেই স্ত্রীকে তালাক দিয়ে জোর পূর্বক তাড়িয়ে দিয়েছিলেন বলে এখন আমরা জানতে পারছি।

মামলা ও অভিযোগগুলোর বিষয়ে জানতে চাইলে চক বাজার ইসলামিয়া আলিম মাদরাসার প্রিন্সিপাল আবু সালেহ আল মাহমুদ বলেন, মাছুমা আমার অবাধ্য হয়ে আমার সামাজিক মান-মর্যাদা নষ্ট করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। সে কয়েকবার আমাকে হত্যার প্রস্তুতি নিয়েছিল। আমি মাছুমার পিত্রালয় থেকে কোনো দিনই নগদ টাকা-পয়সা আনিনি। কোনো মহিলার সাথে আমার খারাপ সম্পর্কও নেই। আমি মাছুমার গর্ভপাত করায়নি কারণ দির্ঘ ১৮ বছরে তার গর্ভে কোনো সন্তান আসেনী। সন্তান পাওয়ার জন্য আমি মাছুমাকে প্রায় ১০-১৫ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দেখিয়েছি। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। তবে মাছুমার ভাইয়ের দেয়া স্পন্সর এবং আর্থিক সহযোগীতায় লন্ডনে গিয়ে কিছু থেকেছেন বলে স্বীকার করেন তিনি।

 

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: