সর্বশেষ আপডেট : ৩ মিনিট ৬ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ২০ অক্টোবর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৫ কার্তিক ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সিলেটের তিন শিক্ষার্থীর অ্যাগ্রো-রোবটিক সিস্টেম আবিষ্কার

1. daily sylhet 0-17ক্যাম্পাস সংবাদদাতা:: মানুষের হাতের কোনো স্পর্শ ছাড়াই মাঠ থেকে পাকা ফল সংগ্রহ করা যাচ্ছে। টমেটো, আপেল, স্ট্রবেরিসহ নানা রকম ফল অল্প সময়ের মধ্যে নিয়ে আসছে রোবট বা স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র। এমনকি সঠিক মাত্রায় পেকেছে কি না তাও পরখ করে নিচ্ছে রোবটটি ফল তোলার আগে। রোবটটি মাঠ ও আবহাওয়ার রেকর্ডও তৈরি করছে। কীটপতঙ্গ দমন করতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে উড়ে গিয়ে মাঠে কীটনাশক স্প্রে করছে—না, এটি কোনো অবসর সময়ের কল্পনা নয়, গল্পও নয়। এটি একটি বাস্তব ঘটনা। আর সেই বাস্তব ঘটনার রোবটটি তৈরি করেছেন সিলেটের বেসরকারি লিডিং ইউনিভার্সিটির ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক বিভাগের তিন তরুণ শিক্ষার্থী। তারা হলেন মো. আবু বকর সিদ্দিক, প্রিয়াংকা দাস পিংকি ও মৌ দেব। তাদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন লিডিং ইউনিভার্সিটির শিক্ষক মৃণাল কান্তি ধর। তারা তৈরি করেছেন প্রযুক্তিনির্ভর অ্যাগ্রো-রোবটিক সিস্টেম। যা দিয়ে একই সঙ্গে কৃষিক্ষেত্র শনাক্তকরণ, পর্যবেক্ষণ ও পরিচর্যার কাজ করা যাবে।

‘রোবটটি বাজারজাত হলে কৃষিক্ষেত্র বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে,’ মন্তব্য করে শিক্ষার্থী মো. আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘বাংলাদেশে কৃষিক্ষেত্রের উন্নয়নের কথা আমরা সবাই বলি। কিন্তু আজও এই ক্ষেত্রটি উপেক্ষিত। আর সেই ভাবনা থেকে এই রোবট তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়।’ তারা এর নাম দিয়েছেন অ্যাগ্রো-রোবটিক সিস্টেম। ওয়্যারলেস ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস দিয়ে তৈরি করা হয়েছে এই যন্ত্রমানব বা রোবট।1505703475

এই সিস্টেমের তিনটি উল্লেখযোগ্য অংশ রয়েছে। প্রথমেই আছে একটি ফল সংগ্রহকারী অ্যাগ্রো-রোবট, যা পাকা ফল শনাক্ত ও সংগ্রহ করতে সক্ষম। এর জন্য এর সঙ্গে আছে একটি ক্যামেরা সিস্টেম, যা দূরবর্তী একটি কন্ট্রোল প্যানেলে ভিডিও ফুটেজ পাঠায়। কন্ট্রোল প্যানেলে তাদের তৈরিকৃত সিমুলেটর সফটওয়্যারটি ভিডিও ফুটেজ যাচাই-বাছাই করে। যেহেতু বর্তমানে সিস্টেমটিকে টমেটো ক্ষেতের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে, সফটওয়্যারটি লাল রং নির্ণয় করার মাধ্যমে পাকা ফল শনাক্ত করে। এরপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফলের লোকেশনে ওয়্যারলেস সিস্টেমের মাধ্যমে রোবটের কাছে পাঠিয়ে দেয়। রোবটটি তখন একটি কাটারের মাধ্যমে ফলটিকে গাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করে এবং তার সঙ্গে সংযুক্ত একটি ঝুড়িতে সংগ্রহ করে। এই পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে ৩০ সেকেন্ড সময় লাগে। দ্বিতীয় অংশটি একটি কীটনাশক প্রয়োগকারী কোয়াডকপ্টার। কন্ট্রোল প্যানেলে পৌঁছানো ভিডিওতে যদি দেখা যায়, ফসল কীটপতঙ্গ দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে, তখন অপারেটর কন্ট্রোল প্যানেল থেকে মাঠের উপর একটি কোয়াড কপ্টারের (স্কাইড্রোন) মাধ্যমে কীটনাশক ছিটিয়ে দিতে পারবে। সিস্টেমটির তৃতীয় অংশ হলো একটি স্বয়ংক্রিয় সেচ পাম্প। ফসলের মাঠে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেচের জন্য কন্ট্রোল প্যানেল অনবরত বাতাসের তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ও মাটিতে পানির পরিমাণের তথ্য সংগ্রহ করতে থাকে। তারপর এই তথ্যগুলোকে প্যানেলটি তার নিজস্ব ডাটাবেসের তথ্যের সঙ্গে তুলনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এবং একই সঙ্গে একটি সমীকরণের মাধ্যমে সেচ পাম্পটি কতক্ষণ চালু থাকবে তা নির্ধারণ করে। প্রক্রিয়াটিকে আরও নিখুঁত করার জন্য একটি ডেডিকেটেড ওয়েবসাইট তৈরি করা হয়েছে, যেখানে কৃষিবিষয়ক তথ্য পূর্বেই জমা করে রাখা আছে। কোনো কারণে যদি কন্ট্রোল প্যানেল তার নিজস্ব ডাটাবেসের তথ্যের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিতে না পারে, তবে সেটি সঙ্গে সঙ্গে ওয়েবসাইটের সঙ্গে সংযুক্ত হয় এবং ওয়েবসাইট থেকে প্রাপ্ত তথ্যের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিতে চেষ্টা করে। এই সম্পূর্ণ সিস্টেমটিকে তৈরি করতে তাদের দীর্ঘ পাঁচ মাস সময় লেগেছে এবং এর জন্য ব্যয় হয়েছে ৭ হাজার টাকা, জানালেন আবুবকর সিদ্দিক।

এ বিষয়ে লিডিং ইউনিভার্সিটির ভিসি প্রফেসর ড. কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘লিডিং ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের এমন আবিষ্কার আমাদের গৌরবান্বিত করেছে। তারা যেভাবে গবেষণা করে অ্যাগ্রো রোবটটি আবিষ্কার করেছে এজন্য আমি সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের ধন্যবাদ জানাই।’

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: