সর্বশেষ আপডেট : ৪২ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ১ পৌষ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

নবীগঞ্জে একটি পোষ্টারকে ঘিরে তোলপাড় !

Screenshot_2017-09-16-19-41-03নবীগঞ্জ প্রতিনিধি:: নবীগঞ্জ শহরসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে একটি পোষ্টার সাটানোকে ঘিরে উপজেলার সর্বত্র আলোচনার ঝড় উটেছে। উক্ত পোষ্টারে পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক দলিল লিখক যুবরাজ ঘোপসহ কয়েক জনের ছবি রয়েছে। কি কারনে এই পোষ্টারিং, কেনই বা তা বাজার জাত করা হয়েছে তা নিয়ে রহস্য দানা বেধেঁছিল। শুরু হয়েছিল হৈ চৈ অতঃপর এই প্রতিবেদকের অনুসন্ধানে বেড়িয়ে এসেছে নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য। উক্ত পোষ্টার ছাপিয়েছেন উপজেলার ঘোলডুবা গ্রামের শাহীন আহমদ নামের এক ব্যক্তি। অভিযোগ উঠেছে শাহীন আহমেদকে পৈতৃক সম্পত্তি থেকে বিতারিত করতে নানা নিল নকশা একেছেন একটি ভূমি খেকো চক্র। এমনকি তারা জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ২০০৮ সালে মৃত্যু বরণকারী ব্যক্তির সাক্ষর ২০১৬ সালে নকল করে দিয়েছেন। এ নিয়ে সচেতন মহল প্রশ্ন তুলেছেন মৃত ব্যক্তি কি কবর থেকে উঠে এসে সাক্ষর দিয়েছেন..?

তথ্য সুত্রে জানা যায়, উপজেলার ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের আবদুল সবুর ১৯৬৩ ইং সালে লন্ডনে যান। দীর্ঘ কাল তিনি লন্ডন প্রবাসী ছিলেন। উক্ত লন্ডন প্রবাসী আউশকান্দি বাজারে ৯ শতক ভূমিতে ৩ তলা ভবন ‘সবুর ম্যানশন’ নির্মান করেন। তিনি দুটি বিবাহ করেছিলেন। এক স্ত্রীর ঔরষে জন্ম নেয় শাহীন আহমেদ। অপর স্ত্রীর নাম আছিয়া মোক্তারি। আছিয়ার ঔরষে ৩ পত্র ও ৪ কন্যা সন্তান রয়েছে। তাদের নিয়ে লন্ডনে থাকতেন সবুর। তবে ২য় স্ত্রীর ঔরষে জন্ম নেওয়া একমাত্র সন্তান শাহীনকে লন্ডন নিতে নানা চেষ্টা করতে পথে পথে বাধার সম্মুখিন হয়েছিলেন এবং রোষানলে পড়েছিল প্রবাসী স্ত্রী আছিয়ার। অস্তিম সময়ে আবদুল সবুর তার দীর্ঘদিনের সহধর্মীনি আছিয়াকে তালাক দেন। তখন রিতিমত তুলকালাম কান্ড ঘটেছিল আউশকান্দি এলাকায়। সর্ম্পকচ্ছেদের পেছনে রয়েছিল নানা কাহিনী। স্ত্রী কতৃক মানসিক নির্যাতন, সব সম্পত্তি স্ত্রীর মালিকানায় হস্তগত করা এবং সৎ ছেলে শাহীন আহমেদকে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার ষড়যন্ত্রের কথাও আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে ছিল। সর্ম্পকচ্ছেদের আগে স্ত্রী কর্তৃক নির্যাতন থেকে রক্ষা পেতে তিনি তার মালিকানাধীন আউশকান্দি বাজারে অবস্থিত ‘সবুর ম্যনশন’ মার্কেটটি তার নামে দান পত্র করে দেন। কিন্তু দান পত্রে অনেক শর্ত ছিল। স্ত্রী কোনদিন সবুরকে নির্যাতন করতে না কোন কষ্ট দিবে না বরং আজীবন সেবা করবে মর্মেও শর্তে উল্লেখিত। এরপরও আছিয়া নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকে, আউশকান্দি বাস স্ট্যান্ডের নিকটে ৩৮ শতক জায়গা হাতিয়ে নেওয়ারও নানা পায়তারা করে সফল হয় আছিয়া গংরা। এর পরেও আরো সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়ার জন্য নির্যাতন চালায় আছিয়া। অতঃপর এতো জ¦ালা যন্ত্রনা সহ্য করতে না পেয়ে নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে আছিয়াকে তালাক দেন আবদুল সবুর। আছিয়া কতৃক স্বামী আবদুল সবুরকে নির্যাতনের অন্যতম কারন ছিল সবুরের ২য় স্ত্রীর ঔরষে জন্ম দেওয়া শাহীন আহমেদকে পিতৃ উত্তারাধিকার থেকে বঞ্চিত করা। তবে সবুর তার ছেলে শাহীনকে লন্ডনে নেওয়ার জন্য আবেদন করেছিলেন মৃত্যুর আগে। যা পক্রিয়াধীন আছে। উল্লেখিত কাহিনী নিয়ে ২০০৭ সালের ২৬ ডিসেম্বর সিলেটের একটি দৈনিক পত্রিকা সংবাদ প্রকাশ করে। সংবাদে প্রশ্ন তোলা হয়, তালাক স্ত্রী কিভাবে দানকৃত সম্পত্তি দাবী করে, কারন দান পত্রেতো কিছু শর্ত ছিল। সংবাদিটি নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। তখন সম্পত্তির কিছু ভাগবাটোয়ারা করলেও বঞ্চিত রাখা হয় শাহীনকে। তবে মৃত্যু আগে শাহীনের পিতা আবদুল সবুর শাহীনকে আউশকান্দি বাজারে ১৮ শতক জায়গায় একটি বসত ঘর বানিয়ে রেখে যান। শাহীনের অভিযোগ সম্প্রতি তার সৎ মা তার ১৮ সতকের ঘরের পাশের কিছু যায়গা এক প্রবাসীর কাছে বিক্রি করেন। কিন্তু ওই প্রবাসী তার কেনা যায়গাসহ শাহিনের দখলে তাকা ১৮ সতক জায়গা দখলেরও চেষ্টা করেন। শাহীন জানান, তাকে প্রথমে কিছু টাকা দিয়ে বিতারিত করার চেষ্টা করা হয়েছিল কিন্তু সে রাজি না হওয়ায় ভূমিখেকো চক্র মিলে জায়গা দখলের চেষ্টা করে।
শাহীন আহমদের আরো জানান, সম্প্রতি দলিল লেখক বিএনপি নেতা যুবরাজ ঘোপ ও সার্ভেয়ার আমিনুর রহমান মিলে ২০৭৫/১৫/১৬ নামজারি হাছিল করে সবুর ম্যানশন এর মালিক মিনাজপুরের জাহিাঙ্গরকে বানিয়ে দেন। কিন্তু শাহীন আহমেদ আবদুল সবুরের ২য় স্ত্রীর একমাত্র সন্তান হিসেবে উত্তরাধিকার সূত্রে অন্যান্য সন্তানদের মতো নামজারি বাতিল করে সাবেক খতিয়ানে বহাল রেখে সকল সন্তানদের নামে নামজারির দাবী জানিয়ে আসছেন। শাহীনের দাবীর প্রেক্ষিতে গত ২৫/০৯/২০১৬ ইং তারিখে ভ’মি অফিসের কার্যালয়ে এক শুনানী অনুষ্ঠিত হয়। দরখাস্তকারীর পক্ষে আইনজীবি শিবলী খায়ের এবং ২য় পক্ষের পক্ষে দলিল লেখক বিএনপি নেতা যুবরাজ ঘোপ অংশ নেন। শুনানিতে এডভোকেট শিবলী খায়ের জানান, তিনি মৃত্যুকালে ৪ পুত্র ও ৪ কন্যা রেখে মারা যান। তবে সবুর জীবিত থাকতে স্ত্রী আছিয়াকে তালাক প্রদান করেন । তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী কখনো সাবেক স্বামীর সম্পত্তির মালিক হতে পারেনা। এমনকি নামজারিতে তার পিতা সবুরের নাম দিয়ে জাল সাক্ষরের অভিযোগও তুলেছেন শাহীন।
শাহীন জানান, তার সৎ মা তাকে পিতৃ সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করতে ভূয়া দলিল তৈরী করে সাক্ষর জাল করে নামজারি করা হয়েছে। তথ্য মতে, প্রবাসী সবুর লন্ডনে মারা গেছেন ২০০৮ সালের ১৪ই আগষ্ট। কিন্তু হস্যকর বিষয় হচ্ছে গত ২০১৬ সালের ১৯ জুন তারিখে উপস্থিত হওয়ার জন্য এসিল্যান্ড অফিস থেকে নামজারি সক্রান্ত একটি নোটিশ প্রেরন করা হয় সবুরের নামে। এমনকি ওই তারিখে আবদুল সবুরকে উপস্থিত দেখিয়ে সাক্ষর দেওয়া হয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো মৃত্য ব্যাক্তি কিভাবে সাক্ষর দিলো…? এমন আরো জাল জালিয়াতির নানা অভিযোগ রয়েছে ওই ভুমি খেকো চক্রের বিরুদ্ধে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: