সর্বশেষ আপডেট : ৭ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সাহিত্যচর্চার মুক্ত ক্যানভাস ফেসবুক

মুহাম্মদ লুৎফুর রহমান ::
বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ওয়েবসাইটের নাম ফেসবুক। অন্য কোনো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের প্রতি এখনও চ্যালেঞ্জ ছুঁড়তে পারেনি। ২০০৪ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি হার্বার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মার্ক জাকারবার্গ তার কক্ষনিবাসী ও কম্পিউটার বিজ্ঞান বিষয়ের ছাত্র এডওয়ার্ডো সেভারিন, ডাস্টিন মস্কোভিত্স এবং ক্রিস হিউজেসের যৌথ প্রচেষ্টায় ফেসবুক নির্মাণ করেন। নানা বাধা পেরিয়ে ২০০৬ সালে সাইটটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়ার পর মার্ক জাকারবার্গকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। বিশ্বব্যাপী হুড় হুড় করে নিখরচায় নিবন্ধিত হতে থাকে এর সদস্য প্রার্থীরা। বর্তমানে ফেসবুকের সদস্যসংখ্যা ২০০ কোটি ছাড়িয়ে গেছে।

ফেসবুককে বাংলা ভাষায় ফেসবুক নামে ডাকতে এখন আর স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করা হয় না। প্রেয়সীকে যেমনি দীর্ঘ নামে কাছে ডাকা শোভা পায় না, ভালোবাসার রঙ মিশিয়ে কাটছাট করতে হয়, তেমনি ফেসবুককে ফেবু নামে ডাকা শুরু হয়েছে। ফেবু মানবসভ্যতার জন্য এক বিরাট আশির্বাদ, আবার অভিশাপও বটে। বিয়ে, জন্মদিন, বিয়েবার্ষিকী, ভালোবাসাদিবস, সাফল্য ও পদোন্নতিসহ নানা বিষয়ে একে অন্যে উইশ করতে ফেবু একটি সফল মাধ্যম। ফেবু একদিকে দেশ-দেশান্তর, ধর্ম-বর্ণের বাধা পেরিয়ে বিনিসুতোয় মালা গাঁথার নিখুঁত কারিগর, অন্যদিকে অপ্রেম-পরপ্রেমে সংসার ভাঙার দায় নিয়েও ছুটে চলে নিরন্তর। এই ফেবু’র কারণেই অনেককে প্রেম-প্রতারণার বলিও হতে হয়। কেউ ফেবুতে নির্মল আনন্দ খুঁজে, আনন্দ পায়। আবার ফেবুনেশায় বুঁধ হয়ে ছাত্র, যুবা ও প্রৌঢ় নির্বিশেষে স্বাভাবিক জীবন হারায়, কষ্টেরা বাসা বাঁধে। ফেবু যেমনি নৃশংসতা ছড়ায়, তেমনি প্রতিবাদ প্রতিরোধের দূর্গও গড়ায়। ফেবু’র নেতিবাচক দিকগুলোকে অতিক্রম করতে সচেতনতার সঙ্গে এর ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। সন্তান ও শিক্ষার্থীদের প্রতি পালন করতে প্রকৃত অভিভাবকীয় দায়িত্ব। তবেই ধরা দিবে ফেবু’র প্রকৃত সুফল।

ফেবু’র সুস্থ, সবল ও সফল ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে অন্যতম স্থান করে নিয়েছে সাহিত্য। সাহিত্য চর্চায় ফেবু’র জুড়ি নেই। কাগজ কলমের প্রয়োজন নেই, কম্পিউটার না হলেও চলে। সেলফোনই এখন সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত নোটপ্যাড। যখন যেখানেই থাকুন না কেন মাথায় কোনো আইডিয়া খেললেই সঙ্গে সঙ্গে লিখে ফেলুন। ঘুমুতে যাওয়ার আগেই হোক আর ঘুম থেকে ওঠেই হোক। চা-কফিআড্ডায় অথবা খাবার টেবিলে বাঁ-হাতের কাজই হোক আর ওয়াশরুমে জিপারের হুক স্পর্শ করে করেই হোক। ভাবছেন এ আবার কেমন রীতি-সংস্কৃতি! কেমন সাহিত্যচর্চা? ওয়াশরুমে কেউ কি কবিতা লিখে?
হ্যাঁ লিখে, অবশ্যই লিখেছেন। বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছেন। ১৯২৮ সালে প্রেম, সাম্য ও দ্রোহের কবি আসাম প্রাদেশিক স্টুডেন্টস এসোসিয়েশনের সম্মিলনে যোগ দিতে সিলেটে আসেন। অবস্থান করেন দরগাহমহল্লাস্থ মকবুল হোসেন চৌধুরীর বাসায়। সকালবেলা ডাইনিং টেবিলে নাস্তা সাজানো। কবি ঢুকেছেন ওয়াশরুমে। বের হওয়ার নাম নেই। অপেক্ষার পর অপেক্ষা, নাস্তা ঠাণ্ডা হয়ে যাচ্ছে। সুহৃদ শুভার্থীদের ফিস্ফিসানি, সকলেই ভাবছেন ওয়াশরুমে দীর্ঘসময় কী করছেন কবি? হাস্যেজ্জ্বল চেহারা নিয়ে বের হলেন কবি। হাতে এক টুকরো লম্বা কাগজ, হাসিমুখে বললেন- এই দেখো মকবুল, ‘তোমার জন্য কী চমৎকার কবিতা রচনা করেছি’। অতএব প্রক্কালন রুমেও কাব্যচর্চা চলতে পারে, তবে সতর্কতার সঙ্গে- সেলফোনটি যেন কমোডে চলে না যায়!

ফেসবুক হচ্ছে এ প্রজন্মের সাহিত্যচর্চার অবাধ উন্মুক্ত উর্বর চাষভূমি। যিনি লেখক, তিনিই সম্পাদক। কেউ লেখা আটকে দিবে, দুমড়ে মুচড়ে ছুঁড়ে ফেলে দিবে!- এটা অসম্ভব। প্রচারের আগে কেউ বলতে পারবে না এটা প্রকাশের অযোগ্য, কিছুই হয়নি। লেখক স্বাধীন। শুভাকাক্সিক্ষ এবং সমালোচকদের নগদ ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া, উত্তর-প্রত্যুত্তরে সরগরম মিডিয়া। এমনভাবে লেখার সুযোগ প্রিন্ট মিডিয়ায় যেমনি অবর্তমান, তেমনি প্রতিক্রিয়া জানানোর ক্ষেত্রেও। সঙ্গে-সঙ্গেই লেখক বুঝতে পারছেন তার কলমের ধার কত সুঁচালো বা কতটাই ভোঁতা? তিনি কতটা নন্দিত আর কতটাই বা নিন্দিত? এজন্যেই নবীন লেখকরা প্রবন্ধ-নিবন্ধ, গল্প, কবিতা ও নাটকসহ সাহিত্যের সকল শাখার স্ফুরণ ঘটাচ্ছেন ফেবুতেই। আর ছড়াসাহিত্য তো ফেবুকে সমানে জ্বালাতন করে, ঘুমুতে দেয় না, জাগিয়েই রাখে সারাক্ষণ ।

প্রবীণরাও কম কিসে? সিলেটসহ সারাদেশের প্রৌঢ়-প্রবীণ কবি-গল্পকারদের সরব উপস্থিতিতে ফেবুসাহিত্য ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে ওঠছে। আর এজন্যই নির্দ্বিধায় বলা যায়, মন ও মননের খোরাক, প্রতিবাদের হাতিয়ার ফেসবুকই হচ্ছে সাহিত্যচর্চার অন্যতম মুক্ত ক্যানভাস। ভালোলাগা-ভালোবাসার এ ক্যানভাসে জেগে ওঠুক স্নিগ্ধ শরতের শুভ্র কাশবন। কাশফুলের নরম ছোঁয়ায় স্পন্দিত হোক প্রতিটি মানবহৃদয়। ধ্বনিত হোক- হত্যা নয়, শান্তি চাই…

luthfur Rahmanলেখক : প্রচ্ছদশিল্পী ও কলাম লেখক; স্বত্বাধিকারী, গ্রাফিক্স ইউনিভার্সেল এবং হাকালুকি প্রকাশন।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: