সর্বশেষ আপডেট : ২৯ মিনিট ৩৫ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৮ কার্তিক ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

উদ্ভিদ বিজ্ঞানী দ্বিজেন শর্মার পরলোক গমন : হুইপ মোঃ শাহাব উদ্দিন এমপির শোক প্রকাশ

dsnewspic14sep001নিজস্ব প্রতিবেদক ::

প্রকৃতিবিদ, জীববিজ্ঞানী ও বিজ্ঞান লেখক দ্বিজেন শর্মা পরলোক গমন করেছেন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৩টা ৫০ মিনিটে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিলো ৮৮ বছর। তিনি বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভোগছিলেন। দ্বিজেন শর্মার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাঁর ভাতিজি শিক্ষিকা সঞ্চিতা শর্মা।

সঞ্চিতা শর্মা বলেন, ২৩ আগস্ট বিকেলে তিনি একটু শাসকষ্ট অনুভব করেন। সন্ধায় তাকে বারডেম হাসপ্তালে ভর্তি করা হয়। সেখানে দিন দিন তাঁর স্বাস্থ্যের অবনতি হলে গত ১৩ সেপ্টেম্বর তাকে স্কয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। প্রথমে সিসিইউতে এবং পরে আইসিইউতে রেখে তাঁর চিকিৎসা কার্যক্রম চলে। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। তিনি আমাদের সকলকে ছেড়ে পরপারে চলে গেলেন । শঞ্চিতা শর্মা বলেন, চাচা উনার একটা চিঠিতে লিখে গিয়েছেন যেন তাঁর শেষকৃত্য অনুষ্ঠান নিজ গ্রামে অনুষ্ঠিত হয়। তাই তাঁকে বড়লেখায় নিয়ে আসা হবে। এখানেই তাঁর শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে।

দ্বিজেন শর্মার মৃত্যুতে হুইপ মো. শাহাব উদ্দিন এমপি গভীর শোক প্রকাশ করেছে। এক শোক বার্তায় তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রখ্যাত নির্সগবিদ, ২০১৫ সালে একুশে পদকসহ জাতীয়ভাবে বিভিন্ন পুরস্কার প্রাপ্ত এই কৃতি সন্তানকে হারিয়ে আমরা আজ শোকাহত। তিনি বাংলাদেশের এক অমূল্য সম্পদ। আজ আমরা সেই সম্পদকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ। তিনি বলেন, দ্বিজেন শর্মার শূন্যস্থান পূরণ হবার নয়। হুইপ শাহাব উদ্দিন মরহুমের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের সকলের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

দ্বিজেন শর্মা ১৯২৯ সালের ২৯ মে সিলেট বিভাগের (তৎকালীন) বড়লেখা থানার শিমুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম ভিষক চন্দ্রকাণ্ড শর্মা এবং মাতার নাম মগ্নময়ী দেবী। বাবা ভিষক বা গ্রাম্যভাষায় কবিরাজ ছিলেন, আর মা ছিলেন সমাজসেবী। শৈশবে পাথারিয়া পাহাড়ের জঙ্গলে ঘুরে বেড়িয়েছেন অনেক, আর সেখান থেকেই হয়তো গাছপালার প্রতি তার অসীম ভালোবাসা জন্মে। “কবিরাজ বাড়ি” বলে বাড়ির বাগানেই অজস্র গাছগাছালি ছিল, তাঁর মাঝে ছিল স্বর্ণচাঁপা, কনকচাঁপা, মধুমালতীসহ নানা রঙবেরঙের ফুল। সেসময়ই মনের অজান্তে দ্বিজেন শর্মাও প্রকৃতির প্রেমে পড়ে গিয়েছিলেন।

শৈশবেই গ্রামের পাঠশালায় তাঁর হাতেখড়ি হয়। তারপর করিমগঞ্জ পাবলিক হাইস্কুলে লেখাপড়া করেছেন। যদিও মায়ের ইচ্ছে ছিল তিনি বড় হয়ে ডাক্তার হবেন, কিন্তু প্রকৃতিপ্রেম তাঁকে উদ্ভিদবিদ হতে আকৃষ্ট করে। আর তাই কলকাতা সিটি কলেজে স্নাতক ডিগ্রি লাভের পর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উদ্ভিদবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর (১৯৫৮) ডিগ্রি লাভ করেন।

১৯৫৮ সালে বরিশালের ব্রজমোহন কলেজে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন দ্বিজেন শর্মা। ১৯৬২ সাল পর্যন্ত সেখানেই কর্মরত ছিলেন। তারপর শিক্ষকতা শুরু করেন ঢাকাস্থ নটর ডেম কলেজে। ১৯৭৪ সালে সোভিয়েত প্রকাশনা সংস্থা প্রগতি প্রকাশনের অনুবাদকের চাকরি নিয়ে চলে যান মস্কো। তিনি চল্লিশটিরও বেশি বই অনুবাদ করেছেন। ১৯৯১ সালের এপ্রিল মাসে অনুবাদ বন্ধ করার নির্দেশ পাওয়ার পর রাশিয়ার সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সব সম্পর্ক চুকে গিয়েছিল। কিন্তু ১৭ বছরের প্রবাস জীবনকে মন থেকে মুছে ফেলতে পারেননি তিনি।
বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে পরোক্ষ সংযোগের কারণে কিছুকাল আত্মগোপন, এমনকি কারাবাসেরও অভিজ্ঞতা হয়েছিল তাঁর, যাকে তিনি দুর্লভ সৌভাগ্য মনে করেন। ১৯৭০’র জলোচ্ছ্বাসে দুর্গত মানুষের সেবাকার্যে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধের নয় মাসের অধিকাংশ সময়ই কাটিয়েছেন বাংলাদেশে।

১৯৬০ সালে বরিশালে দেবী চক্রবতীর সাথে বিবাহ হয়। ড: দেবী শর্মা ঢাকার সেন্ট্রাল উইমেনস কলেজের দর্শনের সাবেক অধ্যাপিকা। এক ছেলে ও এক মেয়ে তাদের সংসারে। ছেলে ডা: সুমিত শর্মা রুশ বাংলাদেশে বিয়ে করে সংসার সাজিয়েছেন মস্কোতে আর একমাত্র মেয়ে শ্রেয়সী শর্মা বাস করেন বাংলাদেশে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: