সর্বশেষ আপডেট : ৩ ঘন্টা আগে
শনিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

চুনারুঘাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের দুরদর্শিতায় বাল্যবিবাহের প্রস্তুতি পন্ড

pic_8122017182056চুনারুঘাট প্রতিনিধি:: হবিগঞ্জে চুনারুঘাট পৌর এলাকার বাল্লা রোডের ব্যবসায়ী নুরুল ইসলামের মেয়ে ও বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্রী সোনিয়া খাতুনের (১৪) বিয়ের প্রস্তুতি পর্ব আজ সোমবার দুপুরে ভেঙ্গে দেন ইএনও সিরাজাম মুনিরা। প্রায় বিশ মিনিটে আলাপ-আলোচনায় ছাত্রীর অভিভাবকদের উপযুক্ত বয়স না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে দিবেন না মর্মে অঙ্গীকার পত্রে স্বাক্ষরে করলে পার পেয়ে যান । জানা যায়, আগামীকাল সকালে সোনিয়ার বিবাহ সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিলো।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চুনারুঘাট এস,আই আলমাস,মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শামসুল হক, বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সত্যন্দ্র দেব,স্কাউট লিডার আকরামুল ইসলাম, প্রমুখ।
চুনারুঘাট বালিকা বিদ্যালয়ের সোনিয়া আক্তারের সহপাঠী উপমা, অনিতা, সৃষ্টির কথা বললে তারা জানান, ‘সোনিয়া আমাদের সহকর্মী। আমরা নবম শ্রেনীতে পড়ি। তার বিয়ে কথা স্কুলে হেড স্যারকে জানায়। তখন স্যার এ বিষয়ে অনিহা প্রকাশ করেন। নিরুপায় হয়ে সোনিয়া আমাদেরকে বললো। আর স্কুলে আসবো না। দেখা হবে না। কালকে বিয়ে হয়ে যাবে। পরিবারে চাপে বিয়ের পিড়িতে বসতে হচ্ছে। এ কথা শুনে আমরা হতবাক হয়ে যাই। আমরা উভয়ে আশ্বাস দিয়ে নিজ সহপাঠিকে সাহস দিতে থাকি।’

উপমা, সৃষ্টি, অনিতা আরো জানান, ‘আজ সোমবার সকালে বাসার ঠিকানা জানতে সোনিয়ার মাকে ফোন দিই। কিন্ত তিনি বাসার সঠিক তথ্য না দেওয়ায় আমাদের সন্দেহ লাগলো। ফোনে সোনিয়ার মা একেকবার একেক ঠিকানা দিচ্ছেন এবং মেয়ে অসুস্থ, কখনো কপালে আঘাত পেয়েছে ,হাসপাতালে অমুক-তুমুক জায়গায় আছে বলে বলতে থাকে।সোনিয়ার ভাইও মিথ্যা কথা বলায় স্কুলের ক্লাস বাদ দিয়ে বাল্লা রোডে দু ঘন্টায় খোঁজাখুজির পর অবশেষে সোনিয়ার বাসার সন্ধান পাই।’

উপমা বলেন, খুব দ্রুতই রেজিস্ট্রেশনের খাতায় স্বাক্ষরের কথা বলে সোনিয়াকে স্কুলে না নিয়ে সোজা ইউএনও স্যারের অফিসে চলে যাই। বিষয়টি স্যারকে বলি। স্যার তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা নেন’।

তারা আরো বলেন,’সোনিয়ার বাবা- মা বিয়ে দিয়ে দিতে পাত্র দেখে সব কিছু ঠিকঠাক করেছিলো। পাত্রের বাড়ি বিবাড়িয়া। বিয়ের তারিখ আসন্ন হওয়ায় এর প্রক্রিয়াও চলছিলো। কিন্তু কোনো অবস্থায় রাজি ছিলো না সোনিয়া। প্রায় এক মাস আগে তার বড় বোন তানিয়া আক্তারের উপযুক্ত বয়স না হওয়া সত্বেও বিয়ে দিয়েছে। আর এখন সোনিয়াকে বিয়ে দিতে চেয়েছিলো। কিন্তু তা এবার বন্ধ হয়ে গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউএনও সিরাজাম মুনিরা বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা আমার কাছে এসে বিষয়টি জানায়। আমি তাৎক্ষনিক ঐ ছাত্রীর বাড়িতে চলে যাই। অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলি। বাল্যবিবাহ কুফল সর্ম্পকে অবহিত করি।’
ছাত্রীর অভিভাবকদের উদ্দেশ্য করে ইউএনও বলেন, ‘উপযুক্ত বয়স না হওয়া পর্যন্ত কোনো অবস্থায় বিয়ে দিতে দেওয়া যাবে না। এ জন্য মানসিক ও শারিরিক নির্যাতন করা যাবে না। তার যথোপযোগী দায়িত্বে অবহেলা করা যাবে না। যদি অমান্য করেন তাহলে প্রশাসন আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।’

স্কুল ছাত্রীদের লক্ষ্যে করে তিনি বলেন,”হেই তোমরা আমার ফোন নাম্বারটা নিয়ো। স্কুলে একদিন না গেলে আমাকে ফোনে অবহিত কইরো । এদিক-সেদিক হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবো।”
এ ব্যাপারে ছাত্রীর বাবা নুরুল ইসলাম জানান, উপযুক্ত বয়স হলে বিয়ে দেওয়া হবে। বিষয়টি নিয়ে তিনি অনুতপ্ত ।




এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: