সর্বশেষ আপডেট : ৩৫ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড আগে
বৃহস্পতিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

তৃতীয় দফা বন্যায় গোয়াইনঘাট ও তাহিরপুরে ৮ হাজার হেক্টর রোপা আমন নিমজ্জিত

dsnewspic11sep__007ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::
তৃতীয় দফা বন্যায় সিলেটের গোয়াইনঘাটে এবং সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে আট হাজার হেক্টর জমির রোপা আমান পানিতে তলিয়ে গেছে।
গোয়াইনঘাট : প্রতিনিধি জানান, গোয়াইনঘাটে ফের বন্যা দেখা দিয়েছে। কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে তলিয়ে গেছে এই অঞ্চলের কৃষকের প্রায় তিন হাজার হেক্টর বোনা আমন। বন্যার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে এর পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দ্বিতীয় দফা বন্যার পানি কমতে না কমতেই তৃতীয় দফার বন্যায় ফের প্লাবিত হয়েছে কৃষকের ফসলি জমি। বন্যার পানি কয়েকদিন স্থায়ী হলে বোনা আমন সম্পূর্ণরূপে নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় কৃষকেরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পিয়াইন ও সারী নদী দিয়ে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে শনিবার সন্ধ্যা থেকে উপজেলার নিম্নাঞ্চল গুলোতে পানি বৃদ্ধি পেতে থাকে। গতকাল রবিবার সকাল পর্যন্ত উপজেলার পূর্ব জাফলং, আলীরগাঁও, রুস্তমপুর, ডৌবাড়ী, লেঙ্গুড়া, তোয়াকুল ও নন্দীরগাঁও ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রামের রাস্তাঘাট ও বসতবাড়ি ও ফসলি জমি প্লাবিত হয়।
এদিকে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বিছনাকান্দি ও জাফলং এই দু‘টি পাথর কোয়ারির সকল প্রকার কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এর ফলে পাথর কোয়ারি সংশ্লিষ্ট কয়েক হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন।
গোয়াইনঘাটের কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান জানান, নতুন করে বন্যা দেখা দেয়ায় গোয়াইনঘাটের প্রায় দুই হাজার হেক্টর বোনা আমন পানিতে নিমজ্জিত হওয়ার খাবর পাওয়া গেছে। তবে বন্যার পানি বাড়ার সাথে সাথে এর পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
তাহিরপুর : প্রতিনিধি জানান, তাহিরপুরে পাহাড়ি ঢলের পানিতে রোপা আমন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। শনিবার ভোররাতে যাদুকাটা নদী পাহাড়ি ঢলের পানি উপচে সীমান্তের বিভিন্ন ছড়া দিয়ে পানি নেমে আসায় উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫টি ইউনিয়নের রোপা আমন ও বীজতলার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
তাহিরপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বাদাঘাট, উত্তর বড়দল, দক্ষিণ বড়দল, উত্তর শ্রীপুর, তাহিরপুর সদর ও বালিজুড়ি ইউনিয়নে ৫ হাজার হেক্টর আমন জমির রোপা আমন ও হালি চারা ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বালিজুড়ি ইউনিয়নের আনোয়ারপুর গ্রামের কৃষক মিলন তালুকদার বলেন, এবার দুদফা পাহাড়ি ঢলে আমন ধানের ব্যপক ক্ষতি হয়েছে।
বালিজুড়ি ইউনিয়ন পরিষদ ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বাবুল মিয়া বলেন, গত আগস্ট মাসের ১১ তারিখে পাহাড়ি ঢলে বালিজুড়ি ইউনিয়নের প্রায় ৫শ একর রোপা আমন ও হালি চারার ব্যাপক ক্ষতি হয়। সেই ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে আবার রোপণ করার পর শনিবার সকালে সকল রোপা আমন ও হালিচারা সব তলিয়ে গেছে। বর্তমানে তার ইউনিয়নের আমন চাষিরা একেবারে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।
উত্তর বড়দল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কাশেম জানান,তার ইউনিয়নের খাসতাল, চরগাঁও, আমবাড়ি, বোরখারা, রামেশ্বরপুর, আলীপুর, পৈলনপুর, বারহাল, রজনীলাইন, রাজাই, শান্তিপুর ও চানপুর গ্রামের প্রায় ১ হাজার একর রোপা আমন ধানের জমি পাহাড়ি ঢলের পানিতে তলিয়ে নদী ও হাওরের পানির সাথে একাকার হয়ে গেছে।
বাদাঘাট ইউনিয়নের নাগরপুর গ্রামের কৃষক সুজাত মিয়া বলেন, পাহাড়ি ঢলের পানিতে সোনাপুর, ভূলাখালি, ননাই, মল্লিকপুর, সোহালা ও নাগরপুরের প্রায় এক হাজার একর রোপা আমন জমি পাহাড়ি ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে।
শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের কলাগাঁও গ্রামের সেলিম ইকবাল জানান, কলাগাঁও কিত্তার প্রায় ৫০ একর রোপা আমনের জমি পাহাড়ি ঢলের পােিত তলিয়ে গেছে।
একই ইউনিয়নের বাগলী গ্রামের খালেক মোশারফ বলেন, পাহাড়ি ঢলের পানির তোরে বাগলী এলাকার প্রায় এক হাজার একর রোপা আমনের জমি গোড়াসহ উপড়ে নিয়ে যায়। যা স্বচক্ষে না দেখলে কেউ বিশ্বাস করবে না।
শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হাজি খসরুল আলম বলেন, ইউনিয়নের কলাগাঁও, বাগলী ও সোনাপুর গ্রামের সকল রোপা আমন ও হালিচারা পাহাড়ি ঢলের পানির তোরে গোড়াসহ উপড়ে গেছে। তিনি আরো বলেন, এবারের বন্যায় বোর আমন দুটাই গেল।
তাহিরপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বোরহান উদ্দিন বলেন, ইউনিয়নের জামালগড় কিত্তার প্রায় ১০ একর রোপা আমন ও হালি চারা পাহাড়ি ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে। এবার আমন ধানের চারা এ নিয়ে দুবার পানিতে তলিয়েছে। ‘কৃষকের উপর এবার মার উপর খাঁড়ার ঘা ঠেকেছে।’
তাহিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুহাম্মদ আব্দুছ ছালাম বলেন, উপজেলার ৫ হাজার একর জমির আমন ধান বন্যায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন বলেন, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার কৃষকবান্ধব সরকার। কৃষকদের উন্নয়নে সবকিছু করে যাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রতি মাসে ৩০ কেজি করে চাল ও ৫শ টাকা গত মে মাস থেকে দেয়া শুরু করেছে। তা আগামী ফসল ওঠার পূর্ব পর্যন্ত দেয়া হবে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: