সর্বশেষ আপডেট : ১৯ মিনিট ৯ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৩ কার্তিক ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

শতভাগ বিদ্যুতের আওতায় সিলেটের দুই উপজেলা : ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

dsnewspic11sep__002স্টাফ রিপোর্টার ::
শতভাগ বিদ্যুতের আওতায় এসেছে সিলেট সদর ও ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা। গতকাল রবিবার সকাল ১১টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই উপজেলা দুটিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন।
ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সিলেটের দুটিসহ ১০টি উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুদায়ন কার্যক্রমের উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বিদ্যুৎ ব্যবহারে জনগণকে সাশ্রয়ী হওয়ার অনুরোধ করবো। শেখ হাসিনা বলেন তাঁর সরকার সারা দেশে বিদ্যুতের অপচয়রোধে প্রিপেইড মিটার অন্তর্ভুক্ত করবে। তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ একটি দেশ ও জনগণের সম্পদ। কাজেই আমি সবাইকে এটি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হবার অনুরোধ জানাব।’
বিদ্যুতের অপচয়রোধে প্রধানমন্ত্রী সবাইকে প্রিপেইড বিদ্যুতের মিটার ব্যবহারের অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘আমি সবাইকে বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার ব্যবহারের অনুরোধ জানিয়ে বলব, এটা হলে সিস্টেম লস হবে না। আপনি যেটুকু বিদ্যুৎ ব্যবহার করবেন শুধু সেটুকুরই বিল আপনাকে পরিশোধ করতে হবে। আর প্রয়োজন শেষে নিজের ঘরের বৈদ্যুতিক বাতি এবং ফ্যানের সুইচটি নিজ হাতে বন্ধ করে দিন। এ ব্যাপারে আমি সকলের সহযোগিতা কামনা করি।’
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী আশুগঞ্জ ৪৫০ মে.ও. নর্থ কম্বাইন্ড সাইকল, সিম্পল সাইকল প্লান্ট (উত্তর) এবং ১০৮ মে.ও. ক্ষমতা সম্পন্ন কেরানীগঞ্জ ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র উদ্বোধন করেন। এছাড়া তিনি অনুষ্ঠানে ভারতের ত্রিপুরা থেকে রেডিয়াল মোডে অতিরিক্ত ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রমও উদ্বোধন করেন।
এ উপলক্ষ্যে সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়। সকাল ১১টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য ও অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত এমপি। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী, অ্যাডভোকেট আমাতুল কিবরিয়া চৌধুরী কেয়া, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক এমপি শফিকুর রহমান চৌধুরীসহ মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ এবং প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এসময় সিলেট জেলা প্রশাসক রাহাত আনোয়ার বলেন, প্রধানমন্ত্রী সিলেটের উন্নয়নে অনেক অবদান রেখেছেন। সিলেটের উন্নয়নে বর্তমান সরকার কাজিরবাজার সেতু, বুরহান উদ্দিন মাজার ও সড়ক সংস্করণ, আবুল মাল আব্দুল মুহিত ক্রীড়া কমপ্লেক্স, সিসিকের বহুতল ভবন, শামসুদ্দীন হাসপাতালকে বিশেষায়িত হাসপাতালে রূপান্তর, সিলেট সুনামগঞ্জে অনেকগুলো সেতু, বাধাঘাটে কারাগার নির্মাণ, মেরিন একাডেমীসহ বিভিন্ন প্রকল্পে সিলেটের উন্নয়নে অবদান রাখছেন। তিনি আরো বলেন, সিলেটের বিভিন্ন উপজেলায় বন্যার্তদের পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তাসহ প্রধানমন্ত্রী নিজে বন্যার্তদের খোঁজখবর নিচ্ছেন।
তাঁর সরকার বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি দিচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ অনেক বেশি, এরজন্য সরকারকে শতকরা ২২ ভাগ ভর্তুকি প্রদান করতে হয়। সরকারকে প্রতি বছর এইজন্য একটি বড়ো অঙ্কের টাকা গচ্চা দিতে হলেও জনগণের জীবনমানের উন্নয়নের জন্যই বিদ্যুতের প্রয়োজন।
প্রধানমন্ত্রী নিজে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের বিষয়ে সচেতন উল্লেখ করে বলেন, ‘নিজের ঘরের বাতিটা, ফ্যানের সুইচটা মনে করে বন্ধ করে দেয়ার মধ্যে কোনো লজ্জা নেই।’ তিনি বলেন, তাঁর নিজেরতো বিদ্যুৎ বিল দিতে হয় না। সরকারই তাঁর বিল পরিশোধ করে। কিন্তু এই সরকার কারা, সরকারই জনগণ। কাজেই জনগণের সম্পদ কোনোভাবেই অপচয় করা ঠিক নয়। কেন আমি জনগণের সম্পদ নষ্ট করবো প্রশ্ন তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি প্রয়োজন শেষে নিজ হাতেই নিজ ঘরের ফ্যান এবং লাইটের সুইচ বন্ধ করেন। অফিস-আদালতে বিদ্যুৎ অপচয়ের সমালোচনা করে তিনি বলেন, দেশে অনেক বড় বড় কর্মকর্তাই রয়েছেন যারা কখনো নিজ হাতে ঘরের ফ্যান ও লাইটের সুইচটি বন্ধ করেন না। তারা ভাবেন এজন্যতো লোক রয়েছে, এতে করেই বিদ্যুতের অপচয় হয়। তাঁর সরকার সারাদেশে বিদ্যুতের অপচয়রোধে প্রিপেইড মিটার চালু করছে যাতে করে বিদ্যুৎ বিল নিয়ে কারসাজী বন্ধ হয়।
এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী সরকারি সম্পদের অপচয়রোধে সবাইকে সচেষ্টা হবার আজবান জানিয়ে বলেন, আগে একটি ধারণাই ছিল ‘সরকার কা মাল দরিয়া মে ঢাল’। এর থেকে সকলকে বেরিয়ে আসতে হবে। সরকারের সম্পদকে নিজের সম্পদ বলে ভাবতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার পর্যায়ক্রমে দেশের সকল উপজেলাতেই শতভাগ বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা করবে। তিনি বলেন, ‘এখন দেশের শতকরা ৮০ শতাংশ মানুষ বিদ্যুতের সুবিধা পাচ্ছে ইনশাল্লাহ দেশের সকল জনগণকে এই বিদ্যুতের সুবিধার আওতায় আনা হবে।’ তিনি বলেন, বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে দেশের উত্তরাঞ্চলের রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়াতে দেশের দক্ষিণাঞ্চলেও এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন,’৯৬ সালে তাঁর সরকার ক্ষমতায় এসেই বিদ্যুৎ খাতকে বেসরকারি খাতে উন্মুক্ত করে দেন ফলস্বরূপ মেঘনাঘাট এবং হরিপুরে দুটি বড় বড় বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং দেশের ভেতরে বেসরকারি খাতেও অন্যান্য বিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ে ওঠে। যদিও কাজটা অত সহজ ছিল না। এজন্য ব্যপক সমালোচনাও সরকারকে সহ্য করতে হয়। এখন বাংলাদেশ, ভুটান এবং নেপালের মধ্যে জলবিদ্যুৎ আমদানি নিয়ে আলোচনা চলছে। এছাড়াও ভারত থেকে পাইপ লাইনে ডিজেল আমদানিরও পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রী জানান।
জনগণের গৃহস্থলী ব্যবহারে এলপি গ্যাসকে সহজলভ্য করায় তাঁর সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এটিকে বেসরকারি খাতে উন্মুক্ত করে দিয়েছি, ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল এবং স্থায়ী এলএনজি ডিপো নির্মাণেরও পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, তার সরকারের আমলে বিদ্যুতের উৎপাদন বেড়ে বর্তমানে ১৫ হাজার ৭৫০ মেগাওয়াট হয়েছে। যা অতীতে ছিল ৩২শ’ মেগাওয়াট । বর্তমানে দেশের শতকরা ৮০ ভাগ মানুষ বিদ্যুতের সুবিধা পাচ্ছেন। যা ২০০৯ সালেও ছিল মাত্র ৪৭ ভাগ।
শেখ হাসিনা বলেন, যেসব এলাকায় বিদ্যুতের গ্রিড পৌঁছেনি এমন এলাকায় তাঁর সরকার ৪৫ লাখ সোলার প্যানেল বসিয়েছে। বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগে মানুষ কেবল খাবার চাইত। এখন খাবারের চাহিদা মেটার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের চাহিদারও পরিবর্তন এসেছে, তারা এখন বিদ্যুৎ চায়।
বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার এবং পরবর্তী তত্ত্বাবধায়ক সরকার দেশের বিদ্যুৎ খাতের সম্প্রসারণে কোন পদক্ষেপই নেয়নি। এই দুটি সরকারের ৭ বছরের মেয়াদে দেশে ১ মেগাওয়াট বিদ্যুতের উৎপাদনও বৃদ্ধি পায়নি।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের মধ্যে দেশের সকল মানুষকে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় নিয়ে আসার অংশ হিসেবে সরকার দেশের আরো ১০টি উপজেলা শতভাগ বিদ্যুতের আওতায় নিয়ে এসেছে। এই ১০টির মধ্যে রয়েছে সিলেটের দু’টি উপজেলা। এগুলো হচ্ছে সিলেট সদর ও ফেঞ্চুগঞ্জ। বাকি উপজেলাগুলো হচ্ছে, বাগেরহাটের মোল্লারহাট ও ফকিরহাট, দিনাজপুরের হাকিমপুর, ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর, কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা, কিশোরগঞ্জের ভৈরব, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড ও নরসিংদী জেলার সদর উপজেলা।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: