সর্বশেষ আপডেট : ১ মিনিট ১০ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৪ আশ্বিন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

পরীক্ষার খাতায় অতি মূল্যায়ন শিক্ষার্থীদের প্রতি সঠিক বিচার নয়

fffffffeeeeeeeffffffffমাছুম বিল্লাহ ::
স্কুল ও কলেজ জীবনে আমরা একটি কথা শুনতাম ’ অমুক স্যার নম্বর দিতে খুব কার্পণ্য করেন, অমুক স্যার দরাজ হাতে নম্বর দেন।’ আসলে তাদের হাতের একটি আন্দাজ ছিল। সেই কৃপন হাতে নম্বর প্রদান করে তাদের হাত দিয়ে যারা বেড়িয়ে আসতেন তারা কেউ প্রথম বিভাগ, কেউ দ্বিতীয় বিভাগ ও কেউ ষ্টার মার্ক পেতেন। ঐভাবে নম্বর প্রদান অনেকটাই যথার্থ ছিল। তাদের হাত দিয়ে কেউ প্রথম বিভাগে পাস করে আসলে কোন প্রশ্ন থাকতো না।

প্রথম বিভাগ পাওয়া অর্থাৎ ৬০% নম্বর পাওয়া শিক্ষার্থীকে সবাই ভিন্নভাবে মূল্যায়ন করতো। কেউ প্রশ্ন করতো না সে কি জানে, দুই লাইন বাংলা কিংবা ইংরেজি লিখতে পারে কিনা। কেউ প্রশ্ন্ করতো না, অংক ঘুরিয়ে দিলে সে উত্তর দিতে পারবে কিনা। যে প্রশ্নটি জিপিএ-৫ পেয়ে আসার পর এখন মানুষের মনে জাগে ।আর ঐ সময়ে যারা স্টার মার্কস পেত অর্থাৎ মোট ৭৫০ নম্বর (৭৫ শতাংশ) তাদেরকে তো আসলেই ষ্টারের মতোই মনে হতো। এখন কি হচেছ? ঐ সময়ে যারা ৪০০ কিংবা ৪৫০ পেত তারাই দেখা যায় ৮০০-৮৫০ নম্বর পেয়ে জিপিএ-৫ পাচেছ। আর তাই এর সঠিক মূল্য বোঝা যাচেছনা।

বর্তমানে উত্তরপত্রে নম্বর প্রদানের হিড়িক দেখা যায়। একজন শিক্ষার্থী যখন ১০০০নম্বরের মধ্যে ৮৫০-৯০০ কিংবা তারও বেশি নম্বর পেয়ে যায় তার অর্থ ১০০এর মধ্যে ৯০ কিংবা তারও বেশি নম্বর পাওয়া। তাহলে তার আর উৎকর্ষ সাধনের সুযোগ রইল কোথায়? সে তো ভেবেই বসে আমিই সেরা। তখন সে অহংকারী ও অলস হয়ে পড়ে, আর পড়তে চায়না, জানতে চায়না। এই ধরনের অতিমূল্যায়ন বন্ধ করা প্রয়োজন জাতীয় স্বার্থে।এই অতিমূল্যায়নই শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক ধরনের গর্ব ও অহংকারের জন্ম দেয়।শিক্ষার্থীদের কোথায় ঘাটতি আছে তা তারা মূল্যায়ণ করতে পারেনা। তারা যা লেখে তাতেই নম্বর।

দেশের কয়েকটি সংবাদপত্রে ছেপে দেয়া দু-একটি উদাহরণ এখানে তুলে ধরছি। এসএসসির ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রে ৪০ নম্বর পাওয়া একজন শিক্ষার্থীর খাতা বিশ্লেষনে দেখা যায় ১১ নম্বর প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার ক্ষেত্রে সে মূলত প্রশ্নপত্রে দেওয়া অনুচেছদটি তুলে দিয়েছে। তারপরও তাকে ৫ এর মধ্যে ৪ দেওয়া হয়েছে অর্থ্যাৎ ৮০ শতাংশ নম্বর। ১৩নম্বর প্রশ্নের উত্তরে স্কুলের প্রধান শিক্ষক বরাবর ক্যান্টিনের জন্য আবেদনপত্রের সম্বোধনের পর সে লিখেছে ’ আওয়ার স্কুল ইজ ওয়ান অফ ম্যাটস স্কুল ইন দিজ এরিয়া। সো মাস্ট দি সেটিং ক্যানটিং। দি স্কুল অন সেটিং এ লং টাইম ইন স্কুল।’ এমন অসংলগ্ন উত্তর দেওয়ার পরও সাড়ে তিন নম্বর দেওয়া হয়েছে। ১৪নম্বর প্রশ্নে ’ দ্যা লাইফ অফ অ্যা স্ট্রিট হকার’ বিষয়ে একটি প্যারাগ্রাফ লিখতে বলা হয়েছে ।
শিক্ষার্থী লিখেছে-
‘A street hawker deals in various by things hawking from street to street. He carries materials on had and sometimes on hand and sometimes in the handcart. He religions has goods at a apehar rate and sell them at a good profile. A street hawker is very cunning. He knows his business ir very well. His customers are children and women. He bring toys, sweel and other thigs and sells them at a fixed price at a good rate. His also bring toys bangles, ribbons, clothings, freviw, fruits fo other a street hawker. A street hawker is very cunning ofter peoplw in our country igron them sell even also hare tham.’

অন্য অনেক জায়গায় গ্রাজুয়েট কিংবা মাস্টার্স ডিগ্রীধারীদের ইংরেজি লেখা দেখলে বুঝা যায় যে, অবস্থা কত ভয়াবহ। তার অনেক কারণের মধ্যে বোর্ড পরীক্ষার খাতায় এই অতিমূল্যায়ন অর্থাৎ অতিবেশি নম্বর প্রদান করা একটি প্রধান কারন।
শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে বলেন, ’ আমাদের পদ্ধতিতে একটা সমস্যা আছে। আগে ৬০ পেলে প্রথম বিভাগ পেত। সেটাই ছিল সর্বোচচ। এখন ৮০ নম্বর পেলে ’ এ প্লাস’। তাই উদারভাবে ৬০ এর বদলে ৮০ নম্বর দেওয়া হচেছ। একটি পদ্ধতি থেকে আরেকটি পদ্ধতিতে যাওয়ার এটি একটি সমস্যা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে ভর্তির পর প্রতিবারেই আমি ১০ জন জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীকে ডেকে নিতাম। তাদের ১০ লাইন বাংলা ও ১০ লাইন ইংরেজি লিখতে দিতাম। দেখা যেত তাদের মধ্যে দুজন ভালো পারে, দুজন মোটামুটি আর বাকি ছয়জন পারেইনা। এই ছয়জন জিপিএ-৫ পেয়েও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার যোগ্যতা নেই বলেই মনে হয়। আসলে যত বেশি পাস করবে তত বেশি মান বাড়বে, এটি সরকারের ভুল চিন্তা। যোগ্যতা না থাকলে নম্বর দেওয়া গর্হিত কাজ। আমার প্রস্তাব হচেছ কোনোভাবেই নম্বর বেশি দেওয়া যাবেনা। শিক্ষার্থীদের মান বাড়াতে দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।”

আমরা শিক্ষার্থীদের যে মূল্যায়নটি সাধারনত করে থাকি সেটি হচেছ ’ সামেটিভ অ্যাসেসমেন্ট’। গাঠনিক মূল্যায়ণ হচেছ একটি চলমান মূল্যায়ন ব্যবস্থা যার মাধ্যমে শিক্ষণ-শিখন কার্যক্রম চলাকালে শিক্ষার্থীদের শিখন অগ্রগতি সম্পর্কে ফিডব্যাক প্রদান করা হয় এবং এই ফিডব্যাকের আলোকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়। এক্ষেত্রে শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে মৌখিক প্রশ্নোত্তর কুইজ, পর্যবেক্ষণ, অ্যাসাইনমেন্ট ও বাড়ির কাজ প্রদান করতে পারেন এবং ফিডব্যাক প্রদান করতে পারেন। এতে শিক্ষার্থী শ্রেণিকক্ষেই তার সমস্যা সমাধানের সুযোগ পায়। তার সাফল্য ও ব্যর্থতা সম্পর্কে জানতে পারে এবং সে আত্মসক্রিয় হয় যা তাদের মধ্যে শিখনের আগ্রহ , মনোযোগ, ও প্রেষণার সৃষ্টি করে এবং পরীক্ষাভীতি দূর করে।

শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৌহার্দ্য বৃদ্ধি পায় ও শিখন পরিবেশ হয় বন্ধুত্বপূর্ন। আর অন্যদিকে একজন শিক্ষকও তাঁর শিক্ষণ কার্যক্রমের সাফল্য ও ব্যর্থতা সম্পর্কে জানতে সক্ষম হন পাঠের কোন অংশে তিনি সফল বা ব্যর্থ হয়েছেন, শিক্ষণ পদ্ধতি বা কৌশল নির্বাচন করা ঠিক হয়েছে কিনা, তিনি সঠিক শিক্ষা উপকরণ নির্বাচন করতে পেরেছেন কিনা ইত্যাদি। ফলে চূড়ান্ত মূল্যায়নের পূর্বেই বিভিন্ন ধরনের দুর্বলতা বা সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারেন।এই মূল্যায়ন ব্যবস্থায় শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সবল ও দুর্বল দিকগুলো চিহ্নিত করে প্রয়েজানীয় ফিডব্যাক প্রদান করতে পারেন বলে শিক্ষণ খুবই কার্যকর হয়। ( শিক্ষালাপ- মূল্যায়ন ব্যবস্থা ও শিক্ষা, মো: রমজান আলী রুবেল)

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সৌমিত্র শেখর বলেছেন, ” বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বিজ্ঞান, ধর্ম ইত্যাদি বিষয়ের সৃজনশীল ধারার সঙ্গে সাহিত্যের সৃজনশীল ধারার যে পার্থক্য আছে, তা কর্তৃপক্ষের বুঝতে হবে। তাদের অনুধাবন করতে হবে, উচচারণ কাছাকাছি হলেও ’ তাল’ আর ’ তালা’ এক নয়।

সাহিত্যের তালকে অন্য বিষয়ের তালা দিয়ে বন্ধ করলে ভুল হবে। চলমান সৃষ্টিছাড়া সৃজনশীলতার ধারা অব্যাহত থাকলে আমরা ভবিষ্যতে যে প্রজন্ম পাব, সে প্রজন্ম না জানবে একটি বাংলা বা ইংরেজি কবিতা সম্পূর্নভাবে মুখস্থ বলতে, না জানবে ঠিক বানানে লেখকের নাম বা রচনার শিরোনাম যে লিখতে হয়, এই মৌলিক বিষয়টি পর্যন্ত। আর আপন মনে মাধুরী মিশিয়ে কল্পনার বর্ণিল গগনে ভাষার রঙিন কাগজে সৃষ্টির ঘুড়ি ওড়ানোর খেলা সে খেলতে পারবে না কখনো যদি তা নাই হলো তাহলে একে কী বলব আমরা? দেড় শ শব্দের ’ রেডিমেড’ সৃজনশীলতা যা কার্যত সৃষ্টিহীন ও দৃষ্টান্তরহিত! সাহিত্যে এই প্রক্রিয়া এক সৃষ্টিছাড়া উদ্ভাবন।”

আমরা গতবছর (২০১৬) পত্রিকায় দেখেছিলাম একটি নজরকাড়া শিরোনাম’ ডাহা ভুলে চোখ বুজে নম্বর। এরপর শিক্ষা প্রশাসনসহ সর্বস্তরে খাতা মূল্যায়ন ও উদারভাবে নম্বর দেওয়ার বিষয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়। শিক্ষা প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উদার হস্তে খাতা মূল্যায়নের দায় পরীক্ষক ও প্রধান পরীক্ষকদের ওপর চাপিয়েছেন। আর এভাবে খাতা মুল্যায়ন করায় শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষাবিদরা। অন্য আর একটি জাতীয় পত্রিকায় ’ পরীক্ষার খাতায় নৈরাজ্য’ শিরোনামে আরেকটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে যার পরিপ্রেক্ষিতে একজন আইনজীবী আদালতে রিট করেন।

ফলে আদালত উপযুক্ত শিক্ষকদের দ্বারা খাতা মূল্যায়ন করানোসহ কয়েকটি নির্দেশনা দেন। এর ফলে ’বাংলাদেশ পরীক্ষা উন্নয়ন ইউনিট’ পরীক্ষক ও প্রধান পরীক্ষকদের প্রশিক্ষণ প্রদানের উদ্যোগ নেয়। ১৪জানুয়ারী ২০১৭ থেকে ৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৭ পর্যন্ত দুই হাজার প্রধান প্রশিক্ষককে মাষ্টার ট্রেইনার তৈরির উদ্যোগ নেয়। এ প্রশিক্ষণের আওতায় কারিগরি বোর্ড বাদে বাকি ৯টি শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রতিটি বিষয়ের ১২ জন করে ট্রেইনার তৈরির উদ্যোগ নেয়। কিন্তু এ পর্যন্ত সঠিকভাবে কতজন খাতা মূল্যায়ন করার প্রশিক্ষন পেয়েছেন সে তথ্য অবশ্য কোথাও এখনও পাওয়া যায়নি।

২০১৫ সালের প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার ফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, পাস করা মোট শিক্ষার্থীর ৯দশমিক ২৩ শতাংশই জিপিএ-৫ পেয়েছে। অষ্টম শ্রেণির স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় এ হার ছিল ৯দশমিক ৩১ শতাংশ। ২০১৬ সালের প্রাথমিক সমাপনী ও অষ্টম শ্রেণির স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় এ হার যথাক্রমে ৯দশমিক ৪৮ শতাংশ ও ১১ দশমিক ৫৩ শতাংশ।পরের বছর এসব শিক্ষার্থীদের কত শতাংশ জিপিএ-৫ পায় দেশব্যাপী এর কোন পরিসংখ্যান নেই। তবে, রাজধানীর নামীদামি থেকে শুরু করে দেশের সাধারন বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষার ফল পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এসব বিদ্যালয়ের সমাপনী ও স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় যে সংখ্যক শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে পরের বছর ষষ্ঠ কিংবা নবম শ্রেণিতে ক্লাস পরীক্ষার ফলে তারা এর ধারে কাছেও নেই।

রাজধানীর ভিকারুন্নেসা স্কুলে ২০১৫ সালের অষ্টম শ্রেণির জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় এক হাজার ৫৯৭ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ পায় এক হাজার ৫৫৯ জন, বাকি ৩৮ জন জিপিএ ৪.৬০ থেকে ৪.৮০ এর মধ্যে ছিল।এর অর্থ হচেছ পরীক্ষায় অংশ নেয়া ৯৮শতাংশ শিক্ষার্থীরাই জিপিএ-৫ পায়। ২০১৬ সালের নবম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষায় মাত্র ৩৮৬জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়। এর অর্থ হচেছ মাত্র ২৪ শতাংশ শিক্ষার্থী তাদের এই সাফল্য ধরে রাখতে পেরেছে। এখানে বিরাট একটি বিষয় খেয়াল করার মতো আর সেটি হচেছ বোর্ড পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীদের খাতা কি পরিমাণ অতিমূল্যায়ন করা হয় তার চিত্র আমরা এখানে দেখতে পাই।

লেখক : শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও গবেষক, ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচিতে কর্মরত সাবেক ক্যাডেট কলেজ শিক্ষক।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: