সর্বশেষ আপডেট : ৪৮ মিনিট ৫৮ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ১১ আশ্বিন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

আমার নাম কোথায়?

afgan-women-20170824152318আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: নিজ পরিচয়ে পরিচিত হওয়ার লড়াইয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা শুরু করেছেন নারীরা। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, জনসম্মুখে তাদের পরিচয় দেয়ার ক্ষেত্রে স্বামী বা বাবার পরিচয়ে পরিচিত করা হচ্ছে তাদের। কঠোর পিতৃতান্ত্রিক আফগান সমাজ ব্যবস্থায় নারীদের নিজ পরিচয়ের এই প্রচারণা দেশটিতে আলোড়ন তুলেছে।

আফগানিস্তানে এটি একেবারেই সাধারণ ব্যাপার যে, নারীদের পরিচিত করে দেয়ার ক্ষেত্রে তাদের নিজ পরিচয় তুলে ধরা হয় না। বলা হয়, ‘কারও স্ত্রী’ অথবা ‘কারও কন্যা’। এমনকি বিয়ের আমন্ত্রণপত্র কিংবা সমাধিস্থলেও তাদের নাম ব্যবহার করা হয় না।

কিন্তু অনলাইনে #আমার নাম কোথায় (#WhereIsMyName) শিরোনামে সম্প্রতি আফগান কিছু তরুণী একটি প্রচারণা শুরু করেছেন। তাদের এই প্রচারণা দেশটির শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহ্যকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। নিজ পরিচয়ের অধিকারের বিষয়ে সচেতনতার পরিসর বাড়াতে চায় তারা।

২৬ বছর বয়সের তরুণী তাহমিনা আরিয়ান বার্তাসংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘আমি এই প্রচারণায় অংশ নিয়েছি, কারণ আমি আসলেই পরিবর্তন দেখতে চাই। এ বিষয়টি নিয়ে হতাশ যে, একুশ শতকে এসেও আমরা মধ্যযুগীয় সমাজে বসবাস করছি।’

afgan-women

গত জুলাইয়ে আফগানিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলের শহর হেরাতে এ আন্দোলন শুরু হয়। এ সময় মুষ্টিমেয় কয়েকজন নারী ফেসবুক ও টুইটারে ছবি এবং মন্তব্য পোস্ট করেন। হ্যাশট্যাগে তারা লেখেন #আমার নাম কোথায়?

Bisk Club

দেশটির অন্যান্য শহরের হাজার হাজার নারীর মাঝে দ্রুতই এই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি পুরুষরাও তাদের স্ত্রীর নাম লেখেন। নারীদের এই প্রচারণায় সমর্থন দেন বিভিন্ন অঙ্গনের তারকারাও, যা শিগগিরই স্থানীয় গণমাধ্যমের নজর কাড়ে। ব্যাপক কাভারেজ পায় গণমাধ্যমে।

গত সপ্তাহে প্রথমবারের মতো নারীদের এ অান্দোলন জনসম্মুখে আসে একটি সমাবেশ আয়োজনের মাধ্যমে। দেশটির রাজধানী কাবুলে ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কয়েক ডজন নারী এই সমাবেশে অংশ নেয়। এতে দেশটির সরকারের একজন মন্ত্রী ও ব্শে কয়েকজন শিক্ষাবিদ বক্তৃতা করেন।

আরিয়ান বলেন, ‘আমরা একত্রিত হয়েছি সমাজের একটি কুসংস্কার ভাঙার জন্য। আমরা নারীদের নিজস্ব নামের মৌলিক অধিকারের কথা জানাতে চাই, তাদের যে নিজের পরিচয় থাকবে; সেটি জানাতে চাই।’

মানুষ নই?

সাবিরা মাদাদি। ২০ বছর বয়সী স্কুলছাত্রী। একদিন ক্লাসে নিজের নামে ডাকার জন্য ক্লাসের শিক্ষককে অনুরোধ জানিয়েছিলেন। কিন্তু তখন তিনি (শিক্ষক) কেবল তার (সাবিরা) পরিবারের নাম ব্যবহার করেছেন; যাতে ‘ছেলেরা তাকে চিনতে না পারে।’

এএফপিকে মাদাদি বলেন, ‘যখন আমাকে কেউ অন্যের নামে ডাকে, তখন আমার খুব খারাপ লাগে। মনে হয়, আমি মানুষ নই। সমাজ আমাকে এমনভাবে দেখে যেন আমি অন্য কারও ওপর ঝুলে আছি।’

afgan-women

অধিকার কর্মীরা বলছেন, ‘এই নাম ইস্যুটি দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে নারীর অবস্থানের প্রমাণ; এ বিষয়টি একটি অঘোষিত সমাজে পুরুষদের সম্পত্তি।’

আরিয়ান বলেন, ‘যদি একজন নারী তার নাম জানেন, তাহলে তার নিজের সম্পর্কে এবং সে যা চায় সে সম্পর্কে একটি ধারণা জন্মায়। কিন্তু যদি সে কেবল নিজের স্বামী অথবা ভাইয়ের চোখে নিজেকে চেনে তাহলে তার জন্য সবকিছুই পরিকল্পনা অনুযায়ী করা হয়।’

সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, ‘এই ঐতিহ্য আফগান আদিবাসী সংস্কৃতির মূল ভিত্তি। তারা বলছেন, এই সংস্কৃতিতে একজন পুরুষ তার সম্মান হারিয়ে ফেলেন যখন তার স্ত্রী নিজ নামে পরিচিত হন।’

এর পেছনে ধর্মকে দোষারোপ করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে কাবুল ইউনিভার্সিটির সমাজ বিজ্ঞানের অধ্যাপক মোহাম্মদ আমির কামাওয়াল বলেন, ‘শত শত বছর ধরে এ ঐতিহ্য চলে আসছে। আমাদের সমাজ অতি সংরক্ষণশীল এবং আফগান পুরুষরা লজ্জিত বোধ করেন, যদি তারা একজন নারীকে তার নিজ নামে ডাকেন।’

afgan

তিনি বলেন, ‘কোরআনের কোথাও নেই যে, একজন নারীকে তার নিজ নামে ডাকা যাবে না। রক্ষণশীল মোল্লারা কোরআনের কিছু আয়াতের ভুল ব্যাখ্যা করছেন।’

নারীদের পশ্চিমাকরণের চেষ্টা

তবে নারীদের এ আন্দোলনের বিরোধিতা করে অনেকেই বলছেন, আফগান নারীদের বিপথগামী করার প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একজন লিখেছেন, আমার নাম কোথায় বলার চেয়ে আমার হিজাব কোথায় বলা উত্তম। অপর একজন লিখেছেন, ভুলপথে পরিচালিত করে নারীদের পশ্চিমা বানোর চেষ্টা চলছে।

আরিয়ান বলেন, অধিকার কর্মীদের অনেকেই বেশ্যা বলে ডাকছে। তবে নারীদের এ অধিকারের কথা তারা ঝুঁকি নিয়েই বলছেন বলে মন্তব্য করেন আরিয়ান।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: