সর্বশেষ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
সোমবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ১০ আশ্বিন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ইঁদুরই এখন আমাদের জাতীয় শত্রু

1503296454রাজিব দেবনাথ:: অনুমান করা হয় যে চতুর্দশ শতকে ইউরোপের এক-চতুর্থাংশ জনসংখ্যা অর্থাত্ প্রায় ২,৫০,০০,০০০ মানুষ প্লেগ রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছিল। অনেক জনপদ ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল ইঁদুরবাহিত এই প্লেগ রোগে। ইউরোপের ঐসব জনপদের মতো বাংলাদেশও ধ্বংস হয়ে যেতে পারে -মুছে যেতে পারে বঙ্গীয় সভ্যতা। তবে এবার কারণ প্লেগ রোগ নয়। বাংলাদেশের সব বাঁধ ইঁদুর ফুটো করে দেওয়াই দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চল আজ বন্যা কবলিত।

কয়েকদিন আগে কুড়িগ্রামের ধরলা নদীর ওপর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছে বিস্তীর্ণ এলাকা। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ এর জন্য দায়ী করেছে উইপোকার ঢিবি আর ইঁদুরকে। আমাদের ভাগ্য ভালো যে ইঁদুর সম্প্রদায় নিউজপেপার পড়ে না বা টিভি দেখে না। তাহলে নিশ্চিত তারা এ নিয়ে শাহবাগে আন্দোলনে নামতো। আন্দোলনে নামারও বা উপায় কই! তাহলে তো আবার চোখ-কান নিয়ে টানাটানি। ইঁদুরদের অবশ্য চোখ না দাঁতই যাবে। কারণ তাদের দাঁতই তো ফুটো করে দিয়েছে কোটি টাকার বাঁধ।

একটি দেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হওয়া অস্বাভাবিক কোনো ঘটনা নয়। তবে তার জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত মোকাবিলার প্রস্তুতি। তার মধ্যে বাংলাদেশ আবার প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত। তাই এখানে প্রয়োজন আরো জোরালো ব্যবস্থা। দোষটা ইঁদুর-মশা বা তেলাপোকার ঘাড়ে না চাপিয়ে প্রয়োজন সরকারি বরাদ্দের সঠিক বণ্টন।বন্ধ করা প্রয়োজন সরকারি অর্থ আত্মসাতের মহোত্সব। বছরের পর বছর নদীগুলোর নাব্যতা থাকে না। নদীগুলোর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে দরকার সঠিক সময়ে ড্রেজিং। সঠিক সময়ে ড্রেজিং থেকেও গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো সঠিকভাবে ড্রেজিং হচ্ছে কিনা তা তদারকি করা। কারণ অনেক সময় ড্রেজিং করে বালু ফেলে রাখা হয় নদীর পাড়েই। আবার ড্রেজিং না করেও খাতা-কলমে দেখানো ড্রেজিং করা হয়েছে এমন অভিযোগও কম নয়। তার উপর রয়েছে প্রভাবশালীদের দখলদারি। তাদের বেপরোয়া দখলে নদীগুলো পরিণত হচ্ছে খালে আর খালগুলো নালাতে।

‘ইঁদুরের গর্ত থাকায় বাঁধের ভাঙন’- লাইনটা শুনতে মুখরোচক হলেও এখানেও রয়েছে ব্যাখ্যার প্রয়োজন। সাধারণত বাঁধের পাদদেশ এবং আশপাশের এলাকা বন্যা মুক্ত হয়ে থাকে। ফলে বাঁধের ঢাল বা উপরে ভূমিহীনরা ঘর-বাড়ি বানিয়ে বসবাস করছে। বসাচ্ছে হাট-বাজার। আবার বাঁধের আশপাশে ধান শুকোতে দেওয়া হয়, ফলে খাবারের আশায় হাজার হাজার ইঁদুর বাসা তৈরি করছে বাঁধের ভেতর যা ক্ষতিগ্রস্ত করছে বাঁধকে। বাঁধে লোকজন বসবাস করছে, মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে, ধান শুকাতে দেওয়াতে ইঁদুর আসছে সবই মেনে নেওয়া গেলো; কিন্তু বাঁধের উপর যেন এগুলো না হয়, বাঁধ যেন দখলমুক্ত থাকে অর্থাত্ বাঁধ সংরক্ষণ বা রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বটা কার!

বিপদে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আগে বিপদ যেন না আসে সেদিকে খেয়াল রাখাটাই বুদ্ধিমানের কাজ। তাই বন্যা হলে ত্রাণ পৌঁছানোর কথা ভাববার আগে বন্যা যেন না হয় সরকারের বোধ হয় সেদিকেই নজর দেওয়া উচিত। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা প্রাপ্ত বরাদ্দ বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে বণ্টনের দিকে মনোযোগ না দিয়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে কিভাবে বাঁধ বানানো হয় সেদিকে নজর দিলে ইঁদুরপ্রুফ বাঁধ বানানো অসম্ভব কিছু না। আর কর্মকর্তারা যদি তা করতেও ব্যর্থ হয় এ জাতির তখন হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার মতো কাউকে খোঁজা ছাড়া উপায় থাকবে না। হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা না হয় ইঁদুরের বাঁধ কাটা বন্ধ করবে; কিন্তু এই সমাজটাকে যেসব ইঁদুর প্রতিনিয়ত কেটে ফেলছে তাদের আটকাবে কে!

লেখক: শিক্ষার্থী, অর্থনীতি বিভাগ, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: