সর্বশেষ আপডেট : ২৫ মিনিট ১২ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ভ্রমণ কাহিনী : ফিরবার সময় শেষবারের মতো দেখি বাদলের জলে নাওয়া হিমছড়িকে

dfgfgশিমুল খালেদ ::

কলাতলি মোড় ছাড়তে না ছাড়তেই মুষলধারে বৃষ্টি। অটোরিকশার ফাঁকফোকর বেয়ে আসা বৃষ্টির ঝাপটা থেকে বাঁচতে আমরা গুটিসুটি মেরে বসি। বামে উঁচু খাড়া পাহাড় আর ডানে সমুদ্রের উত্তাল জলরাশি রেখে মেরিন ড্রাইভ রোড দিয়ে যাচ্ছি হিমছড়িতে। চারজনের সিটে ছয়জনের দল বসি কোনোরকমে, যদিও বৃষ্টি আমাদের ছাড়ে না! বৃষ্টিতে একেবারে সতেজ সবুজ হয়ে যাওয়া ঘাস-তরুলতা, বনানীর টোপর পরা পাহাড়গুলো সুন্দরের প্রতিমূর্তি, যা চোখ জুড়িয়ে দেয়। ওদিকে ঝাউবন পেরিয়ে সমুদ্রতীর রক্ষার জন্য ফেলা বড় বড় বস্তাগুলো দেখে মনে হয় একদল তিমি সৈকতে বিশ্রামের জন্য শুয়ে আছে!

আমার প্রিয় বন্ধু মসকুর হানিমুনের জন্য বেছে নিল বৃষ্টিদিনের কক্সবাজার। আমেরিকা থেকে ছুটিতে আসা মনসুরসহ আমাদের ছয়জনের দল সিলেট থেকে রওনা হওয়ার সময়ই শুনেছিলাম পথে-ঘাটে বৃষ্টিজনিত বিপত্তি হতে পারে। অবশ্য উচ্ছ্বাসের স্রোতে তা পাত্তা দেওয়ার সুযোগ ছিল না। রাত দশটায় সিলেট থেকে বাস ছাড়ল। পরদিন ভোরে পাহাড় চূড়ায় বাস দেখে চোখ কপালে ওঠার জোগাড়! অবাক হয়ে সঙ্গীর কাছে কোথায় আছি জানতে চাইলাম। তবে তার উত্তরে বিস্ময়ের ঘোর বরং আরও গভীর হলো। ‘রাতে তোমরা ঘুমিয়ে পড়ার পর শুনলাম সমুদ্র খুব উত্তাল, এদিকে কক্সবাজারের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, তাই তোর ঘুম না ভাঙিয়ে সিদ্ধান্ত নিলাম নো প্রবলেম বান্দরবান চলে যাই, তাই আর কী…।’ আসলে প্রবল বৃষ্টিতে পাহাড়ি ঢলে সীতাকুণ্ডের কাছে রাস্তায় সমস্যা হওয়ায় মিরসরাই-ফটিকছড়ির বিকল্প এই পাহাড়ি পথ হয়ে আমাদের চট্টগ্রাম পর্যন্ত পৌঁছা, অতঃপর কক্সবাজার।

‘এই পথ যদি না শেষ হয়…!’ তবে কিলোমিটার ছ’সাতেকের পথ শেষ হতে বাধ্য! টমটমের চালক হিমছড়িতে পৌঁছে জানালেন, আমরা পৌঁছে গেছি। ভাড়া মিটিয়ে হিমছড়ির পাহাড়ে ওঠার জন্য টিকিট কাটলাম। পর্যটন করপোরেশনের অধীনে পাহাড়ের গা বেয়ে চূড়ায় উঠে গেছে পাকা সিঁড়ি। সেই সিঁড়ি ধরে উঠতে থাকি। বৃষ্টিভেজা সিঁড়িপথ অনেকটা পিচ্ছিল, তাই পাশের রেলিং ধরতে হলো। হিমছড়ির চূড়ায় যখন দাঁড়ালাম, অনুভবের পৃথিবীতে তখন কেবল সুন্দরের আর পুলকের বসতি। গাছপালা, লতাপাতা, বুনোফুলের গা বেয়ে ঝরে পড়া টপটপ বৃষ্টিফোঁটা, সবুজ পাহাড়, এর চেয়ে সবুজ যেন আর হয় না! সামনে বৃষ্টিতে ঝাপসা উত্তাল ফেনিল সমুদ্র, সে এক ভয়ঙ্কর সুন্দর! ইট বিছানো পথ, তার পরও পিচ্ছিল বলে সাবধানে হাঁটতে হচ্ছিল। পাহাড় চূড়ার মধ্যখানে আছে হিলটপ রিসোর্ট। তার গা ঘেঁষে গুল্ম-লতা, ফুল ও ঔষধি উদ্ভিদের ছোটখাটো বাগান। সাগরের উল্টোদিকে যতদূর চোখ যায় বৃষ্টিধোয়া পাহাড়ের পর পাহাড়। ডানে-বামে একই দৃশ্য, দূর থেকে দূরে ক্রমেই ঝাপসা হয়ে যাওয়া পাহাড়শ্রেণি, তার পাদদেশ দিয়ে ফিতার মতো চলে যাওয়া ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেরিন ড্রাইভ রোড।

হিমছড়ি ঝরনা ও পাহাড় মূলত হিমছড়ি ন্যাশনাল পার্কের অংশবিশেষ, যা গবেষণা, শিক্ষা ও চিত্তবিনোদনের লক্ষ্যে গড়ে ওঠে ১৯৮০ সালে। প্রায় চার হাজার তিনশ’ একর বিস্তৃত হিমছড়ি ন্যাশনাল পার্কের গ্রীষ্মম-লীয় অরণ্য এশীয় হাতিসহ প্রায় ৫৫ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী ছাড়াও প্রায় ২৮৬ প্রজাতির পাখি, ৫৬ প্রজাতির সরীসৃপ, ১৩ প্রজাতির উভচর প্রাণী এবং গাছপালা, গুল্মলতা-অর্কিড, ঔষধি ও বাঁশ-বেত ইত্যাদি শতাধিক প্রজাতির উদ্ভিদের আশ্রয়স্থল। প্রতি বছর প্রায় বিশ লাখ দেশি-বিদেশি ভ্রমণপিপাসু হিমছড়ি ভ্রমণ করেন।

চূড়া থেকে নেমে আমরা পাহাড়কে বাঁয়ে রেখে ঝরনার দিকে হাঁটলাম। ঝরনার কাছাকাছি এসে কাদায় মাখামাখি ট্রেইলে পা রাখা দায়। উপায়ান্তর না দেখে নামতে হলো ঝরনা থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ছড়ায়। ঝরনার হিম ঠাণ্ডা জল চোখ-মুখে লাগতেই শিহরণের জোগাড়। সে এক অপূর্ব অনুভূতি!
এবার ফেরার পালা। ফেরার পথে টমটম থামিয়ে নামলাম ‘বিশ্রামরত তিমি’ গুলোর ওপর। স্পর্শ নিলাম সমুদ্রের নোনাজল। অদূরে সমুদ্রজলে মাছ ধরছিল স্থানীয় কয়েকজন কিশোর। ডাকতেই হাসিমুখে কাছে এলো, ছবির জন্য পোজ দিল। তার পর বাহনে ফিরি, শেষবারের মতো দেখি বাদলের জলে নাওয়া হিমছড়িকে।

প্রয়োজনীয় তথ্য : হিমছড়ির যৌবনদীপ্ত রূপ দেখার সময় বর্ষা। এই সময়ে পর্যটকদের ভিড় থাকে কম। পাবেন কক্সবাজারে হোটেল-মোটেলে নানারকম রেটকাট অফার। হিমছড়িতে বেড়াতে গিয়ে খাওয়া-দাওয়ার জন্য কক্সবাজারই বেছে নেওয়া ভালো। আর হ্যাঁ, অটোরিকশা বা জিপ ভাড়া নেওয়ার সময়ই ভাড়া ঠিক করে নিতে ভুলবেন না।

ছবি : ইন্টারনেট

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: