সর্বশেষ আপডেট : ২০ মিনিট ৫৪ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ২ কার্তিক ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সরকারের স্বীকৃতি পেল এনজিও পদক্ষেপ

shikkakendro-2আল-হেলাল, সুনামগঞ্জ:: “শিক্ষার গুনে শ্রেষ্ট জ্ঞানী হয়ে গেছে অনেকজন/শিক্ষার গুনে ভূমন্ডলে ধণ্য হয় মানব জীবন/মাতৃশিক্ষা না থাকিলে সেই শিক্ষাতে ভূল হইলে/তারে কি আর মানুষ বলে ভেবে দেখরে মন। মাতৃশিক্ষা যাহার আছে সেই মানুষ বনে গেছে/গণ্য সে মানুষের কাছে সে হইলো মানুষ রতন।। শিক্ষার গুনে শ্রেষ্ট জ্ঞানী হয়ে গেছে অনেকজন” শীর্ষক গানটিতে গানের ওস্তাদ বাউল কামাল পাশার কথাগুলোকে সত্য বলে প্রমাণ করেছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা পদক্ষেপ মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্র। শুধু তাই নয়,শিক্ষাসঙ্গীত পরিবেশন,সাধারণ নৃত্য উপস্থাপন,শরীরচর্চা প্রশিক্ষণ, প্রাক প্রাথমিক ও নৈতিক শিক্ষায় উজ্জীবিত করাসহ নিয়মিত ২ ঘন্টা পাঠদানের মাধ্যমে সুনামগঞ্জে সুবিধা বঞ্চিতদের মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিয়ে সরকারের স্বীকৃতি ও প্রশংসা পেয়েছে এই বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাটি। গত ৪ জুলাই ৩৬৭৬নং স্মারকে সরকারের অর্থ মন্ত্রণায়ের অধীনস্থ পল্লীকর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এর উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (প্রশাসন) ড.মোঃ জসীম উদ্দিন সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে প্রেরিত এক পত্রে আনুষ্ঠানিকভাবে এ সফলতার স্বীকৃতি দেন।shikkakendro-3

এতে উল্লেখ করা হয়, দেশের ৮টি বিভাগের ৬২টি জেলার ১৪৫ টি উপজেলার ১৫৩ টি ইউনিয়নে “সমৃদ্ধি” নামে একটি দীর্ঘমেয়াদি কর্মসুচি বাস্তবায়ন করছে পল্লীকর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)। সমৃদ্ধি কর্মসুচি সমন্বিত উন্নয়ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট জনগনের টেকসই দারিদ্র্য বিমোচন এবং আর্থ সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ন ভুমিকা পালন করছে। নতুন উদ্ভাবনে উৎসাহ,উন্নততর প্রযুক্তি ব্যবহারে প্রসার,মানব সক্ষমতা ও মানবাধিকারের বিকাশ এবং সর্বোপরী সংশ্লিস্ট জনগনের মানব-মর্যাদায় প্রতিষ্টিত হওয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সকল ধরনের কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়। পিকেএসএফ,দায়িত্বপ্রাপ্ত সহযোগী সংস্থা,ইউনিয়ন পরিষদ এবং অংশগ্রহনকারী পরিবারগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে যৌথভাবে এ কর্মসুচিটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। সমৃদ্ধি কর্মসুচির শিক্ষা সহায়তা কার্যক্রমের আওতায় ২০১৬ সালে ৫ হাজার টি শিক্ষা সহায়তা কেন্দ্রের মাধ্যমে ১,৩৫,৮০২ জন শিশুকে শিক্ষা সহায়তা প্রদান করা হয়। এক্ষেত্রে আপনাদের সার্বিক সহযোগীতার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। সমৃদ্ধি কর্মসুচিটি সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নে পিকেএসএফ-এর সহযোগী সংস্থা পদক্ষেপ মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্র কর্তৃক বাস্তবায়িত হচ্ছে। দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় ঝরে পড়া রোধ ও বিদ্যালয় সম্পর্কীত ভীতি দূর এবং শিক্ষার্থীদের মানোন্নয়ন করার লক্ষে উক্ত ইউনিয়নে সমৃদ্ধি কর্মসুচির আওতায় শিক্ষা সহায়তা কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে। এ কার্যক্রমের আওতায় ৫৩ জন শিক্ষকের তত্বাবধানে ৫৩টি শিক্ষা কেন্দ্রের মাধ্যমে ১২৭২ জন শিক্ষার্থীকে পাঠদান করানো হচ্ছে। এ কার্যক্রমের আওতায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু,প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় হতে প্রদত্ত বাড়ীর আঙ্গিনায় পাঠ সম্পন্ন করার পাশাপাশি বিভিন্ন সৃজনশীল ও নৈতিক শিক্ষা প্রদান করা হচ্ছে। ২০১৬ সালের বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায় যে,সমৃদ্ধি শিক্ষা সহায়তা কেন্দ্রের আওতাভূক্ত সুনামগঞ্জ সদও উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের সরকারী ও সদ্য জাতীয় করণকৃত প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহে ১ম থেকে ২য় শ্রেণিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের ঝড়ে পড়ার হার প্রায় শূন্যের কোঠায় (০.০৯%) নেমে এসেছে,যা দেশের সার্বিক ঝরে পড়ার হারের তুলনায় অনেক কম। আমরা বিশ^াস করি,আপনাদের এবং আমাদের যৌথ প্রচেষ্টা দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহ থেকে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ এবং শিক্ষার্থীদের মানোন্নয়নে সরকারকে সহযোগীতা করার একটি ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা মাত্র। সমৃদ্ধি কর্মসুচির শিক্ষা সহায়তা কার্যক্রমের এ সফলতা আপনাদের সার্বিক সহযোগীতার মাধ্যমেই অর্জন সম্ভব হয়েছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হিসেবে আপনিও এ সফলতার একজন অংশীদার।shikkakendro-4

উল্লেখ্য, সুনামগঞ্জ জেলা সদরের সুরমা ইউনিয়নের প্রত্যন্ত পল্লীর হতদরিদ্র পরিবারে শিক্ষার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে বৈকালিক শিক্ষাকেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে শিক্ষার প্রসারে এক ইতিবাচক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনে দিয়েছে সংস্থাটি। ব্যতিক্রমী এ শিক্ষাকেন্দ্রে বিকাল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত ইউনিয়নের ২৯টি গ্রামের শিশু থেকে ২য় শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে পাঠদান করা হয়। জানা গেছে বৈকালিক শিক্ষা বিষয়ক কার্যক্রম পরিচালনার মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে ঝরে পড়া রোধসহ যে সকল শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে নিয়মিত অধ্যয়নে যেতে পারেনা তাদেরকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা এবং কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক জীবন গড়া। সাবেক ভারপ্রাপ্ত উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ সোলেমান মিয়া ও সদর উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নিগার সুলতানা কেয়া বলেন,৬ থেকে ১০ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে ভর্তির হার সন্তোষজনক হলেও অতীতে কোন কোন অভিভাবকরা পড়ালেখা না জানার কারনে বিদ্যালয়ের পাঠদান তৈরিতে কোন সহায়তা দিতে পারতেন না। যে কারনে ঝরেপড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা এ ইউনিয়নে বেশি ছিল। পদক্ষেপের প্রশংসনীয় উদ্যোগে প্রতিটি গ্রামে গড়ে তোলা হয়েছে ৩০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে ব্যতিক্রম এক শিক্ষা ব্যবস্থা। যা পশ্চাৎপদ জনপদে শিক্ষা ব্যবস্থার সম্প্রসারনে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায় একজন শিক্ষিকা দিয়ে প্রতিদিন দুই ঘন্টা পাঠদান,শরীরচর্চা,নাচ-গানসহ আবৃত্তি চলে বৈকালিক শিক্ষাকেন্দ্রে। পাশাপাশি অভিভাবকদের নিয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান অগ্রগতি ও অন্যান্য সমস্যা নিয়ে আলোচনা করা হয় প্রতি মাসে। বর্তমানে ১২৭২ জন শিক্ষার্থীকে ৫৩ জন শিক্ষকের মাধ্যমে পাঠদান তৈরিতে সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। তেরাপুর গ্রামের অভিভাবক মোসলেম উদ্দিন ভৈষারপাড় গ্রামের ছালেহা বেগমসহ অনেকেই বলেন আগের তুলনায় তাদের ছেলে মেয়েদের লেখা পড়ায় অগ্রগতি অনেক ভাল।

পদক্ষেপ মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্র প্রধান কার্যালয়ের উপ-ব্যবস্থাপক হাসানুর রহমান পাভেল ও সুনামগঞ্জ জেলার কর্মসূচি সমন্বয়কারী মো.মজিবুল হক জানান, পিকেএসএফ এর অর্থায়নে শিক্ষার মান উন্নয়নে আমরা ২০১১ সালের জানুয়ারী মাসে প্রথম ধাপে ১০টি শিক্ষাকেন্দ্র চালু করি। বর্তমানে ৫৩টি গ্রামে বৈকালিক শিক্ষাকেন্দ্র চালু রয়েছে। হাটি হাটি পা পা করে মাত্র ৭ বছরে আমরা সুরমা ইউনিয়নকে শতভাগ ঝরে পড়ামুক্ত করতে সক্ষম হয়েছি। প্রাক প্রাথমিক শিক্ষায় পদক্ষেপ এর সফলতার এ বাস্তব চিত্র সরজমিনে পরিদর্শন করেছেন সুনামগঞ্জ ৪ নির্বাচনী এলাকার সংসদ সদস্য এডভোকেট পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ সাবেক জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান। এর আগে ২০১৪ সালের ১০ জানুয়ারী দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশ পত্রিকায় “সুনামগঞ্জে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে পদক্ষেপের বৈকালিক শিক্ষাকেন্দ্র”শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনেও অনুরুপ আশাবাদ প্রকাশিত হয়। শুধু প্রাক প্রাথমিক শিক্ষাই নয়,বন্যা ও কালবৈশাখী ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থ সদর উপজেলার উজান শাপেলা ও কুুতুবপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন পূণ: নির্মাণেও লক্ষাধিক টাকা প্রদান করেছে এ সংস্থা। বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষ জাতীয় বে-সরকারী এ উন্নয়ন সংস্থাটি দেশের ৬৪ টি জেলায় ২৪৭ টি ব্রাঞ্চ,৪৮টি এরিয়া ও ১৩টি জোন অফিসের মাধ্যমে ক্ষুদ্রঋণ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য,কৃষি ও সামাজিক উন্নয়ন কর্মসুচির মাধ্যমে দরিদ্র জনগোষ্টির মধ্যে সেবা প্রদান করে আসছে বলেও জানা গেছে।

 

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: