সর্বশেষ আপডেট : ২২ মিনিট ৫৪ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ২ কার্তিক ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

রোগী সুস্থ হয়ে যেনো বলতে পারে ‘থ্যাঙ্ক ইউ ডক্টর’

84844-rkdfkkfdkdkfkdkfdk copyআবীর চক্রবর্তী ::
ভুল চিকিৎসা কিংবা চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগে ডাক্তার পেটানো এখন একটা ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। যদিও পিটুনী খাওয়ার এই তালিকায় সাংবাদিক, শিক্ষক, আইনজীবীসহ বিভিন্ন পেশাজীবীরাও আছেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা সেন্ট্রাল হাসপাতালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের হাতে একজন ডাক্তার পিটুনী খাওয়ার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যাওয়ায় তা আলোচনায় এসেছে। শুধু পিটুনী দেয়া নয়, ওই হাসপাতালে ব্যাপক ভাংচুরও চালিয়েছে কথিত ছাত্ররা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের যে ছাত্রী হাসপাতালটিতে গিয়ে মারা গেছে, সে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলেও তাকে ক্যান্সারের চিকিৎসা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ সহপাঠীদের। আর এজন্যই ডাক্তারকে পিটিয়ে ক্ষোভ মিটিয়েছে তারা। পক্ষান্তরে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, আফিয়া জাহিন চৈতি নামের ওই ছাত্রীর রক্ত পরীক্ষায় লিউকেমিয়া ধরা পড়ে। জ্বর থাকায় রোগী প্রায় অজ্ঞান অবস্থায় ছিল। সেটা ডেঙ্গুও হতে পারে। আইসিইউতে ইনটিউবেশন করার আগেই রোগী মারা যায়। যেহেতু রোগীর পুরোপুরি চিকিৎসাই শুরু করার সুযোগ পাওয়া যায়নি, সেহেতু এক্ষেত্রে ডাক্তারের ভুল চিকিৎসা দেয়ার প্রশ্নটা অবান্তর। বরঞ্চ দেরীতে রোগীকে হাসপাতালে এনেই ভুলটা করা হয়েছে।
চিকিৎসা সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে ডাক্তাররা যা বলবেন, তা যেমন আমাদের মানতে হবে তেমনি প্রত্যেক পেশার মানুষের যার যার দেয়া সিদ্ধান্তও সবার মানা কর্তব্য। সম্ভবত একমাত্র বাংলাদেশেই এই নৈতিকতার চর্চা নেই। এখানে একজনের পেশায় অন্যজন নাক গলায়, সিদ্ধান্তও দিয়ে দেয়। অসুখ হলে ডাক্তারের চেম্বারে গিয়ে ডাক্তারকেই প্রেসক্রিপশন লেখার আগে রোগী বলে ফেলে, আমাকে ওই ওষুধটা লিখে দেন কিংবা আমার ওই রোগের জন্য ওই ওষুধটা দিবেন। হাসপাতালে একজন রোগীর সাথে চলে আসে ১০-১৫ জন আত্মীয়। রোগীকে দেখার ক্ষেত্রে তারা ডাক্তারকে যেচে পরামর্শ দেন, অনেক ক্ষেত্রে দেয় কড়া নির্দেশও। কি করতে হবে-সেটাও বিশেষজ্ঞের মতো বলে দেয় তারা।
ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’ আঘাত হানার পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সব ডাক্তার ও নার্সদের ছুটি বাতিল করা হয়। অথচ তার আগে ঢাকায় ঘটে যাওয়া সেই ঘটনার কষ্ট বুকে নিয়েই তা মেনে নিয়েছেন ডাক্তাররা। যদিও হামলার প্রতিবাদে বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) বিশাল কর্মসূচী দিয়েছে এবং তা পালন করছে। একইসাথে তাঁদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধ রেখে প্রতিবাদের ফলে সাধারণ রোগীরা চিকিৎসা না পেয়ে ফিরে গেছে। সেদিন যেসব ছাত্ররা ডাক্তার পিটিয়েছিল, তাদের পেটানোর কথা বলেছিল কর্মসূচীর কারণে ডাক্তারের সাক্ষাৎ না পাওয়া রোগীরা।
একটা সময় ছিল, যখন এমবিবিএস পাশ করার পর ‘ইন-সার্ভিস ট্রেইনী’ হিসেবে সরকারি চাকরি করা যেত এবং ৫ম গ্রেডের বেতনও মিলতো। এরপর ইন্টার্নশিপ শেষ হলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চাকরি জুটে যেত। কিন্তু বর্তমানে সেই অবস্থা আর নেই। দীর্ঘ ৫ বছর মেডিক্যাল কলেজে বাপের টাকায় এমবিবিএস পড়ার পর ১১ মাস ইন্টার্নশিপ করতে হয়। এই সময়ে তারা ছুটি পায় ১৫ দিন আর প্রতি মাসে বেতন ১৫ হাজার টাকা। পালাক্রমে ২৪ ঘণ্টা হাসপাতালে ডিউটি করতে হয়। বাংলাদেশে প্রতি বছর সরকারি-বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ থেকে ৮-১০ হাজার ডাক্তার বের হচ্ছে। ১১ মাস ইন্টার্নশিপ শেষে নতুন চাকরী না পেলে তারা বেকার। এর সাথে থাকে বিসিএস, পোস্ট গ্রাজুয়েট পরীক্ষা দেয়া কিংবা ডিপ্লোমা ডিগ্রি নেয়ার চিন্তা। দেশ থেকে বিদেশের যোগ্যতাসূচক পরীক্ষায় অংশ নেয়া বা যাওয়ার সুযোগও সবার হয়না। ফলে মাছ ব্যবসায়ী, গাছ ব্যবসায়ীসহ নব্য ধনীদের অর্থায়নে গজিয়ে ওঠা হাসপাতাল-ক্লিনিকে রাত-দিন খাটুনীর চাকরী জোটে কারো। মালিকের কথামতো খেলার পুতুল হয়ে এসব ডাক্তারকে প্রেসক্রিপশনে লিখতে হয় অপ্রয়োজনীয় টেস্ট আর দামী পরীক্ষার কথা। মশার কামড় খেয়ে রাতে ঘুমাতে হয় ওই প্রতিষ্ঠানের রোগীর বেডে। এসব কষ্ট সহ্য করতে না পেরে যারা বিরতি দিয়ে চাকরী করেন, তাদের ভবিষ্যত বলে আর কিছুই থাকে না। আবার আত্মীয়-স্বজনকে বিনামূল্যে চিকিৎসা দিতে গিয়ে তারা শুধু এমবিবিএস ডিগ্রি নিয়েই মাথার সব চুল পাকিয়ে ফেলেন। আর যারা বিসিএস পাশ করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে যান, সেখানে থাকেনা উন্নত বাসস্থান, খাওয়া আর উচ্চ শিক্ষার সুযোগ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমআইএস বিভাগের স্বাস্থ্য বুলেটিনে দেখা যায়, বিএমডিসি থেকে লাইসেন্সধারী ডাক্তারদের ৬০.২৭ শতাংশ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে এবং ৩৯.৭৩ শতাংশ সরকারি প্রতিষ্ঠানে (স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন) কাজ করেন। প্রচণ্ড চাপের মাঝে কাজ করতে গিয়ে রোগীর স্বজন আর গুণ্ডাদের হাতে পিটুনী খাওয়া তাদের নিয়তি হয়ে দাঁড়ায়। পৃথিবীর কোনো দেশে ডাক্তারদের এমন পরিস্থিতিতে কাজ করতে হয় না। স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমও বলেছেন, বাংলাদেশের পেশাজীবীদের মধ্যে কেবল ডাক্তাররাই নির্ধারিত সময়ের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করে থাকেন। এত সীমাবদ্ধতার মধ্যেও তারা ডাক্তার হওয়ায় দায়িত্ব পালন করেন, ভাত খাওয়া অবস্থায় ডাক এলে খাবার ফেলেই ছুটে যান কর্মস্থলে। একবার সেই ডাক্তারের জায়গায় নিজের কিংবা ভাই-বোন, বন্ধু বা আপনজনের কথা ভেবে দেখুন; ডাক্তার পেটাতে কেমন লাগে উপলব্ধি করুন।
প্রতিবছর বিশ্বে ৩০ মার্চ আন্তর্জাতিক ডাক্তার দিবস পালন করা হয়। সম্ভবত বাংলাদেশেই এই দিবসটি পালনে কারো তৎপরতা দেখা যায় না। চিকিৎসায় অবহেলায় অভিযোগে এদেশে অধ্যাপক মতিউর রহমান, একুশে পদকপ্রাপ্ত ডা. এবিএম আবদুল্লাহ’র মতো ডাক্তারকে মামলায় আসামি হতে হয়। ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের এক রায়ে বলা হয়েছিল, রোগীর মৃত্যুর জন্য তার আত্মীয়-স্বজনদের কোনো ডাক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে অভিযোগ দায়েরের পর তদন্তে যদি তিনি দোষী সাব্যস্ত না হন, তাহলে তার ওপর অত্যাচারকারীর শাস্তি হবে। এছাড়া চিকিৎসায় অবহেলায় অভিযোগ তদন্তে পৃথক ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট গঠনের দাবি তুলেছে ভারতের প্রবাসী ডাক্তার কুণাল সাহার সংগঠন, যেখানে শুধু চিকিৎসা সংক্রান্ত যাবতীয় মামলা নিষ্পত্তি হবে। বাংলাদেশে যদি এ ধরণের আইনকানুন থাকতো, তবে ডাক্তাররা কিছুটা স্বস্তি পেতো।
সাম্প্রতিককালে ডাক্তারদের ওপর রোগী বা তার আত্মীয়-স্বজনদের ক্ষোভের কারণে অনেক ক্ষেত্রে জটিল রোগের চিকিৎসা দিতে সমর্থ হলেও তা না করে পিটুনী খাওয়ার ভয়ে নামিদামি হাসপাতালে পাঠিয়ে দিচ্ছেন ডাক্তাররা। এতে রোগীদের যেমন ক্ষতি হচ্ছে, ডাক্তাররাও তার চিকিৎসা বিদ্যা যথাযথভাবে প্রয়োগ করতে ব্যর্থ হচ্ছেন। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের মৃত্যু হবে রাস্তায় অ্যাম্বুলেন্সে শুয়ে। অথচ বাংলাদেশের দক্ষ ডাক্তাররা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে তাঁদের মেধার পরিচয় দিচ্ছেন, আবিষ্কার করছেন জটিল রোগের কারণ ও তার প্রতিকার।
বাংলাদেশে ডাক্তারদের পিটুনী খাওয়ার এ অবস্থা সৃষ্টির জন্য তারা নিজেরাও দায়ী। স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ), ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব), ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম (এনডিএফ), বাংলাদেশ চিকিৎসক সংসদ (বাচিস), ডক্টরস ফর হেলথ এন্ড এনভায়রনমেন্ট (ডিএইচএ) নামের রাজনৈতিক সংগঠনগুলো ডাক্তারদের ঐক্যে ফাটল ধরিয়েছে। এজন্য কোন সমস্যায় তারা যৌথ কর্মসূচী দিতে পারেন না। একপক্ষ অন্যপক্ষকে বেকায়দায় ফেলতে সচেষ্ট থাকেন। আর ডাক্তারদের জাতীয় সংগঠন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) এই ঐক্য স্থাপনে আজ পর্যন্ত কোন পদক্ষেপ নিতে পারেনি। এছাড়া ডাক্তারদের নিজেদের পেশার মানুষগুলোর প্রতিও অনেকের সহমর্মিতা নেই। ডাক্তারের চেম্বারে গিয়ে ডাক্তারকেও দিতে হয় ফি, ডাক্তার পরিচয় দিয়েও অন্য ডাক্তারের কাছে মেলেনা আন্তরিকতা। মেডিকেল কলেজগুলোতে ছাত্ররাই ছাত্রদের মাথা ফাটায়।
বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) নামের প্রতিষ্ঠানটি ডাক্তারদের রেজিস্ট্রেশন দেয়ার পাশাপাশি চিকিৎসায় অবহেলা বা ভুল চিকিৎসার জন্য রেজিস্ট্রেশন বাতিলের ক্ষমতা রাখে। প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাসে এমন শাস্তিদানের নজিরও আছে। তাই ডাক্তারের ভুল চিকিৎসার শিকার রোগী বা তার স্বজনরা বিএমডিসিতে অভিযোগ জানাতে পারেন। কোন রোগী মারা গেলে বা অঙ্গহানি হলে তা যেমন ফিরিয়ে আনা দুঃসাধ্য, তেমনি এই অভিযোগে ডাক্তার পিটিয়ে আর হাসপাতালে তাণ্ডব চালিয়েও ক্ষতিপূরণ সম্ভব হয় না। এই বিষয়টা না বুঝেই নিকটাত্মীয়কে হারানো আত্মীয়-স্বজন আর অভিভাবকরা শোকে-ক্ষোভে পিটুনীযজ্ঞে অংশ নিচ্ছে। বিএমডিসিতে কোন অভিযোগ না করেই বর্তমান জমানায় ৩শ’ টাকায় রোগী দেখা প্রফেসর এবিএম আবদুল্লাহর মতো শিক্ষককে মামলা দিয়ে আদালতে পাঠাচ্ছে। যাঁর লিখিত বই ৪১টি দেশের মেডিকেল কলেজে পাঠ্য, দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানে যাঁর অনেক ছাত্র-ছাত্রী কর্মরত; তাঁর মতো গুণীদের সম্মান জানাতে আমরা ব্যর্থ হচ্ছি বারবার।
ডাক্তাররাই যে শুধু জনগণের করের টাকায় মেডিকেল কলেজে পড়েছে-তা নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়ারাও জনগণের করের টাকায় পড়ালেখা করে বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত আছেন। যাদের আমরা ‘কসাই’ বলে অপবাদ দিচ্ছি, অসুখে পড়ে আবার তাদেরই দ্বারস্থ হচ্ছি। শৈশবে মগজে ঢুকিয়ে দেয়া স্বপ্ন পূরণ করে কিংবা মেধার জোরে যারা ডাক্তার হয়েছে, তাদের এভাবে পিটিয়ে আমরা তো ক্ষতিগ্রস্তই হচ্ছি। জন্ম যখন হয়েছে, মৃত্যুও অবশ্যম্ভাবী-এই সত্যটা জেনে বিচারের ভার স্রষ্ঠার উপরই ছেড়ে দিতে পারি। এ অবস্থায় কতিপয় ডাক্তারের আচরণে যেমন পরিবর্তন আনা জরুরী, তেমনি রোগী বা তার স্বজনদেরও উচিত ডাক্তারকে মানিয়ে নেয়া। দেশে যেসব মেধাবীরা প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ডাক্তারী পেশায় আসছে, তারা কখনো এমন পরিবেশ চায় না। তারা চায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করার সুযোগ, যেখানে রোগীর সাথে থাকবে হৃদ্যতা। তারা এমন পরিবেশ চায়, যেখানে নিজের মেধা খাটিয়ে যথাযথ চিকিৎসা দেয়া যাবে; সুস্থ হয়ে রোগী হাসিমুখে বলবেন, ‘থ্যাঙ্ক ইউ ডক্টর’।
লেখক : সাংবাদিক

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: