সর্বশেষ আপডেট : ১০ মিনিট ৪১ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ২৫ জুলাই, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ১০ শ্রাবণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

জলে গেল মশা মারার ৩৬ কোটি টাকা

1500265174নিউজ ডেস্ক:: বছরের পুরোটা সময়েই মশার উৎপাতে অতিষ্ঠ থাকে নগরবাসী। মশা-বাহিত রোগ চিকুনগুনিয়া ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ায় মশক নিয়ন্ত্রণে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের ব্যর্থতার কথা ক্ষোভের সঙ্গে বলছে রাজধানীর মানুষ। অন্যদিকে মশা-বাহিত রোগে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে নগরবাসী। এমনকি সরকারের একাধিক মন্ত্রীও এসব নিয়ে সংসদে কথা বলেছেন।

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন গত অর্থবছরে প্রায় ৩৬ কোটি টাকা মশক নিধনের জন্য বরাদ্দ রাখলেও তা তেমন কাজে আসেনি। অনেক এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, ফগার মেশিনসহ সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মীদের দেখাও পাওয়া যায় না বছরের পর বছর। চিকুনগুনিয়া ছড়িয়ে পড়ায় নগরবাসীর অভিযোগ, বরাদ্দের এই বিশাল অঙ্কের টাকা জলেই গেছে।

দুই সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা অবশ্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলছেন, ‘মশক নিয়ন্ত্রণে তাদের আন্তরিকতার কোন অভাব নেই। রাজধানীর বাইরের বেশ কিছু এলাকার খাল, ডোবা ও নালায় জমে থাকা ময়লা পানিতে ব্যাপক মশা জন্ম নেয়। সেখান থেকেই মশা রাজধানীতে ছড়িয়ে পড়ছে।’

ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ বিলাল বলেন, মশক নিধনের জন্য এবারের বাজেটে আমাদের অর্থ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেজবাহুল ইসলামও একই কথা বলেন।

ঢাকা উত্তর সিটি মেয়র আনিসুল হক বলেন, যতটুকু দরকার তার? থে?কেও বেশি ওষুধ আমরা দিচ্ছি। পাঁচদিন পর পর মশা নিধনের ওষুধ প্রয়োগের কথা। তবে আমরা তিনদিন পর পর প্রয়োগ করছি। অন্য সময়ের চেয়ে এটা দুই থেকে তিনগুণ বেশি প্রয়োগ চলছে। আমরা তিনটি ক্রাশ প্রোগ্রামের মাধ্যমে এটি করছি। ইতিমধ্যে উত্তর সিটির সমস্ত সড়কের তালিকা করেছি। মশক নিধন কর্মীরা সেই অনুযায়ী কাজ করছে।

তবে দুই সিটির বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বেশিরভাগ এলাকায় মশক নিধন কার্যক্রম তাদের চোখে পড়েনি। মিরপুর সাড়ে ১১ নম্বরের কালশী মোড়ের বাসিন্দা মনির হোসেন বলেন, আমাদের এলাকায় একটি খাল রয়েছে। এ খালে প্রচুর পরিমাণ ময়লা পানি আর আবর্জনা জমে আছে। সেখানে মশার কারখানা। কিন্তু গত ছয়-সাত বছরের মধ্যে এক দিনের জন্যও মশা নিধনের মেশিন নিয়ে কাউকে এলাকায় আসতে দেখিনি। এমনকি খাল পরিষ্কারের জন্যও কেউ আসে না।

পূর্ব মনিপুরের ৯৫৬ নম্বর বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক মনোয়ার আলী বলেন, মশার যন্ত্রণায় দিনেরবেলায়ও নিস্তার নেই। গত আট দিন ধরে চিকুনগুনিয়ায় ভুগছি। মশার অত্যাচার দেখে মনে হয় মশা মারার জন্য কেউ কাজ করে না।

ঢাকা উত্তর সিটির ১২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইকবাল হোসেন তিতু বলেন, মশার ওষুধ ছিটানোর দায়িত্বে যারা আছে তারা ঠিকঠাক মতো কাজ করে না। আমরা কাউন্সিলররা বোর্ড সভায় দাবি জানানোর পর মেয়র এখন আমাদের দায়িত্ব দিয়েছেন। আশা করছি, এবার কিছুটা হলেও মানুষকে স্বস্তি দিতে পারব।

খোঁড়াখুঁড়িতে ভোগান্তি : রাজধানীর রাস্তাঘাটে সংস্কার আর ভাঙাগড়ার খেলায় চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন নগরবাসী। দিন, সপ্তাহ কিংবা মাস নয়, বছরের পর বছর ধরে একই দুর্ভোগে ঢাকাবাসী। ওয়াসার কাজ শেষ হলে শুরু হয় সিটি কর্পোরেশনের ভাঙ্গাগড়া। আবার টিএন্ডটি শেষ করলে শুরু করে বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ। এতে নগরীতে বাড়ে যানজট, ঘটে দুর্ঘটনাও।

রাজধানী ঘুরে দেখা যায়, এসব কাজের জন্য কোথাও ধুলার পরিমাণ বেশি, কোথাও পানি আটকে আছে আবার কোথাও ইট-কাঠের এ শহরে নাগরিকদের ভোগান্তি দিচ্ছে কাঁদা। তবে নাগরিকের এ ভোগান্তি বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে নতুন বাজার, বাড্ডা, রামপুরা, মালিবাগ চৌধুরীপাড়া, মালিবাগ রেলগেইট, মৌচাক, মালিবাগ মোড় থেকে কাকরাইল মোড় এলাকায় বেশি।

স্থপতি ইকবাল হাবিব এ প্রসঙ্গে বলেন, ঢাকা শহরে সাধারণ মানুষের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতে অনেকগুলো সেবা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যারা বিভিন্ন কাজ আলাদা আলাদাভাবে করে। ফলে সমন্বয়হীনতার দেখা দেয়। এসব প্রতিষ্ঠানের কাজের সমন্বয় থাকলে ভোগান্তি অনেক কমবে।

জমে থাকে নোংরা পানি : রাজধানীতে অল্প বৃষ্টিতেই জমে যায় পানি। নোংরা পানিতে চলাচল করতে বাধ্য হয় মানুষ। বৃষ্টিতে যে এলাকাতে যেমন ভোগান্তিই থাকুক না কেন, মালিবাগ, শান্তিনগর ও মালিবাগ রেলগেইট এলাকায় যে ভোগান্তি হয়, তার সঙ্গে অন্য কোনো এলাকার তুলনা চলেনা। পায়ে হেঁটে অথবা গাড়িতে, বৃষ্টি হলে এই সড়ক ধরে চলতে গেলে যন্ত্রণার অন্ত নেই।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: