সর্বশেষ আপডেট : ১ মিনিট ২৫ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ২৬ জুলাই, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ১১ শ্রাবণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

টাঙ্গুয়ার হাওরের আকর্ষণ বাড়াবে টুরিস্ট কটেজ গাইড

1479204242648-600x338ডেইলি সিলেট ডেস্ক:: দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জীববৈচিত্র্যসমৃদ্ধ সুনামগঞ্জের বিশাল টাঙ্গুয়ার হাওর যেন রূপের রাণি। সাগরের ন্যায় হাওরের অদূরে খাসিয়া-জৈন্তা পাহাড় যেন টাঙ্গুয়ার পানিকে আটকে দিয়েছে। সারা বছরই এখানে পর্যটকদের ভিড় লেগে থাকে। আকাশের সব নীল টাঙ্গুয়ার হাওরে যখন গিয়ে মিলিত হয় আর শীতে অতিথি পাখির পাখায় সেই নীল ঢাকা পড়ে তখনকার দৃশ্য যে কাউকে মুগ্ধ করে। আবার শীতে শান্ত হাওরের নিচে নানা প্রজাতির মাছের খেলার দৃশ্য অপূর্ব। এর ভিতরে রয়েছে নানা প্রকার উদ্ভিদ ও জলজ প্রাণী— যদিও সেই দৃশ্যাবলি আগের চেয়ে ক্ষুণ্ন হয়েছে অনেকটাই। তবে এই সুন্দর ও চিত্তাকর্ষক দৃশ্য এখনো বিদ্যমান। আগের অবস্থা ফিরিয়ে আনতে বেশ দেরিতে হলেও সরকারি উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
যোগাযোগ অবকাঠামো ও থাকা-খাওয়ার তেমন সুবিধা না থাকা সত্ত্বেও সারাবছর পর্যটকদের ভিড় লেগেই থাকে। মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে রামসার সাইট অন্তর্ভুক্ত তাহিরপুরের টাঙ্গুয়ার হাওরে পর্যটকদের উপস্থিতি ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে পর্যটন কর্পোরেশন। কর্পোরেশন পাঁচটি কটেজ নির্মাণ করবে। হাওর দেখতে আসা পর্যটকদের সুবিধার জন্য ১২ জন ট্যুরিস্ট গাইড নিয়োগ করা হবে। একই সাথে ১শ লোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে।
গত ১২ জুলাই টাঙ্গুয়ার হাওরের জীববৈচিত্র্যের বর্তমান অবস্থা যাচাই ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক আলোচনা সভায় এসব বিষয় তুলে ধরেন পর্যটন কর্পোরেশনের যুগ্ম সচিব মিজানুর রহমান। তাহিরপুর উপজেলা পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের যুগ্ম সচিব মিজানুর রহমান বলেন, টাঙ্গুয়ার হাওরে জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা আমাদের উদ্দেশ্য। তাই সরকার টাঙ্গুয়ার হাওরকে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে তুলে ধরার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন এবং আইইউসিএন বাংলাদেশ কান্ট্রি অফিস এর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় টাঙ্গুয়ার হাওরবিষয়ক মূল নিবন্ধ উপস্থাপন করেন, ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব ন্যাচার (আইইউসিএন) বাংলাদেশ কান্ট্রি অফিসের সহকারী প্রকল্প কর্মকর্তা সেলিনা সুলতানা।

দেশের দ্বিতীয় রামসার সাইট টাঙ্গুয়ার হাওর ২০০৩ সালে জেলা প্রশাসন দেখভালের দায়িত্ব নেয়। ২০০৬ সালের ডিসেম্বরে এর দেখভালের দায়িত্ব পায় আইইউসিএন। ২০১৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত আইইউসিএন টাঙ্গুয়ার হাওর দেখভালের দায়িত্বে ছিল। এরপর আবার ১৬ মাসের জন্য অর্থাত্ ২০১৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দেখভালের দায়িত্বে পায় আইইউসিএন। তবে অভিযোগ রয়েছে আইইউসিএন হাওরের উন্নয়ন জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ব্যর্থ।

সুনামগঞ্জ জেলা সদর থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে তাহিরপুর ও ধর্মপাশা উপজেলায় টাঙ্গুয়ার হাওরের অবস্থান। ছয়কুড়ি বিল, নয়কুড়ি কান্দার সমন্বয়ে এ হাওরের দৈর্ঘ ১১ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ৭ কিলোমিটার। শীত, গ্রীষ্ম ও বর্ষা একেক ঋতুতে একেক রূপ ধারণ করে টাঙ্গুয়া। বর্ষায় অন্যান্য হাওরের সঙ্গে মিশে এটি সাগরের রূপ ধারণ করে। শুকনো মৌসুমে ৫০-৬০ টি আলাদা বা সংযুক্ত বিলে পরিণত হয় পুরো হাওর। ১১টি বাগসহ ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অসংখ্য হিজল, করচ গাছ, নলখাগড়া, দুধিলতা, নীল শাপলা, পানিফল, শোলা, হেলেঞ্চা, বনতুলসিসহ শতাধিক জাতের উদ্ভিদ হাওরকে দৃষ্টিনন্দন করে। অক্টোবর থেকে হাওরে শুরু হয় পরিযায়ী পাখির সমাবেশ। স্থানীয় জাতের পানকৌড়ি, কালেম, দেশি মেটে হাঁস, বালিহাঁস, বক ও শীত মৌসুমে আসা লক্ষ পরিযায়ী পাখি এখানে যাত্রাবিরতি করে। আবার কোনো কোনো পরিযায়ী পাখি পুরো শীতকাল এখানেই কাটায়।

মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত টাঙ্গুয়ার হাওরের উত্তর বংশিকুয়ায় রয়েছে কয়েকটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী পল্লী। গারো-হাজং বাসীর জীবন পর্যবেক্ষণের সুযোগ রয়েছে পর্যটকদের। মূলত শীতকালই এই হাওরে বেড়ানোর উপযুক্ত সময়। যোগাযোগ ব্যবস্থা আগের চেয়ে একটু ভালো হওয়ায় যেকোন সময় পর্যটকদের ভিড় হয়। বিশেষ করে সুনামগঞ্জে সুরমা নদীতে সেতুসহ সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা একটু ভালো হওয়ায় খুব অল্প সময়ে তাহিরপুর পৌঁছানো যায়। এবারের ছুটিতে সাগররূপ জলরাশি, আকাশে মেঘের খেলা, মুষলধারে বৃষ্টি, হাওরবাসীর সংগ্রামী জীবন, সবুজে ঢাকা মেঘালয় আর পানির উপর মাথা উঁচু করে থাকা নলখাগড়া-গাছগাছালি বনবাদার দেখতে পর্যটকদের ভিড় হয় সবসময়। তবে হাওর এলাকায় আবাসন সুবিধা নেই, তাই যারা রাত্রি যাপন করেন তারা ঝুঁকি নিয়ে ট্রলারেই রাত কাটান।

১৯৯৯ সালে টাঙ্গুয়ার হাওরের প্রতিবেশ ও এর প্রাকৃতিক সমপদ সংরক্ষণের গুরুত্ব বিবেচনা করে সরকার টাঙ্গুয়ার হাওরের ৯ হাজার ৭২৭ হেক্টর এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করে। ২০০০ সালে যখন হাওরটি দেশের দ্বিতীয় রামসার সাইট হিসেবে মর্যাদা পায় তখন হাওরের প্রাকৃতিক সমপদ রক্ষা করতে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় সমাজভিত্তিক ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেয়।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: