সর্বশেষ আপডেট : ২২ মিনিট ৫০ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ২১ অগাস্ট, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৬ ভাদ্র ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

যে কারণে শেখ হাসিনার অধীনে ভোটে যেতে চাচ্ছে না বিএনপি

1500147024নিউজ ডেস্ক:: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে বিএনপি নির্বাচনে যাবে না বলে অটল অবস্থানের কথা জানাচ্ছেন দলটির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। গত বৃহস্পতিবার দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের ফর্মুলার বিষয়টি অনেকটা স্পষ্ট করে তিনি বলেন, শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী রেখে কোনো সহায়ক সরকার হবে না। কারণ লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের প্রধান অন্তরায় হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে শেখ হাসিনা থাকলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। আর সে রকম নির্বাচনে যাবে না বিএনপি। কেবল স্থায়ী কমিটির বৈঠকেই নয়, গত কয়েক মাসে দলের প্রায় প্রতিটি সভা-সমাবেশে নিজের এই অনড় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে বক্তব্য দিচ্ছেন খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচন হতে হবে সহায়ক সরকারের অধীনে। হাসিনার অধীনে এ দেশে কোনো নির্বাচন হবে না, হতে দেওয়া হবে না। হাসিনাকে বাদ দিতেই হবে, ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়াতেই হবে। সেই নির্বাচনে প্রত্যেক ভোটার ভোট দিতে যাবে। সকলে এটা চায়, সারা পৃথিবীর মানুষ এটা চায়।

শেখ হাসিনার অধীনে কেন বিএনপি নির্বাচনে যাবে না-এই প্রশ্নের জবাবে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়া সাংবাদিকদের বলেন, হাসিনাকে ক্ষমতায় রেখে নির্বাচন করলে কোনো দিনই সেই নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না, নিরপেক্ষ হবে না। ভোটাররা ভোট দিতে যেতে পারবে না ভোটকেন্দ্রে। আওয়ামী লীগের লাঠিয়াল বাহিনীর অত্যাচারের নমুনা আমরা অতীতে দেখেছি। এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনই সুষ্ঠু হয়নি। আর হবেও না। হাসিনার অধীনে নির্বাচন আমরা কয়েকবার দেখেছি। ২০১৪ সাল একটা প্রমাণ। সারা পৃথিবী বলেছে ২০১৪ সালে বাংলাদেশে কোনো নির্বাচন হয়নি। এ নির্বাচন আর বাংলাদেশে হবে না। এ দেশে নির্বাচন হবেই হবে। সে নির্বাচন হবে সহায়ক সরকারের অধীনে। যে নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দল অংশ নেবে।

খালেদা জিয়া বলেন, তারপরও কীভাবে আপনারা আশা করতে পারেন, আওয়ামী লীগ ও হাসিনার অধীনে ভালো নির্বাচন হতে পারে? সেটা সম্ভব নয়। সেজন্য নির্বাচনের সময় একটা সহায়ক সরকার হতে হবে। তার অধীনে নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ থাকতে পারবে। এছাড়া সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, শেখ হাসিনার অধীনে দেশে কোনো নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না। শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচনে জনগণ যাবে না। তিনি বলেন, আমরা নির্বাচনে অংশ নিতে চাই। কারণ আমরা বিশ্বাস করি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমেই জনগণের প্রতিনিধিত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা হতে পারে। তবে সে নির্বাচন হতে হবে নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের অধীনে। এই নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে হবে। এজন্য বিরোধী দল নির্মূল করার যে প্রক্রিয়া চলছে তা বন্ধ করতে হবে। মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। সভা, মিছিল, সমাবেশ করার সমান সুযোগ দিতে হবে। এক কথায় একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক পরিবেশ, রাজনীতিকে তার স্বাভাবিক চলার পথে চলতে দিতে হবে।

স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচনে বিএনপির বিন্দুমাত্র আস্থা নেই। বিএনপি একটি নির্বাচনমুখী দল। বিএনপি অবশ্যই আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে, তবে সে নির্বাচন হতে হবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে। তিনি বলেন, সংবিধান জনগণের জন্য। কাজেই জনগণের প্রয়োজনে সংবিধান পুনরায় সংশোধন করা যেতে পারে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বিভিন্ন সভা সেমিনারে বলছেন, প্রয়োজনে কেয়ামত পর্যন্ত অপেক্ষা করা হবে, তবুও শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে যাবে না বিএনপি। কোনো ভাগ-বাটোয়ারার নির্বাচনে গিয়ে নিজের পায়ে কুড়াল মারবে না বিএনপি। বিএনপি আমরা যে কোনো মুহূর্তে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত আছি। তবে ৫ জানুয়ারির মত আরেকটি ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখার নির্বাচনে যাব না। শেখ হাসিনার অধীনেই যদি বিএনপি নির্বাচনে যেত, তাহলে সেটা ২০১৪ সালেই যাওয়া যেত। পাঁচ বছর পরে কেন যাবে? একমাত্র সহায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে বিএনপি। আর সহায়ক সরকার ছাড়া এদেশে নির্বাচন হতে দেবে না জনগণ।

গতকাল শনিবার বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ রাজধানীর নয়াপল্টনের ভাসানী ভবন মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী মহিলা দল- আয়োজিত কর্মী সম্মেলনে বলেছেন, বিএনপি শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে অংশ নেবে না। কারণ নির্বাচনের এখনো দেড় বছর বাকি থাকলেও আগামী নির্বাচন কেমন হবে তার আলামত আমরা দেখছি। পৌরসভা, উপজেলা এবং ইউপি নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি হয়েছে। তেমনিভাবে জাতীয় নির্বাচনে ডিজিটাল পদ্ধতিতে কারচুপির সব রকমের ব্যবস্থা তারা করছে। তাই দলের সব নেতাকর্মীকে প্রস্তুতি নিতে হবে নির্বাচনের মাঠে যদি কোনো কারচুপি হয় সেখান থেকে সরকার পতনের আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।

হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, আওয়ামী লীগ প্রাণপণে চেষ্টা করছে বিএনপি যাতে নির্বাচনে না আসে। সরকার একটি আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশন গঠন করেছে। যার মাধ্যমে তারা নির্বাচন পরিচালনা করবে। এই সরকারের অধীনে কোনো দিনও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। আওয়ামী লীগের আমলে এর আগে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ ইত্তেফাককে বলেন, শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচনে যাবে না বিএনপি। কারণ তার অধীনে কোনো নির্বাচন নিরপেক্ষ হয়নি। ভোটাররা ভোট দিতে পারেনি। রকিব মার্কা নির্বাচন কমিশন গঠন করে ৫ জানুয়ারির মতো প্রশাসনিক সহায়তায় সন্ত্রাসীদের দ্বারা ভোটের বাক্সে সিল মেরে ভরে ফেলার মহড়ার নির্বাচনে বিএনপি যাওয়ার প্রশ্ন আসে না। তিনি বলেন, আগামীতে অবাধ, সুষ্ঠু এবং সবার কাছে গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচনই হবে। আর তা সহায়ক সরকারের অধীনেই হবে।

এদিকে বিএনপির নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা বলছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মামলা নিয়ে তারা শঙ্কিত। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুটি দুর্নীতির মামলা চলমান রয়েছে। এ মামলাগুলোয় খালেদা জিয়ার সাজা হলে তার নির্বাচনে অংশগ্রহণ আইনি বাধার মুখে পড়বে। এছাড়া যদি খালেদা জিয়া গ্রেফতার হয়ে যান এবং নির্বাচনে অংশ নিতে না পারেন, তখন দলের নীতিনির্ধারণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া নিয়ে কী পরিস্থিতি হবে, তাও ভাবাচ্ছে নেতাদের।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: