সর্বশেষ আপডেট : ২০ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ২০ অক্টোবর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৫ কার্তিক ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ২০০ কি.মি. সড়ক , ৫০ কোটি টাকার ক্ষতি

1. daily sylhet &জালাল আহমদ:: মৌলভীবাজারে সাম্প্রতিক দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল (এলজিইডি) অধিদপ্তরের প্রায় ২০০ কিলোমিটার সড়ক পানিতে তলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে সরকারের ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৫০ কোটি টাকা। কিছু কিছু উঁচু সড়কের বিভিন্ন স্থান থেকে সামান্য পানি নেমে গেলেও গ্রামীণ এলাকার বেশিরভাগ সড়ক এখনও পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। এছাড়া অতি বর্ষণে সওজ’র প্রায় ৯১ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায় মাসখানেক ধরে মৌলভীবাজার জেলার হাকালুকি, কাউয়াদীঘি, হাইল হাওর এবং কুশিয়ারা নদী সংলগ্ন এলাকায় এই বন্যা দেখা দিয়েছে। এ কারণে জেলার বড়লেখা, জুড়ী, কুলাউড়া, রাজনগর ও মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বিভিন্ন সড়ক পানিতে তলিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মৌলভীবাজার-কুলাউড়া-বড়লেখা সড়কের অন্তত ১০টি স্থান পানিতে তলিয়ে যায়। এসব স্থানের কোথাও হাঁটুপানি আবার কোথাও কোমরপানি হয়। এই পানির মধ্যেই ট্রাক, বাসসহ বিভিন্ন যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে বাড়তি ভাড়া আদায়ের মাধ্যমে চলাচল করছে। প্রায় মাসখানেক ধরে পানিতে তলিয়ে থাকায় সড়কের মাটি নরম হয়ে গেছে। ভারী যানবাহনের চাপ নিতে পারছে না। পানিতে ডুবে থাকা সড়কে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। এমনকি বড়লেখা-কুলাউড়া প্রধান সড়কের হাতলিঘাট নামক স্থানে নৌকায় দীর্ঘদিন যাতে বেশি বেশি যাত্রী আনা-নেওয়া করা যায়, সেজন্য কয়েক দুষ্কৃতিকারী পিচ ও মাটি খুঁড়ে গর্ত তৈরি করে ফেলে।
এদিকে জেলার কুলাউড়া উপজেলার ভুকশিমইল ইউনিয়নের পুষাইনগর-নবাবগঞ্জ সড়কের অন্তত ৮টি স্থানে পানি ছিলো। মীরশংকরসহ আরও বেশ কয়েকটি এলাকার পানি কিছুটা কমায় সড়ক ভেসে উঠেছে। তবে এখনও সড়কের পাশ দিয়ে ঢেউ খেলে বয়ে যাচ্ছে সড়ক ছুঁই ছুঁই পানি। সড়কের বেশ কয়েকটি স্থানে দেখা গেছে, দু’পাশের পিচসহ মাটি ধ্বসে পড়ছে। কোথাও কোথাও লোকজন বাঁশ ও কচুরিপানা দিয়ে ধ্বস আটকানোর চেষ্টা করছেন। এছাড়া ইউনিয়নের কুলাউড়া-ভুকশিমইল সড়কের বিভিন্ন স্থান এখনও পানির নিচে। পানিতে তলিয়ে থাকা এসব স্থানের পিচ ও খোয়া উঠে গেছে। অনেকেই ঝুঁকি নিয়ে এসব রাস্তায় চলাচল করছেন।
সরেজমিনে রাজনগরের কাউয়াদীঘি হাওরপারের রাজনগর-বালাগঞ্জ সড়কের অন্তত ৫টি জায়গায় পানি থইথই করতে দেখা গেছে। প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে এই অবস্থা। এসবের মধ্যেই ঝুঁকি নিয়ে চলছে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ট্রাকসহ কিছু যানবাহন। উপজেলার উত্তরভাগ ইউপি’র গালিমপুর গ্রামের জাফর খান জানালেন, আমাদের এলাকার মানুষ রাজনগর-বালাগঞ্জ সড়ক দিয়ে উপজেলা ও জেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেন। রাস্তায় পানি থাকায় বাধ্য না হলে কেউ আর এ পথে যেতে চান না। গতকাল আমি প্রায় দুই ঘণ্টা সময় ব্যয় করে জেলা সদরে গিয়েছি। রাস্তায় পানি থাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশায় যাত্রীও কম হয়। গাড়িও চলে ধীরে।
আসুক আহমদ নামের এক যাত্রী জানান, তিনি বড়লেখা থেকে মৌলভীবাজারে যেতে সময় লেগেছে প্রায় ৪ ঘণ্টা। চালকরাও ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় করছে। বেশিরভাগ রাস্তাই ভাঙা ও সড়কে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বড়লেখা পৌর শহরের মধ্যবাজার, বড়লেখা-বিয়ানীবাজার সড়কের উত্তর চৌমুহনী বাজার ও চান্দগ্রাম সড়কের বারইগ্রাম নামক স্থানে বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়েছে বন্যার পানিতে। এছাড়া বড়লেখা-কুলাউড়া সড়কের একাধিক স্থানে সড়ক পানিতে তলিয়ে গিয়ে রাস্তার পিচ উঠে গর্ত তৈরি হয়েছে। ঝুঁকি নিয়েই এসব সড়কে চলাচল করছে ছোট-বড় যানবাহন। বড়লেখায় প্রায় ৫০ কি.মি. পাকা সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৫টি আংশিক ও ১টি ব্রিজ পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় ১০ কোটি টাকার ক্ষতি সাধিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা প্রকৌশলী বিদ্যুত ভূষণ পাল।
বড়লেখার তালিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান বিদ্যুত কান্তি দাস জানান, এ ইউনিয়নে অন্তত ৭ কিলোমিটার পাকা রাস্তা পানির তলে। কানুনগো বাজার-খুটাউরা সড়কের সংস্কার কাজ শুরু হয়েছিলো। এর মধ্যেই পানি এসে পড়ে। এখন চাকা চাকা হয়ে পিচ উঠে যাচ্ছে। পানি কমতে শুরু করলেও ফের বৃষ্টিপাত হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন এ এলাকার লোকজন।
সওজ’র মৌলভীবাজার কার্যালয় সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক বন্যায় সওজ’র রাজনগর-কুলাউড়া-বড়লেখা-বিয়ানীবাজার আঞ্চলিক মহাসড়ক; জুড়ী-লাঠিটিলা আঞ্চলিক মহাসড়ক; মৌলভীবাজার-শমশেরনগর-চাতলা সড়ক এবং জুড়ী-ফুলতলা-বটুলী (লিংক রোড গাজীপুর) সড়কের ৪ দশমিক ৬৩ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে আনুমানিক সংস্কার ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩ কোটি ৮১ লাখ ৬৩ হাজার টাকা। অপরদিকে অতি বর্ষণে রাজনগর-কুলাউড়া-বড়লেখা-বিয়ানীবাজার আঞ্চলিক মহাসড়ক; জুড়ী-লাঠিটিলা আঞ্চলিক মহাসড়ক; মৌলভীবাজার-শমশেরনগর-চাতলা সড়ক; জুড়ী-ফুলতলা-বটুলী সড়ক; কুলাউড়া-শমশেরনগর-শ্রীমঙ্গল সড়ক ও কুলাউড়া-পৃথিমপাশা-হাজীপুর-শরীফপুর (রবিরবাজার-টিলাগাঁও সংযোগ সড়কসহ) সড়কের ৮০ দশমিক ৫০ কিলোমিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৫১ কোটি ৯০ লাখ টাকা।
সওজ’র মৌলভীবাজার কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মিন্টু রঞ্জন দেবনাথ জানান, কুলাউড়া-বড়লেখা সড়কের ১০টি স্থান পানিতে ডুবে যায়। যেখানে গর্ত হচ্ছে, সেখানেই আমরা ইট ফেলে গর্ত ভরাটের চেষ্টা করছি। কিন্তু দীর্ঘদিন পানি থাকায় সড়কের মাটি কাদা হয়ে গেছে। আমরা যখন ইট ফেলছি, তা টিকছে না। ভারী যানবাহন গেলে কাদার মধ্যে ইট ডুবে যাচ্ছে। বন্যার পানি কমার পর কাজ করতে হবে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চাহিদা দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দ অনুযায়ী কাজ হবে। এর আগ পর্যন্ত ইট-বালু ফেলে যানবাহন চলাচল বজায় রাখার মতো ব্যবস্থা করা হবে।
অপরদিকে বন্যাকবলিত এলাকায় এলজিইডি’র ১৮৬ কিলোমিটার রাস্তা এবং ৭১ মিটার ব্রিজ ও কালভার্টের এপ্রোচ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকলেও কিছু যানবাহন চলাচল করছে যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি টাকা আদায়ের নেশায়। এ কারণে সরকার ক্ষতির শিকার হচ্ছে। এটি বন্ধ করা না হলে ক্রমেই রাস্তার ক্ষতির পরিমাণ বাড়বে। বিষয়টি ভেবে দেখা দরকার বলে মনে করেন অনেকেই।
এ বিষয়ে এলজিইডি মৌলভীবাজার কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় জানান, রাস্তার ওপর এখনও পানি রয়েছে। পানির জন্য অনেক সড়কে যাওয়া যায়নি। বড়লেখা ও জুড়ীতে অনেক স্থানে এখনও পানি থাকায় ক্ষতি নিরুপণ করা যাচ্ছে না। পুরো ক্ষতির চিত্র নিরুপণ করতে সময় লাগবে। এসব রাস্তা ও ব্রিজ-কালভার্ট সংস্কারে আনুমানিক ৩৪ কোটি ৫১ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। চাহিদা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: