সর্বশেষ আপডেট : ৪১ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ১১ আশ্বিন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ঘটনার ৫ বছর পর কুলাউড়ার শিশু ইভা হত্যার রহস্য উদঘাটন

01.-daily-sylhet-Kulaura-news-1মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি:: ঘটনার প্রায় ৫ বছরের মাথায় মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার শিশু ইভা (৫ মাস) হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেসস্টিগেশন (পিবিআই)। ইতোমধ্যে মূল আসামী অর্থাৎ হত্যাকারী ইভার আপন চাচা আবুল মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীও দিয়েছে। আবুল মিয়া জানিয়েছে, প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতেই মা (ইভার দাদী) এর নির্দেশে ইভাকে গলায় কুপ দিয়ে হত্যা করেছে।

শুক্রবার (১৪ জুলাই) পিবিআই মৌলভীবাজার কার্যালয়ে এক প্রেসব্রিফিং এ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসলাম উদ্দিন ২০১২ সালের ১৪ আগস্টে কুলাউড়া উপজেলার ইসলামনগর গ্রামের শিশু ইভা হত্যার রহস্য উদঘাটনের এই দাবি জানান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআই মৌলভীবাজার ইউনিটের পুলিশ পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম।

প্রেসব্রিফিং এ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লিখিত বক্তব্যে জানান, কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা ইউপি’র ইসলামনগর গ্রামের মুক্তার মিয়ার ছেলে নিজাম মিয়া (৩৭) ও তার ভাইদের সাথে একই গ্রামের মৃত রহমত আলীর ছেলে মাসুক মিয়া (৪৫)ও তার ভাইদের জমিজমা নিয়ে বিরোধ ছিলো। ২০১২ সালের ১৪ আগস্ট মাসুক মিয়া দলবল নিয়ে বিরোধপূর্ণ জমিতে যান। এ সময় নিজাম মিয়ার স্ত্রী রুবিনা বেগম তার কন্যা মীমকে কোলে নিয়ে বিরোধপূর্ণ জমিতে গিয়ে বাঁধাদানসহ চিৎকার করলে মাসুক মিয়া ও তার লোকজন রুবিনা বেগমকে মারপিট করে। ঠিক ওই সময় নিজামের মা বিরু বেগম শিশু ইভার (৫) লাশ হাতে নিয়ে বিরোধীয় জমির দিকে এসে বলেন, মাসুক ও তার লোকজন শিশু ইভাকে হত্যা করেছে। এই ঘটনায় নিজাম মিয়া বাদী হয়ে কুলাউড়া থানায় মামলা করেন। কুলাউড়া থানার ২জন এসআই মামলা তদন্ত করে উক্ত হত্যাকা-ের রহস্য উদঘাটন করতে না পেরে ২০১৩ সালের ১৭ জানুয়ারি চূড়ান্ত রিপোর্ট আদালতে দাখিল করেন।

পরবর্তীতে বাদী কর্তৃক নারাজির প্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশে কুলাউড়া থানা পুনরায় মামলাটি তদন্ত করে এবং চূড়ান্ত রিপোর্ট দেয়। বাদী আবারও নারাজি দিলে আবেদন মঞ্জুর করে আদালত অধিকতর তদন্তের জন্য জেলা গোয়েন্দা শাখাকে নির্দেশ দেন।
জেলা গেয়েন্দা শাখার এইসআই মোবারক হোসেন এক বছর তদন্ত করে উক্ত হত্যাকা-ে কে বা কারা জড়িত তা বের করতে না পেরে ২০১৫ সালের ২১ এপ্রিল আদালতে চূড়ান্ত রিপোর্ট দাখিল করেন। বাদী আবারও নারাজি দাখিল করেন। অবশেষে আদালতের নির্দেশে চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি পিবিআই মৌলভীবাজার কার্যালয়ের পুলিশ পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম মামলার তদন্ত শুরু করেন। গত ১১ জুলাই সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার আলমপুর গ্রাম থেকে বাদীর আপন ভাই নিহত শিশু ইভার চাচা আবুল মিয়া ওরফে আব্দুল্লাহকে (৩৩) গ্রেফতার করেন তিনি। এরপর মৌলভীবাজার কার্যালয়ে তাকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে ঘটনার সাথে জড়িত বলে স্বীকার করে। পরবর্তীতে গত ১২ জুলাই আদালতে সোপর্দ করলে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয় আবুল মিয়া।
প্রেসব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, আসামী আবু মিয়া আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে বলেছে প্রতিপক্ষকে গায়েল করার জন্যই তার মা (শিশু ইভার দাদী) বিরু বেগম তার ভাতিজি ঘুমন্ত শিশু ইভাকে উঠানে রেখে তার (আবুল) হাতে বটি দা দিয়ে কুপ দিতে বলেন। তখন উঠানে তার ভাই নিজাম ও রাশেদ ছিলো। সে (আবুল) শিশু ইভার গলায় কুপ দিলে ইভা ঘটনাস্থলেই মারা যায়। তার মা বিরু বেগম পানি ঢেলে ঘটনাস্থলের রক্ত পরিস্কার করেন।

পিবিআই’র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসলাম উদ্দিন সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জানান, ইতোমধ্যে মামলার একজন অন্যতম স্বাক্ষী আব্দুল আজিজ ও ইভার দাদী বিরু বেগম মৃত্যুবরণ করেছেন। ইভার মা ও পিতা পলাতক রয়েছেন। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে। এই মামলার রহস্য উদঘাটনে প্রযুক্তির সহায়তা নেয়া হয়েছে

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: