সর্বশেষ আপডেট : ১২ মিনিট ৩ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৯ আশ্বিন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

জীবিকার সংকটে মৌলভীবাজারের ২০ হাজার মৎস্যজীবি

1. daily sylhet 0-9n copyজালাল আহমদ:: মৌলভীবাজারের মৎস্যজীবি সম্প্রদায়ের লোকজন প্রতিদিনই হাওরে মাছ ধরতে যান, কিন্তু মাছ খুব একটা মিলছে না। অনকেকে খালি হাতেই ঘরে ফিরতে হচ্ছে। অন্যরা যা পান, তা দিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। কেউ কেউ মাঝে-মধ্যে ত্রাণও পেয়ে থাকেন। আর তা দিয়েই দু/একদিন চলে। এরপরই কোথাও না কোথাও হাত পাততে হচ্ছে তাদের।
সদর উপজেলার কাউয়াদীঘি হাওরপারের কালাইপুরা গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, গ্রামের অনেক বাড়ির চারদিকে ঢেউ খেলছে পানি। কারও উঠানে পানি, কারও উঠানে কাদা। কারও ঘর থেকে পা ফেললেই পানি। নৌকা ছাড়া ঘর থেকে বের হওয়ার উপায় নেই। হাওরে যাওয়ার জন্য বেশ কয়েকটি বাড়ি থেকে নৌকা নিয়ে বের হয়েছেন জেলেরা। নৌকাবোঝাই জাল।

কালাইপুরা গ্রামটি পড়েছে সদর উপজেলার একাটুনা ও আখাইলকুরা ইউনিয়নে। আর কাউয়াদীঘি হাওর পড়েছে সদর ও রাজনগর উপজেলায়। একাটুনা ইউপি’র কালাইপুরা গ্রামের রেনু মিয়া জানান, হকলতা যারগি পানির মোরে (সবকিছু পানির নিচে চলে যাচ্ছে)। গরিব মানুষ। বছর বছর বাঁশ-বেড়া দিয়া ঘর বানাই। ৫০-৬০ হাজার টাকা খরচ অয়। এমনিতেই এবার পানিয়ে খেত (বোরো ধান) খাইলিছে। হকল মরাত (সবাই ক্ষতিগ্রস্ত)। এখন চারদিকে পানি। কিন্তু মাছ মিলে না। সারা দিনে দুই/আড়াই’শ টাকার মাছ পাই। কোনো দিন খালি খাওয়ার মাছ মিলে। আফাল (ঢেউ) থাকলে কিছুই মিলে না। এক কেজি চাউলর দাম ৫০ টাকা। আটজনের পরিবার। উফাস -কাফাস করি চলি। মাঝে-মধ্যে ঋণ করি। তিনি আরও জানান, তিনি নিবন্ধিত মৎস্যজীবি। এ পর্যন্ত মাত্র একবার ৬ কেজি চাল সাহায্য পেয়েছেন।
নৌকা নিয়ে মাছ ধরতে হাওরে যাচ্ছিলেন আখাইলকুরা ইউপি’র খইসাউড়া গ্রামের সাজ্জাদ আলী। তিনি জানালেন, মাছ ধরতে যাইরাম। সন্ধ্যা পর্যন্ত মাছ ধরমু। বন্যার কারণে দিনে এক’শ/দেড়’শ টাকার মাছ মিলে। আমার কার্ডও (নিবন্ধনপত্র) নাই। কোনো সাহায্যও পাইছি না।MB Fisherman
সদর উপজেলার একাটুনা ও আখাইলকুরা এবং রাজনগর উপজেলার ফতেহপুর ইউপি’র কালাইপুরা, খইসাউড়া, খোঁজারগাঁও, কানিয়া, নারাইণপুর, বড়বাড়ি, চঙবাড়ি, অন্তেহরি, কাদিপুর, জুমাপুরসহ পাশাপাশি গ্রামগুলোতে কয়েক হাজার মৎস্যজীবি পরিবারের বসবাস। এসব গ্রামের মৎস্যজীবি পরিবারের সদস্যরা কাউয়াদীঘি হাওর থেকে মাছ ধরেই জীবিকা নির্বাহ করেন। তারা জানান, অন্য বছর বর্ষার এই সময়টিতে হাওরে পানি অনেক কম থাকতো। একজন মৎস্যজীবি দিনে ৪০০/৫০০ টাকার মাছ ধরতে পারতেন।

কালাইপুর গ্রামের টুনু মিয়ার বাড়ির উঠানে পানি। বারান্দায় বসে কোনো নারী জাল বুনছেন। কেউ তরকারি কুঁটছেন। টুনু মিয়া জানান, ১০ কিয়ার (বিঘা) খেত করেছিলাম। সব পানিয়ে ভাসাই নিছে। খেত করি ১৭ হাজার টাকা দেনা অইছে। কিলা (কীভাবে) শোধ করতাম? পানি কমলে না রুজি করতাম। দিনে দুই-আড়াই’শ টাকার মাছ পাই। এই টাকায় খালি চাউল কিনলেই চলেনি। অন্য খরচও তো আছে। ওষুধও লাগে। টানাটানি করি কোনো রকম চলরাম। কোনো পাইছি না। একই বাড়ির রাবেয়া বেগম, হোসনা বেগম জানালেন, তারা কোনো সাহায্য পাননি। তবে রুজিনা বেগম বলেন, তিনি ৮ কেজি চাল পেয়েছেন। খইসাউড়া গ্রামের ইলাল মিয়া জানান, তারা ১৩ জন প্রত্যেক দিন দু’টি নৌকা নিয়ে কাউয়াদীঘি হাওরে মাছ ধরতে যান। সবাই মিলে দুই-আড়াই হাজার টাকার মাছ পান। এতে প্রতিজনে ১০০-১৫০ টাকা পান। কোনো দিন খালি হাতে ফিরে আসেন। তিনি ১০ বিঘা জমিতে বোরো ধানের চাষ করেছিলেন। বন্যার কারণে একমুঠো ধানও ঘরে তুলতে পারেননি।
এদিকে জেলার হাওরতীরবর্তী ৩ উপজেলা তথা বড়লেখা, জুড়ী ও কুলাউড়া উপজেলার মৎস্যজীবি পরিবারে চরম দুর্দিন চলছে। বড়লেখার হাল্লা, খুটাউরা, আহমদপুর, মুর্শিবাদকুরা, মুন্সিনগর, নোয়াগাঁও, কাজিরবন্দ; জুড়ীর বেলাগাঁও, শাহাপুর এবং কুলাউড়ার সাদীপুর গ্রামে বেশিরভাগ মৎস্যজীবি পরিবারের বাস। এসব এলাকায় বন্যার পানি কমলেও দুর্ভোগ তাদের পিছু ছাড়ছে না। হাওরে জাল নিয়ে গিয়েও মাছ ধরা পড়ছে খুবই কম।

একাটুনা ইউপি চেয়ারম্যান আবু সুফিয়ান জানান, এ ইউনিয়নে দুই থেকে আড়াই হাজার মৎস্যজীবি আছে। এদের দুই-চারজন বাদে সবাই অভাবে। তবে আমার ইউনিয়নে এমন কেউ নাই, যে ত্রাণ পায়নি। এ পর্যন্ত ১৪ টন চাল ও ৫ টন গম বিতরণ করা হয়েছে।

জেলা মৎস্য কার্যালয় সূত্র জানায়, জেলায় ১৩ হাজার ৪০০ নিবন্ধিত মৎস্যজীবি আছেন। তবে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিবন্ধনের বাইরেও অনেক মৎস্যজীবি রয়েছেন।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুল কুদ্দুছ আকন্দ জানান, এবার আগাম বন্যা হওয়ায় মাছের উৎপাদন ভালো হয়েছে। তবে এই সময়ে মাছ কিছুটা কম ধরা পড়ে।
সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইকবাল হোসেন জানান, মৎস্যজীবিদের জন্য এখানে আলাদা কোনো কর্মসূচি নেই। সাধারণ বরাদ্দের আওতায় তারা ত্রাণ পাচ্ছেন।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: