সর্বশেষ আপডেট : ৩ ঘন্টা আগে
বৃহস্পতিবার, ২০ জুলাই, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৫ শ্রাবণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

মফিজ উদদীন চৌধুরী আলিয়া মাদ্রাসায় বিনা বেতনে ছাত্র-ছাত্রীর অধ্যয়নের সুযোগ

IMG_20170707_162044_383মোহাম্মদ রুবেল তালুকদার ::
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলাধীন ৩ নম্বর দেওরগাছ ইউপির ময়নাবাদ গ্রামে অবস্থিত “মফিজ উদদীন চৌধুরী আলিয়া মাদ্রাসা নামে একটি আধুনিক প্রযুক্তি সমৃদ্ধ মাদ্রাসা নির্মিত হয়েছে । ময়নাবাদের কৃতি সন্তান, লন্ডন ট্রেডিশনের কর্ণধার মামুন চৌধুরী সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে ২০১৪ সনে চারিদিকে প্রাচীর বেষ্টিত পাঁচ কৈয়ার জমির উপর প্রায় ৩ কোটি টাকার ব্যয়ে মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করেন। তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় আজ অনেক গরীব-কৃষক-শ্রমজীবী পরিবারের সন্তান-সন্তুতিরা বিনা বেতনে অধ্যায়নের সুযোগ পাচ্ছে।

ছাত্র-ছাত্রীদের খেলাধুলার জন্য তিন তলায় ভবনটি সামনে রয়েছে বিশাল বড় এক সবুজ মাঠ, সদ্য রূপনকৃত চারিদিকে বাহারি রকমে ছোট ছোট ফলের গাছ রয়েছে। মুল ফটকে রয়েছে নির্মাণধীন বড় গেইট এবং শিক্ষার্থীদের আসা-যাওয়ার জন্য ছোট পরিষরে আছে পকেট গেইট।

প্রথম তলায় এক পাশে অফিস কক্ষ এবং আরেকপাশে জাহানারা চৌধুরী একাডেমী রয়েছে। প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণীর পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষার কার্যকাক্রম সকাল ৯ টা থেকে দুপুর ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত চলে।

২য় তলায় মফিজ উদদীন চৌধুরী আলীয় মাদ্রাসায় ষষ্ঠ শ্রেণী থেকে অষ্টম শ্রেণীর পর্যন্ত সকাল ৯.১৫ মিনিট থেকে বিকাল ৪.৩০ মিনিট পর্যন্ত পাঠদান চলে। এদিকে ছাত্র-ছাত্রীদের প্রযুক্তি সম্পর্ক অবহিত করতে ১৫ টি কম্পিউটার নিয়ে গঠিত একটি কম্পিউটার ল্যাব রয়েছে। ধারবাহিক ক্রমান্বয়ে প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রীদের কে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

মাদ্রাসার বিভিন্ন কর্মসূচির প্রণয়নের লক্ষ্যে তৃতীয় তলায় ভবনটিতে একপাশ সুসজ্জিত একটি কনফারেন্স রুম রয়েছে এবং অন্যপাশে শিক্ষকদের জন্য আবাসিক হল আছে।

IMG_20170707_162044_458কম্পিউটার শিক্ষারত ৫ জন শিক্ষার্থী বলেন “মামুন চৌধুরী স্যারের বদ্যনতায় আজ আমরা কম্পিউটার প্রশিক্ষণ নিচ্ছি। টাইপিং, সফটওয়্যার, নেট ব্রাউসিং করতে পারতেছি। বিনা টাকায় প্রশিক্ষণের সুযোগ পাচ্ছি। আমাদের মতো গরীবের পক্ষে কম্পিউটার হাতানোই অনেক কিছু। যেখানে দুবেলায় অন্ন যোগার করতে অভিভাবকরা রীতিমতো হিমসিম খাচ্ছেন সেখানে স্যারের উচিলায় আমরা সেই সুযোগটি কাজে লাগাচ্ছি”।

মাদ্রাসা পরিদর্শন কালে সহকারি শিক্ষক আবুল কাশেম আল আবেদী জানান, রমজানে দারুল ক্বেরাত প্রশিক্ষণ শেষ পর্যায়ে চলে আসছে । পাশাপাশি জেইডিসি ও ইবতেদায়ীর ফ্রী কোচিং এর ব্যবস্থা আছে। মাদ্রাসাটি ধীরে ধীরে সামনে দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে ।

IMG_20170707_162044_399অফিস কক্ষে বসে কথা হলো মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার মো রেজাউর রহমান চৌধুরী’র সঙ্গে। তিনি বলেন, ১৮ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছেন। শিক্ষার ক্ষেত্রে কোনো গাফিলতি সুযোগ নেই। তিনশতের অধিক ছাত্র-ছাত্রীদের কে যত্নসহকারে শিক্ষকরা পাঠাদান করেন। রাতের প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রীর বাড়িতে ভিজিট করা হয়। গতিবিধিতে রাখা হয়। তারা পড়ে কি না সে ব্যাপারে লক্ষ্য করা হয়। এ জন্য দুজন শিক্ষক হোম ভিজিট শেষে আমাকে অবহিত করেন”।

তিনি আরও বলেন, গরীব ছাত্র-ছাত্রীদের উপবৃত্তির দেওয়া হচ্ছে।২০১৫ সনের ইবতেদায়ির শিক্ষার্থীরা ১০০% উত্তীর্ণসহ ৫ টি বৃত্তি পেয়েছে।ধারবাহিক ক্রমান্বয়ে মাদ্রাসা এগিয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া সামাজিক সেবামুলক কাজ করে যাচ্ছে এবং জনগণ কে সচেতনতা করতে বিভিন্ন কর্মসূচি প্রণয়ন করছে।

রমজানের পর মিড ডে মিল চালু হবে জানিয়ে ভারপ্রাপ্ত এই সুপার বলেন, ইতিমধ্য যাবতীয় কার্যক্রম শেষ। সব উপকরণ আমাদের কাছে চলে আসছে। সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের মাধ্যমে এই কার্যক্রম উদ্বোধন করা হবে ।

IMG_20170707_162044_428শিক্ষা উপদেষ্টা এহতেরামুল হক সোহাগ বলেন, মাদ্রাসাটি ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে। ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সম্পন্ন বিনা বেতনে ছাত্র-ছাত্রীরা শিক্ষা পাচ্ছে । ধর্মীয় পাশাপাশি ইংরেজি-প্রযুক্তির শিক্ষা উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় ক্লাশ রুমে প্রতিটি কক্ষে সিসিটিভি ক্যামেরা প্রতিস্থাপিত হয়েছে । ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠাদান এবং শিক্ষক-শিক্ষিকাদের প্রতিদিনের কর্মকান্ড সেগুলো অটোমেটিকলি রেকডিং হচ্ছে। মাস ভিত্তিক পর পর সেগুলো পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং বিভিন্ন বিষয়ে দিক-নির্দেশনায় দেওয়া হয়।

মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ সবকিছু ব্যয় নির্বাহ করছে জানিয়ে এই উপদেষ্টা বলেন, ছাত্র-ছাত্রীদের পড়তে কোনো টাকা দিতে হয় না বরং বইখাতা থেকে শুরু করে ইউনিফর্ম পর্যন্ত বিনামূল্যে সরবরাহ করে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। এই মহৎ কাজে দাতা হচ্ছেন চুনারুঘাট গর্ব মামুন চৌধুরী।

IMG_20170707_162044_413মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠা উল্লেখ করে ময়নাবাদের কৃতি সন্তান ও লন্ডন ট্রেডিশনের কর্ণধার মামুন চৌধুরী বলেন,”আজপাড়ার গাঁয়ে বিভিন্ন কারণে ছেলেমেয়েরা শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত। এলাকার বেশিরভাগ মানুষই গরীব-শ্রমজীবী ও কৃষিজীবী। তাদের অনেক অভিভাবকরা বাড়তি পয়সা আয়ের লক্ষ্যে স্কুল/ মাদ্রাসায় না দিয়ে কাজ লাগান। তাদের কথায় বিবেচনায় করে সুনিশ্চিত এবং সুশিক্ষায় গড়ে তুলার লক্ষ্যে ২০১৪ সালে মাদ্রাসা এবং পর্যায়ক্রমে ২০১৫ সালে একাডেমী প্রতিষ্ঠা করি”।

লন্ডনের রানীর হাত থেকে মর্যাদাপূর্ণ কুইন’স অ্যাওয়ার্ড পাওয়া চুনারুঘাটে গর্ব সফল ব্যবসায়ী মামুন চৌধুরী বলেন, গ্রামের বাড়িতে কিছু জায়গাজমি থেকে আয়কৃত একটি অংশ লন্ডনে না নিয়ে দেশের মানুষে জন্য কিছু করার প্রত্যয় নিয়ে আধুনিক শিক্ষায় গড়ে তুলতে মাদ্রাসা ও একাডেমী তৈরি করতে পর্যায়ক্রমে প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয় করি। সমাজবির্নামণে এই প্রতিষ্ঠান টি অবদান রাখবে।

IMG_20170707_162044_486মাদ্রাসা তৈরির প্রাথমিকভাবে উদ্যোগ নেওয়ার সময়ে শত বাঁধা-সম্মুখিন পড়েছেন জানিয়ে তিনি গ্রাম-বাঙলাকে বলেন, বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলে আমার নামে অপপ্রচার ও মাইকিংও করছিলো। ধারাবাহিক ক্রমান্বয়ে গ্রামের সকলের সহযোগিতায় আজ এটি ক্ষুদ্র থেকে বড় প্রতিষ্ঠানে রূপ নিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সামনে আরেকটি ট্রাস্ট গঠনের পরিকল্পনা আছে। গরীব মানুষ বিপদাপদ পড়লে অন্ততপক্ষে এই ট্রাস্ট যথেষ্ট সহায়ক হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হবিগঞ্জ ৪ আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট মাহবুব আলী বলেন, মামুন চৌধুরীর প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসাটি একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। আধুনিক প্রযুক্তি বান্ধব। নিজস্ব অবকাঠামো নিয়ে গঠিত । সুশিক্ষা বিস্তারে অগ্রনী ভূমিকা রাখছে। বর্তমানে মাদ্রাসার বিভিন্ন কার্যক্রম সত্যিই বিমোহিত করছে। বিভিন্ন কর্মসূচিতে আসি এবং নতুন নতুন জিনিষ সংযুক্ত হয় দেখে বেশ আনন্দ পাই। মামুন চৌধুরী উদারতায় সত্যিই অনুকরণযোগ্য।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: