সর্বশেষ আপডেট : ২ ঘন্টা আগে
বৃহস্পতিবার, ২০ জুলাই, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৫ শ্রাবণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

চৌপথীর গোয়ালঘরে সাপের কামড়ে কিশোরীর মৃত্যু

image-39977আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: মেয়ের ঋতুস্রাব চলছে, তার মানে তো ‘অপবিত্র’। তাকে দূরে সরিয়ে রাখতে হবে সব কিছু থেকে। খাওয়ার জিনিস, পুজোর জিনিস ছুঁয়ে ফেললেই ঘোর পাপ হবে! মেয়েকে তাই মেনে নির্বাসিত করা হয়েছিল গোয়ালঘরে। এমনটা তো হয়েই থাকে। নেপালি হিন্দুদের এ তো প্রচলিত প্রথা।

পরিবারের নির্দেশ মেনেই ঘোর বর্ষায় গোয়ালঘরে ঠাঁই নিয়েছিল ১৯ বছরের তুলসি শাহি। সেখানেই ওঁত পেতে বসেছিল মৃত্যুও। কুসংস্কারের শিকার হয়ে গোয়ালঘরের অন্ধকারের সাপের কামড়ে প্রাণ দিতে হল তাকে।

নেপালের এই প্রথা ২০০৫ সালে বেআইনি ঘোষণা করা হলেও এখনও পশ্চিম নেপালে প্রকাশ্যেই মেনে চলা হয় এই প্রথা।

স্থানীয় মেয়র সূর্য বাহাদুর শাহির জানান, মেয়েটির মাথা ও পায়ে সাপ ছোবল দেয়ার পরও কুসংস্কারাচ্ছন্ন পরিবার রজঃস্বলা মেয়েকে হাসপাতালে না নিয়ে গিয়ে বাড়িতেই টোটকা চালিয়ে যায়। অবস্থা খারাপ হতে থাকায় স্থানীয় একটি ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হলেও সেখানে অ্যান্টিভেনিন চিকিৎসার সুযোগ ছিল না। সাত ঘণ্টা পর অবশেষে মারা যান তুলসি।

তুলসিই প্রথম নয়। এভাবে অন্ধবিশ্বাসের বলি হতে হয়েছে বহু মেয়েকেই। ডিসেম্বর মাসেই চৌপথী(ঋতুস্রাব চলার চারদিন)’র গোয়ালঘরে রাতে ঠাণ্ডা সহ্য করতে না পেরে আগুন জ্বালিয়ে ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে প্রাণ গিয়েছিল ১৫ বছরের কিশোরীর রোশনি তিরুয়ার। জুন মাসেই ২১ বছরের এক তরুণীর এভাবেই ঋতুস্রাবের সময় মৃত্যু হওয়ার খবর সামনে আসতেই চৌপথী প্রথা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী পুষ্পা কামাল দাহাল। সেই সব নিষেধাজ্ঞাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়েই পালিত হয়ে চলেছে চৌপথী।

২০১৫ সালে নেপালের মানবাধিকার মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন বলছে, এখনও নেপালের মধ্য-পশ্চিম অঞ্চলে ১৫-৪৯ বছর বয়সী নারীদের ৫০ শতাংশই চৌপথী প্রথা মেনে চলেন। ঋতুবতী মেয়ে অপবিত্র। কোনও রকম খাবার, পরিবারের সদস্যদের ছুঁলে তারাও অপবিত্র হয়ে যাবে। এমনকী, বাড়ির পোষ্য গরু, ছাগলদের ছুঁলে তাদের দুধও হয়ে যাবে অপবিত্র।

একবিংশ শতাব্দীতে এসেও আজও ঋতুস্রাবের সময় এভাবেই মেয়েদের অচ্ছুত করে রাখার প্রক্রিয়া পালন করে চলেছে কুসংস্কারাচ্ছন্ন সমাজ। কোথাও শিক্ষার আলো না পৌঁছনো, কোথাও সমাজের চোখরাঙানির ভয়ে মেয়েরাও নিরবেই মেনে চলতে বাধ্য চলছে কুসংস্কার।

সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: