সর্বশেষ আপডেট : ১৯ মিনিট ৩৫ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৮ আশ্বিন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে কথিত স্বামীর বাড়িতে কলেজ ছাত্রীর অনশন

28011সুনামগঞ্জ সংবাদদাতা:: সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে অনশন পালন করছেন কাঁকলী আক্তার রত্না নামের এক কলেজ শিক্ষার্থী।

শনিবার রাত থেকে উপজেলার একই ইউনিয়নের চারাগাও মাইজহাটি গ্রামের কথিত স্বামী জুয়েলের বাড়িতে অবস্থান নিয়ে অনশন করতে থাকেন।

জানা যায়, উপজেলার কলাগাঁও বাজারের পল্লী চিকিৎসক বরজু ওরফে বশিরের ছেলে জয়নাল আবেদীন জুয়েলের (সুনামগঞ্জ আদালতের আইনজীবী সহকারী) সঙ্গে পাশের শ্রীপুর কুঁড়েরপাড়া গ্রামের প্রাক্তন ইউপি সদস্য শাহনুর মিয়ার মেয়ে কাঁকলী আক্তার রত্নার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে ২০১৫ সালে উভয়ের সম্মতিতে বিয়েও হয়। বিয়ের পর জেলা শহরে ভাড়াটিয়া বাসায় প্রায়ই স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে থাকতেন তারা।

এদিকে জুয়েল আগামীকাল সোমবার বিশ্বম্ভরপুরের শাহপুরে আবার বিয়ে করতে যাচ্ছেন জানতে পেরে স্ত্রীর স্বীকৃতি পেতে শনিবার রাতেই জুয়েলের বাড়িতে এসে অনশনে শুরু করেন কাঁকলী। এ ঘটনা জানাজানি হলে উৎসুক এলাকাবাসীও শনিবার রাত ও রোববার সকাল থেকে ভিড় জমান ওই পল্লী চিকিৎসকের বাড়িতে।

সুনামগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী কাঁকলী আক্তার রত্না বলেন, জুয়েলের বড় ভাই জাভের আহমদ আমাকে হুমকি প্রদান করেছেন। তিনি ছাত্রলীগের বড় নেতা তাই তিনি আমাকে পুলিশে ধরিয়ে দেবে বলে হুমকি ও গালমন্দ করেন এবং কয়েকবার মারতেও তেড়ে আসেন। রাত থেকে তিনি দফায় দফায় আমাকে ও আমার অভিভাবকদের থানা পুলিশকে দিয়ে চাপ দিচ্ছেন। তাদের বাড়ি থেকে চলে না গেলে আমাকে নাকি রোববার সকালে গ্রেফতার করে জেলে পাঠানো হবে।”

কাঁকলী আরও বলেন, “জুয়েল প্রথমে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ২০১৪ সালে আমার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলার পর এলাকার কয়েকজনকে সাক্ষী রেখে সুনামগঞ্জে ২০১৫ সালে ১৫ ফেব্রুয়ারি ২ লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে করে। এখন সেই বিয়ে এবং প্রেমকে সে অস্বীকার করছে।”

এ ব্যাপারে জয়নাল আবেদীন জুয়েলের মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, “দেখেন তো ভাই, আমি কী মুশকিলে পড়লাম! আর মাত্র একদিন পর বিশ্বম্ভরপুরের শাহপুরে আমার বিয়ের দিনক্ষণ ঠিকঠাক করা হয়েছে। এখন দেখি রাতে হঠাৎ করে এক মেয়ে আমাদের বাড়িতে এসে আমার কাছে স্ত্রীর স্বীকৃতি দাবি করছেন।”

কাঁকলীর প্রেম ও বিয়ের দাবি অস্বীকার করে তিনি বলেন, “আমি তাকে চিনিই না মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন জুয়েল।

উপজেলার কলাগাঁও মাইজহাটির বরজু ওরফে বশির ডাক্তার মোবাইলে বলেন, “সোমবার জুয়েলের অন্যত্র বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক করে ফেলেছি। কেনাকাটাও প্রায় শেষ। লোকজনকে দাওয়াত করেছি বরযাত্রী ও বৌভাতের অনুষ্ঠানে থাকার জন্য। এখন হঠাৎ করে রাতে কাঁকলী নামের এক মেয়ে আমার বাড়িতে এসে আমার ছেলে জুয়েলের কাছে স্ত্রীর স্বীকৃতি দাবি করছে, এটি ষড়যন্ত্র ছাড়া আর কিছুই না।”

শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য চারাগাঁও’র বাসিন্দা মো. হাসান আলী বলেন, “বিষয়টি জানতে পেরে আমি ও এলাকার লোকজন রাতেই ঘটনাস্থলে যাই। এসময় কাঁকলী উপস্থিত লোকজনকে জানায়, জুয়েল সুনামগঞ্জে তার বন্ধুদের সহায়তায় মৌলভী ডেকে একটি কাগজে নিজ হাতে অঙ্গীকার নামা লিখে তাকে বিয়ে করে। এমনকি, সে সময় জুয়েল আদালতে ইন্টার্নিশিপ শেষ করে ওই কলেজছাত্রীকে স্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে বাড়িতে নিয়ে যাবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেয়। কাঁকলী এখন স্ত্রীর স্বীকৃতি না পেলে আত্মহুতির কথাও প্রকাশ্যে লোকজনকে জানিয়ে দিয়েছেন।”

উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. খসরুল আলম খসরু বলেন, “জয়নাল প্রতারণার মাধ্যমে কাঁকলীর সঙ্গে প্রেম এবং পরবর্তী সময়ে বিয়ে করেছে এ কথা সত্য। তাদের বিয়ের বিষয়টি বেশ কিছুদিন ধরেই এলাকায় জানাজানি হয়, এমনকি পরিবারের অভিভাবকরা পর্যন্ত বিষয়টি জানেন।” এ ধরণের প্রতারণা প্রতিরোধে ওই ছাত্রী যেন ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত না হয় সেজন্য পুলিশি তদন্তের মাধ্যমে এর সুষ্ঠু আইনি সমাধানও চেয়েছেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে তাহিরপুর থানার ওসি (তদন্ত) মো. আসাদুজ্জামান হাওলাদার বলেন, “শনিবার রাতে জুয়েল নামের এক যুবকের বাড়িতে জোর করে কাঁকলী নামে এক তরুণী উঠেছে বলে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি।” তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

জুয়েলের বাড়ি ত্যাগ করতে কাঁকলী ও তার অভিভাবকদের থানা পুলিশের পক্ষ থেকে চাপ দেয়ার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ওসি বলেন, “বিয়ের ডকুমেন্ট থাকলে তা থানায় নিয়ে আসার জন্য বলেছি। কোনো ধরনের চাপ দেইনি।”

এদিকে রোববার বেলা ১০টার দিকে তাহিরপুর থানার এসআই মো. ইমাম হোসেন বশির ডাক্তারের বাড়িতে গিয়ে কাঁকলীর বক্তব্য রেকর্ড করেন। ঘটনাস্থলে এসআই মো. ইমাম হোসেন বলেন, “জুয়েলের সঙ্গে তার প্রেম ও বিয়ের সম্পর্কে কাঁকলী পুলিশকে বিস্তারিত জানিয়েছে।”

এরপর ইমাম হোসেন কাঁকলীকে আইনি ব্যবস্থা নিতে থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ করার কথা বলেন।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: