সর্বশেষ আপডেট : ১ মিনিট ৫ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ২৬ জুলাই, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ১১ শ্রাবণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ভূটান বেড়াতে যাবেন? তাহলে আমার অভিজ্ঞতা আপনার জন্য…

bNp9kAdআসহাব আনিস জয় ::

আমি গত ২৬ এপ্রিল রাতে শ্যামলী এস.আর বাসে করে ভূটান ঘুরে আসলাম। যাওয়ার আগে শুনতাম ছবির মতো সুন্দর একটা দেশ কিন্তু যাওয়ার পর বুজলাম তার থেকেও সুন্দর গোছানো একটা দেশ ভূটান। এবার আসি বিস্তারিত বর্ণনায়, কিভাবে যাবেন, কই থাকবেন, কি করবেন?

প্রথমেই ভারতীয় ট্রানজিট ভিসার প্রয়োজন হবে যা ঢাকার শুধুমাত্র গুলশান শাখা থেকে করিয়ে নিতে পারবেন। ট্রানজিট ভিসার বিস্তারিত বর্ণনা এই লিংকে। (https://www.facebook.com/groups/mail.tob/permalink/10153409845671790/)

তারপর আগে থেকে টিকিট করে রাখা বাসে উঠে পরুন (Dhaka Burimari Dhaka) হলেই হবে। সময় লাগে ১০ থেকে ১১ ঘণ্টা তারমানে পরদিন সকাল ৮টার মধ্যে আপনি বুড়িমারি সীমান্তে। ৯টায় ইমিগ্রেশন অফিস খুললে প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করে ঢুকে পরুন ইন্ডিয়াতে।

২ ধাপে ভূটান ইন্ডিয়া বর্ডার যাওয়া যায়।
ধাপঃ১ চেংরাবান্দা তে রিজার্ভ গাড়ি পাওয়া যায়, non-ac ১৫০০ রুপি পরবে। ডাইরেক্ট জয়গাও নিয়া যাবে।

ধাপঃ ২ ভুটানের যাবার জন্য লোকাল বাসে ময়নাগুরি নামক জায়গায় নেমে ১টা লোকাল বাসে উঠে পরুন ভাড়া নিবে ৩০ রুপি। ঐখান থেকে নেমে সাফারি নামের গাড়িতে উঠুন ভাড়া পড়বে ৩০/৩৫ টাকা যা আপনাকে জয়গাও ভূটান-ইন্ডিয়া বর্ডারের কাছাকাছি নিয়া যাবে। এরপর ৭টাকা ভাড়া দিয়ে অটোতে (আমাদের দেশে সিনজি) উঠে চলে যাবেন জয়গাও ইন্ডিয়ান ইমিগ্রেশন অফিসে এবং এক্সজিট সিল লাগিয়ে সোজা চলে যান ভূটান। মনে রাখবেন ভূটান-ইন্ডিয়া ওপেন বর্ডার, যখন খুশি যাওয়া ও বের হওয়া যায়। কোন সমস্যা নেই। আমার মতে খাওয়া দাওয়ার কাজটা জয়গাও তে সেরে নেয়াই উত্তম হবে।

bhutan-tourist-spot-threeআমরা Phuntsholing পৌঁছাই বিকেল ৪ টাইয় এবং সেখান থেকে ১টা ৮ সিটের গাড়ি ভাড়া করি এবং সোজা চলে যাই ওদের রাজধানী থিম্পুতে। যেতে যেতে প্রায় রাত ১১:৩০। ও ভালোকথা, বাংলাদেশ এবং ভুটানের সময় একদম এক (GMT+6 ) । আমরা থিম্পুতে Yoesel Hotel 2 তে ছিলাম যার double Bed রুমের ভাড়া ছিল 700 rupee এবং triple Bed রুমের ভাড়া ছিল 9০০ rupee. গোছান, ছিমছাম হোটেল।

প্রথম দিনঃ সকালে ঘুম থেকে উঠে পাশের হোটেলের রেস্টুরেন্ট Hotel Choephal Norkye থেকে নাস্তা করে নেই। এখানের খাওয়া মজার। আমাদের প্রথম দিনের নাস্তার আইটেম ছিল Cheese Egg, Parata, Dal Fry & Coffee. আমরা প্রথই দিনই থিম্পু থেকে Punakha এবং Chele la Pass নামক শহরে যাওয়ার permit করায় নিসিলাম যেন পরবর্তীতে কোন সময় নষ্ট না হয়।

অফিসিয়াল কাজ শেষে আমরা থিম্পুতে সিটি ট্রিপ দিলাম এর মধ্যে zoo, Dzhong, Monestry ছিল কিন্তু বুদ্ধা পয়েন্ট ছিল মনে রাখার মতন ১টা জায়গা। অসম্ভব সুন্দর ১টা শহর। দেখলেই মন ভরে যায়।

দ্বিতীয় দিন: যাত্রা এবার পুনাখা। সকাল ১০টায় রওনা দিলাম, ২/২:৩০ ঘণ্টার মতন সময় লাগে পৌছাতে। যাওয়ার পথে Duchala, Punakha Dzhong, এবং Suspension Bridge তো মাথা নষ্ট করে দেয়। আবহাওয়া অন্য শহর থেকে একটু ভিন্ন কিন্তু খুবই উপভোগ্য। কেউ ভূটান গেল, কিন্তু পুনাখা গেল না, তাহলে তার ভূটান যাত্রাই অপূর্ণ। সারাদিন ঘুরে রাতে আবার থিম্পুতে ফিরে গেলাম কারন পুনাখাতে থাকার মতন ভাল হোটেল নেই। আর থিম্পু হয়ে যেহুতু পারো যাওয়া লাগে তাই থিম্পুতে চলে যাওয়াটাই ভাল সিদ্ধান্ত।

bhutan-doc-file-(5)তৃতীয় দিন: থিম্পু এবং পুনাখা দেখা শেষে এবার আমাদের যাত্রা স্বপ্নের শহর Paro এর উদ্দেশে। এখানে আমরা ছিলাম Hotel Dragon এ, এটা নিঃসন্দেহে সেরা হোটেল । তাই এখানে সর্ব ধরনের বাঙালি খাবার পাওয়া যায়। যেমন; সাদা ভাত, আলু ভর্তা, আলু ভাজি, শুকনা মরিচ দিয়া আলু ভর্তা, খাসির তরকারি, মুরগির তরকারি, সবজি এক কথায় পুরা ১৬ আনা বাঙালি খাওয়া তবে দাম একটু বেশি। তবে কয়েক দিন টানা ফ্রাইড রাইস আর চাউমিন খেতে খেতে আমরা অস্থির হয়ে গেচিলাম। তাই বাঙালি খাবার পেয়ে এই সুযোগ কেউ হাত ছাড়া করি নাই।
এখন আসি আসল কথায়, পারো হচ্ছে ওদের সবথেকে সুন্দর শহর, এই শহরেই ওদের একমাত্র আন্তর্জাতিক এয়ারপোর্ট আছে। থিম্পু থেকে আসার পথে অনেক সুন্দর সুন্দর যায়গা আছে যা না দেখলেই নয়। এদের মধ্যে অন্যতম হল case bridge. এটা যেমন মজার তেমনই ভয়ঙ্কর।
Chele La Pass: আপনারা চাইলে ঐদিন সকালে Chele La Pass ঘুরে আসতে পারুন। এই যায়গা মিস করা বোকামি হবে। পারো থেকে ৪০কি.মি দূর। এক দিনেই পারো শহর ঘুরা ও Chele la Pass দেখা সম্ভব।

চতুর্থ দিন: এবার পারোর সব থেকে বড় আকর্ষণ Tiger Nest/ Taksin. যেটা ওদের ধর্মীয় এবং পর্যটনের দিক থেকে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ দিক। তিন হাজার ফুট হেটে উঠতে হবে আবার নেমে আসতে হবে। পায়ে হাটার বিকল্প কোন বেবস্থা নাই। আমাদের উঠতে সময় লেগেছিল প্রায় ৩:৩০ ঘণ্টার মতন আবার নামতে সময় লেগেছে ১ ঘণ্টার বেশি। দিন শেষে এটাই ছিল সব থেকে মজার এবং সারা জীবন মনে রাখার মতন একটা ঘটনা।

পঞ্চম দিনঃ ভুটানের সব সুন্দর সৃতি সাথে নিয়ে এবার আমাদের গন্তব্য আরেক সৌন্দর্যের রানি দার্জিলিং। চা বাগানে ঘেরা অপুরুপ সুন্দর দার্জিলিং শুধু টিভিতেই দেখেছি কিন্তু এবার সুযোগ এসেছে সামনে থেকে দেখার। এবার রওনা হলাম পারো থেকে দার্জিলিং এর উদ্দেশ্যে। সকাল ১১টা। আমাদের যাত্রা শুরু। ৪:৩০/৫ ঘণ্টা সময় লাগে ফুএেন্টসলিং পৌছাতে। পথে যাত্রা বিরতি বেশি নিলে সময়তো একটু বেশি লাগবেই। অবশেষে ভূটান বর্ডার গেটে পৌছালাম স্থানীয় সময় ৫টায়। এক্সিট সিল নিয়ে হেঁটে চলে গেলাম ইন্ডিয়ার ভিতর সোজা ওদের ইমিগ্রেশন অফিসে আর লাগিয়ে নিলাম এন্ট্রি সিল। যেহুতু দারজেলিং যাব তাই রাতটা শিলিগুড়ি থাকতে হবে। ৩,৫০০ টাকায় একটা গাড়ি ভাড়া করে রওনা দিলাম এবং রাত ১০:৩০ নাগাদ শিলিগুড়ি পৌঁছে গেলাম। বলে রাখা ভাল যে ইন্ডিয়া ঢুকেই ইন্ডিয়ার ১টা মোবাইল সিম কিনি ইন্টারনেট প্যাকেজ সহ। তাই অনলাইনেই ১টা হোটেল বুক দিয়া সরাসরি উঠে পরি হোটেলে। ২ রুম, ২ রাত সর্বমোট ৩,০০০ রুপি। রাতে আরেকটা গাড়ি ঠিক করে রেখেছিলাম পরের দিন সারা দিন যেন ভালভাবে ঘুরতে পারি কোন ঝক্কি ছাড়া।

ষষ্ঠ দিনঃ ভোর ৪:৩০ টায় ঘুম থেকে উঠে আগের দিন ঠিক করে রাখা গাড়ি করে পুরো দার্জিলিং শহরটা ঘুরে দেখলাম। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো Zoo, Rock Garden, Bazar, Tiger Hill. সবগুলা যায়গার মধ্যে Tiger Hill সবথেকে আকর্ষণীয়। এখান থেকে সূর্যাস্ত দেখা অন্যরকম আনন্দের। বলে রাখা ভালো যে দার্জিলিং শহরে ঢাকার মতন ট্রাফিক জ্যাম হয়। সারাদিন ঘুরাফিরা শেষে এবার হোটেলে ফিরার পালা। বাস শিলিগুড়ি থেকে ছাড়ে বলে শিলিগুড়িতেই আবার ফিরে গেলাম।

সপ্তম দিনঃ গত কয়েক দিনের ক্লান্তি পুষিয়ে নেবার জন্য এবার একটা সেই ঘুম দেয়ার পালা কারন বাসতো সেই ১:৩০ টায়। যে কথা, সেই কাজ। ১০ টা পর্যন্ত ঘুমিয়ে নিলাম এবং সকালে নাস্তা করলাম স্ট্রিট ফুড দিয়ে। ২০ রুপিতে ৩ টে পরটা এবং refillable ডাল। চমৎকার স্বাদ, পেটেও তৃপ্তি, জিহ্বাতেও তৃপ্তি। হাল্কা ঘুরে, বিধান মার্কেটে শপিং করে বাসে উঠে গেলাম। গন্তব্য এবার বাংলাদেশ।

কিছু করনীয়ঃ
১. ডলার চেংরাবান্দাতেই ভাংগাবেন কারণ পুরা ভুটানে আমার চোখে কোন মানি এক্সচেঞ্জার পরে নাই। ভুটানে কোন সমস্যা ছাড়াই ইন্ডিয়ান রুপি চলে, সুতরাং ইন্ডিয়ান ৫০০ আর ১০০ করে টাকা নিয়া যান।

২. দার্জিলিং যদি যাওয়ার ইচ্ছা থাকে তাহলেও ডলার চেংরাবান্দাতেই ভাংগাবেন কারণ দার্জিলিং শহরে রেট অনেক কম দেয়।

3. অবশ্যই ১০০ ডলারের নোট নিয়ে যাবেন কারণ ৫০ বা খুচরা নোটে কম রেট দেয়। আর সর্বদাই চেষ্টা করবেন নতুন ১০০ ডলারের নোটটা নিতে। (আমি চেংরাবান্দাতে ৬৬ রুপি করে পেয়েছিলাম) ।

৪. ভূটান ও দার্জিলিং এ হোটেলে অবশ্যই দামাদামি করে উঠবেন এতে ২০০/৩০০ টাকা প্রতিদিন শুধু হোটেলেই সেভ হবে।

Few additional points:
1. One should carry few passport pic(atleast 1).
2. One should carry few photocopy of passport.
3. Official passport holders should carry all required documents (atleast 10 sets photocopy)related to permission of visit.
4. For going Thimphu from Phuneshilong you will get bus/coaster upto 1630 hrs.
5. From Paro to Phuneshilong only one bus available at 0900 hrs,for availing you should buy tickets before one day atleast.
6. For buying souvenir from Bhutan ,tiger nest start point is the best place.(Ofcourse do bargain).

কিছু প্রয়োজনীয় কনটাক নাম্বার ও ঠিকানা (যদি কারো প্রয়োজন পরে):

Central Hotel (Phuentsholing)
+975-5-252172
এদের ডাবল বেড ১২৫০ টাকা থেকে শুরু। বাট এটাই best হোটেল। স্টাফ গুলা Extremely Helpful.

Hotel Choephal Norkye (Thimphu)
Tel: +975 17628400
এদের ডাবল বেড ১২০০ এবং ত্রিপল বেড ১৫০০ করে। খুবই স্ট্যান্ডার্ড।

Yoesel Hotel 2 (Thimphu)
Tel: +975 77399406
+975 17852311
+975 17606447
এদের ডাবল বেড 700 এবং ত্রিপল বেড 900 করে। moderate service।

Hotel New Grand (Thimphu)
+975 77455918
+975 17783450
এদের ডাবল বেড 1800 করে। এদের Breakfast টা ভালো।

Centre Lodge (Thimphu)
+975 77661335
+975 17661335

Hotel Lingar (Punakha)
+975 17637549
+975 17348664
+975 77228491

Hotel Dragon (Paro)
Tel: +975 8272174
+975 17762628
+975 17320473
এদের ডাবল বেড 1000 এবং ত্রিপল বেড 1300 করে। (This is the best, Bengali foods are available too)

Air View Hotel (Shiliguri)
+91 9932214153
Non-AC, AC both are available. এই হোটেলে গেলে সম্পূর্ণ বাংলাদেশের ফিল হয়।

Hotel Diamond (Shiliguri)
Tel: +91 98327 88314
এদের ডাবল বেড 800 করে। service ভালো না :p ।

বিঃদ্রঃ ভুটানে এখন হোটেল বুকিং মাস্ট। সুতরাং যাওয়ার আগে ১ রাত হলেও থিম্পু অথবা পারোতে হোটেল কনফার্ম করে print out নিয়া যাবেন।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: