সর্বশেষ আপডেট : ২২ মিনিট ৩০ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮, খ্রীষ্টাব্দ | ১৩ ফাল্গুন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

জুড়ী ও রাজনগরে ত্রাণের জন্যে মানুষের হাহাকার

dslt-1মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি:: বন্যায় ঘর-দুয়ার ভেসে গেছে অঞ্জলি রাণী বিশ্বাসের (২৫)। সবকিছু হারিয়ে উঠেছেন একটি বন্যা আশ্রয় কেন্দ্রে। গত বুধবার ৬ কেজি সরকারি ত্রাণের গম পেয়েছেন। কিন্তু তা পেয়ে যেনো আরও বিপাকে পড়েছেন তিনি। মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার এই বানভাসী নারী বললেন, ৬ কেজি গম পাইছি। গম শুকাইতাম কই? ভাঙাইতাম কই? ভাঙাইতে কেজিত ১০ টাকা লইলায়। টেকা পাইতাম কই?’

মৌলভীবাজারের রাজনগর ও জুড়ী উপজেলার বানভাসী শত শত মানুষ আশপাশের আশ্রয় কেন্দ্রে উঠেছে। তাদের অনেকে ত্রাণ না পাওয়ারও অভিযোগ করেছেন। অঞ্জলির মতো ২৫টি বানভাসী পরিবার আশ্রয় নিয়েছে রাজনগর উপজেলার উত্তরভাগ ইউনিয়নের কামালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। সেখানে গত বুধবার বিকেলে ত্রাণ বিতরণ করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দা সায়রা মহসিন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার শরিফুল ইসলাম, উত্তরভাগ ইউপি চেয়ারম্যান শাহ শাহিদুজ্জামান প্রমুখ।

আশ্রয় কেন্দ্রে উঠা মিলন রাণী বিশ্বাস জানান, এখানে একমাস ধরি আছি। আইজই প্রথম গম পাইছি। উত্তরভাগ ইউনিয়নের কালারবাজারের বাসিন্দা আব্দুল আলিম জানান, এই বাজারের বিভিন্ন এলাকা গত ১৮ জুন থেকে পানিতে তলিয়ে আছে। ৭০টির মতো স্থায়ী পাঠদান বন্ধ। খুচরা অন্তত ২ শতাধিক দোকান বাজারে বসতে পারছে না।

উত্তরভাগ ইউনিয়নের অন্তত ১০টি গ্রাম বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। সবমিলিয়ে অন্তত ৮ হাজার মানুষ পানিবন্দী। রাস্তাঘাট নিমজ্জিত পানিতে। উত্তরভাগ ইউপি’র ৪, ৫ ও ৬নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত আসনের সদস্য রতœা বেগম জানান, এই ওয়ার্ডের অবস্থাই বেশি খারাপ। মানুষজন খুবই কষ্টে আছে। তেমন সাহায্যও করতে পারছি না। ৩রং ওয়ার্ডের সদস্য মজনুর রহমান জানান, ত্রাণ পাই ১০০ জনের। কিন্তু ত্রাণ পাওয়ার মতো মানুষ ৩০০ জন। এ অবস্থায় কেউ পায়, কেউ পায় না।

উত্তরভাগের পাশাপাশি রাজনগরের ফতেহপুর, পাঁচগাঁও ও মুন্সীবাজার ইউনিয়ন কুশিয়ারা নদী ও কাউয়াদীঘি হাওর সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত। এই ইউনিয়নগুলোতেই বন্যা দেখা দিয়েছে। ফতেহপুর ইউনিয়নের বাঘমারা গ্রামের ফিরোজা বেগম জানান, ঘরে পানি। বড় কষ্টে আছি। চৌকির ওপর থাকি। এখনও কোনো সাহায্য পাইনি।

ফতেহপুর ইউপি চেয়ারম্যান নকুল চন্দ্র দাশ জানান, এ ইউনিয়নের প্রায় সবক’টি গ্রামই কমবেশি পানিবন্দী। ত্রাণ হিসেবে ৫ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ক্ষতির তুলনায় তা কিছুই না।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার শরিফুল ইসলাম জানান, আমরা ৫/৬ কিস্তিতে ৭৫ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকা বিতরণ করেছি। কেউ কেউ বলছে পাচ্ছে না। বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।

এদিকে জুড়ী উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, প্রথম দফায় এপ্রিলের অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে হাকালুকি হাওরের ৪ হাজার ৭৫০ একর জমির বোরো ফসল তলিয়ে যায়। মে ও জুনে আরও দুই দফা অতিবৃষ্টি এবং পাহাড়ি ঢলে জায়ফরনগর, পশ্চিম জুড়ী, সাগরনাল, ফুলতলা, গোয়ালবাড়ি ও পূর্বজুড়ী ইউনিয়নের ২২টি গ্রামের ৬০ হাজার মানুষ পানিবন্দী আছে। এর মধ্যে জায়ফরনগর ও পশ্চিম জুড়ীতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেশি। জায়ফরনগর উচ্চ বিদ্যালয় আশ্রয় কেন্দ্রের বারান্দায় দাঁড়িয়ে শাড়ির আঁচলে চোখ মুছছিলেন পাশের গোবিন্দপুর গ্রামের তেজবালা বিশ্বাস। কাঁদতে কাঁদতেই জানালেন, তাদের চার বিঘা জমির ধান ও ঘরবাড়ি পানিতে ভেসে গেছে। গত ৫ দিনে দু’বার ত্রাণ পেয়েছি। কিন্তু ত্রাণ নিয়ে আর কতোদিন চলবে? এ আশ্রয় কেন্দ্রে গত বুধবার বিকেল পর্যন্ত ৫৪টি পরিবার উঠেছে। সামনের ফসল না ওঠা পর্যন্ত সময়টা কীভাবে পার হবে, সবাই সেই চিন্তায় অস্থির।
উপজেলার শিমুলতলা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তায় ৪/৫ ফুট পানি। প্রতিটি বাড়ির মানুষই পানিবন্দী। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মান্নান জানান, রোদ উঠলে পানি কমে। আর বৃষ্টি নামলেই আবার বাড়ি যায়। নৌকা ছাড়া চলার কোনো উপায় নাই।

জায়ফরনগর ইউপি চেয়ারম্যান মাছুম রেজা ও পশ্চিম জুড়ী ইউপি চেয়ারম্যান শ্রীকান্ত দাস জানান, তাদের এলাকার অধিকাংশ মানুষ এখনও পানিবন্দী। ৪টি আশ্রয় কেন্দ্রে ৬৭টি পরিবার উঠেছে। রাস্তাঘাট নিমজ্জিত হওয়ায় উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। যখনই সরকারি বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে, দ্রুত তা দুর্গত মানুষের হাতে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিন্টু চৌধুরী জানান, জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে ত্রাণ বরাদ্দ এলেই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার ইউপি চেয়ারম্যানদের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। পানি নেমে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: