সর্বশেষ আপডেট : ৫ ঘন্টা আগে
বুধবার, ২৬ জুলাই, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ১১ শ্রাবণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

একজন কলম সৈনিকের মহাপ্রস্থান

image-72945ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::

১৯৭১ সাল ইতিহাসের পাতায় এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। ৩০ লক্ষ শহীদের রক্ত আর দু লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমের কাহিনী জড়িয়ে আছে একাত্তরের ইতিহাসের পাতায়। মুক্তিযুদ্ধ আমাদের রক্তাক্ষরে লেখা গৌরবগাঁথা। মুক্তিযোদ্ধারা অস্ত্র হাতে লড়াই করেছেন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে। আবার কলম সৈনিকেরা কবিতা-গানে, সংবাদের মাধ্যমে বিশ্ব-বিবেককে জাগ্রত করেছেন। প্রেরণা জুগিয়েছেন রণক্ষেত্রে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের। এমনি এক বীর কলম সৈনিক সিদ্দিকুর রহমান আশরাফী। তিনি ১৯৪৭ সালে ৩১ ডিসেম্বর চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার কাচিয়ারা গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। তার বাবার নাম আশরাফ আলী। মায়ের নাম রঞ্জিন বেগম। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা সাহিত্যে লেখাপড়া করেন। এবং শ্রীলঙ্কা ন্যাশনালই উনিভার্সিটি থেকে অল্টারনেটিভ মেডিসিনে পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন করেন।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের মুখপত্র হিসেবে সাপ্তাহিক ‘বাংলার মুখ’ কলকাতা থেকে সিদ্দিকুর রহমান আশরাফীর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময় আশরাফী রণক্ষেত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করে লিখতেন ‘রণাঙ্গন থেকে লিখছি’। তার ক্ষুরধার লেখনীতেকলামটি পাঠক নন্দিত হয়েছিল। এছাড়াও মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মুখ যুদ্ধের বীরত্বগাথা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের বক্তব্য, বিশ্ববাসীর অভিমত, রণাঙ্গনের খবরাখবর বাংলার মুখ পত্রিকায় প্রকাশিত হলে সারা বিশ্বে সাড়া জাগে।

ঢাকা থেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তার সহপাঠী হোসনে আরা দিলু মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে গোপনে সংবাদ সংগ্রহ করে কলকাতায় পাঠাতেন। সেসব সংবাদ বাংলার মুখ পত্রিকায় ছাপা হতো। এসব সংবাদ মুক্তিযোদ্ধাদের উজ্জ্বীবিত করতো। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের জন্য প্রথম থেকেই পত্রিকাটি জনপ্রিয়তা লাভ করে।
স্বাধীনতা লাভের পর ঢাকা থেকে বাংলার মুখ পত্রিকাটি দৈনিক হিসেবে প্রকাশিত হয়। এছাড়াও সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি ‘যোগ ব্যায়াম’ বিষয়ক বাংলাদেশ টেলিভিশনে নিয়মিত একটি অনুষ্ঠান করতেন। ‘স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল’ এই চিন্তা চেতনা থেকে তিনি একটি যোগ ব্যায়ামের চর্চা কেন্দ্রও গড়ে তুলেছেন।

মুক্তিযোদ্ধা ও কলম সৈনিক সিদ্দিকুর রহমান আশরাফী তাঁর বৈচিত্রিময় জীবনের সকল কর্মের অবসান ঘটিয়ে ২৭ জুন, ২০১৭ মঙ্গলবার ভোর ৪টায় রাজধানীর ঢাকার হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী হোসনে আরা দিলু, ২ মেয়ে তানিয়া আশরাফী ও সোনিয়া আশরাফী এবং এক ছেলে রাজীব আশরাফীকে রেখে যান। তাঁর স্ত্রী হোসনে আরা দিলু সুলেখিকা হিসেবে পরিচিত। তানিয়া আশরাফী ও সোনিয়া আশরাফী দুমেয়েই পেশায়চিকিৎসক। আর ছেলে রাজীব আশরাফী নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: