সর্বশেষ আপডেট : ২ মিনিট ২৯ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮, খ্রীষ্টাব্দ | ১২ ফাল্গুন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

মৌলভীবাজারে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি, বাড়ছে রোগব্যাধি

unnamed (4)জালাল আহমদ, মৌলভীবাজার:: মৌলভীবাজারে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে জেলার ৫টি উপজেলার ৫ লক্ষাধিক লাখ মানুষ এখনও পানিবন্দী রয়েছেন। কুশিয়ারা নদী, হাকালুকি, কাউয়াদীঘি ও হাইল হাওরে পানি বৃদ্ধির কারণে জেলার বড়লেখা, জুড়ী, কুলাউড়া, রাজনগর ও সদর উপজেলার ৩৩টি ইউনিয়নে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। জেলার ৫ উপজেলা ও হাওরতীরের বন্যাকবলিত এলাকায় বন্যার পানি কিছুটা কমলেও ভয়াবহতা কমেনি এখনও। বুধবার বৃষ্টিপাত না হওয়ায় পানি কিছুটা কমতে শুরু করেছে। ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাটে পানি থাকায় মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। পাশাপাশি বন্যার্তদের মধ্যে বিভিন্ন ধরণের পানিবাহিত রোগব্যাধিও বাড়ছে।
বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, এ উপজেলায় আরও একটি আশ্রয় কেন্দ্র বাড়ানো হয়েছে। এ নিয়ে ১৪টি আশ্রয় কেন্দ্রে মোট ২৬৯টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, জেলার ৩৩টি ইউনিয়ন বন্যাকবলিত হয়েছে। এতে ২ লাখ ৬৫ হাজার ৩০০ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৩৩টি আশ্রয় কেন্দ্রে ৫১৯টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। এছাড়া ২৭৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্যাকবলিত হওয়ায় শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ আছে। বন্যায় আউশ ও রোপা আমনের ৯৫৫ হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জেলা প্রশাসক তোফায়েল ইসলাম জানান, হাওর এলাকায় মানুষের বাড়িঘরে পানি উঠেছে। তবে আশার কথা হচ্ছে, দু/তিন দিন আগে যে রাস্তাগুলো পানিতে নিমজ্জিত ছিলো, সেগুলোর কিছু কিছু ভেসে উঠছে।
এদিকে পানিবন্দি এলাকায় বন্যাকবলিতদের মাঝে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, আমাশয়, ভাইরাস জ¦রসহ নানা ধরণের পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। ৩ উপজেলার স্ব স্ব উপজেলা সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে এসব রোগে আক্রান্তদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অনেক রোগী অবশ্য বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক, কমিউনিটি স্বাস্থ্য কেন্দ্র, ডাক্তারদের প্রাইভেট চেম্বার ও ফার্মেসি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
এ ব্যাপারে কুলাউড়া উপজেলা সরকারি হাসপাতালের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা নুরুল হক জানান, বন্যাকবলিত এলাকায় ডায়রিয়া ও ভাইরাসজনিত জ্বরের জীবাণু ছড়িয়ে পড়ায় শিশুসহ সব বয়সী মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে। পরিবেশ অপরিচ্ছন্ন থাকায় ডায়রিয়া ও চর্মরোগের প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা দিয়েছে। তিনি আরও জানান, বন্যাকবলিত এলাকায় ১৮টি মেডিক্যাল টিম স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে যাচ্ছে। আর একটি মোবাইল টিম শুধু ভুকশিমইল এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছে।
মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক তোফায়েল ইসলাম ত্রাণ সহায়তার চিত্র তুলে ধরে এ প্রতিবেদককে জানান,
এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত জেলায় সর্বশেষ ২৯৪ মেট্রিক টন জিআর চাল ও নগদ ১০ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও ৫৯ হাজার ২০০ ভিজিএফ কার্ডের মাধ্যমে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে। সবমিলিয়ে ৩ ধাপে ৬৫০ মেট্রিক টন চাল, ৩০ লাখ ৮০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। এসব ছাড়াও ৩ মাসের জন্য ৫ হাজার ভিজিএফ কার্ডের মাধ্যমে প্রতিমাসে ৩০ কেজি করে চাল ও নগদ ৫০০ টাকা করে দেওয়া হচ্ছে। গত ০২ জুলাই দুর্যোগ মন্ত্রণালয় থেকে আরও ২০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। সেগুলোও বিতরণ করা হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: