সর্বশেষ আপডেট : ৪ মিনিট ২২ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ২৩ মে, ২০১৮, খ্রীষ্টাব্দ | ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নেমে গেছে ১০ মিটার

1499226230নিউজ ডেস্ক:: মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারে ক্রমশ নেমে যাচ্ছে ভূ-গর্ভস্থ পানি স্তর। ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর ৩ থেকে ১০ মিটার পর্যন্ত নেমে গেছে। সুপেয় পানি ও কৃষিকাজে ভূ-গর্ভস্থ পানির ওপর অধিক হারে নির্ভরশীলতার কারণে পানির স্তর নেমে যাচ্ছে। নদীমাতৃক বাংলাদেশে একসময় নদী-নালা, পুকুর ও অন্যান্য জলাধারের পানি কৃষি আবাদ ও সুপেয় পানি হিসেবে ব্যবহূত হলেও এখন ভূ-গর্ভস্থ পানিই একমাত্র ভরসা।

বিগত শতকের সত্তরের দশকের আগে দেশের মানুষের কাছে সুপেয় পানির প্রধান উত্স ছিল পুকুর-নদী-খাল আর বৃষ্টির জমিয়ে রাখা পানি। সত্তরের দশকের শুরুতে কৃষিকাজের জন্য দেশে প্রথম ভূ-গর্ভস্থ পানির ব্যবহার শুরু হয়। আশির দশকে তা ব্যাপকতা পায়। সেই যে শুরু এরপর আর থামানো যায়নি। উপরন্তু, দেশের উজানে পদ্মা ও তিস্তাসহ অভিন্ন ৫৪টি নদীতে ভারত কর্তৃক বাঁধ নির্মাণসহ নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির কারণে ভূ-গর্ভস্থ পানির চাহিদা বেড়েছে। গত চার দশকে দেশে ভূ-গর্ভস্থ পানির ব্যবহার বেড়েছে প্রায় শতভাগ। খাবার পানি, রান্না, গোসল, সেচসহ সব কাজে ভূ-গর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে মানুষ। এখন সুপেয় ও চাষাবাদের পানির চাহিদার প্রায় ৮০ শতাংশই মেটাতে হচ্ছে ভূ-গর্ভ থেকে। অপরিকল্পিতভাবে গভীর ও অগভীর নলকূপ দ্বারা এই পানি উত্তোলনের ফলে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নিচে নেমে যাচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে ঢাকা ওয়াসা মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করেছে। এ প্ল্যানের আওতায় ২০২১ সাল নাগাদ ঢাকায় ৭০ ভাগ পানি ভূ-উপরিস্থ পানির উত্স থেকে সরবরাহ করার জন্য কাজ করছে। ঢাকা ওয়াসা তিনটি বৃহত্ পানি শোধনাগার প্রকল্প গ্রহণ করেছে। চট্টগ্রাম ওয়াসা শেখ হাসিনা পানি শোধনাগার নামে একটি শোধনাগার চালু করেছে। ফলে ভূ-গর্ভস্থ পানির উেসর নির্ভরতা কমে ৫৫ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশ হয়েছে। আরো তিনটি শোধনাগার প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলছে। রাজশাহী ওয়াসা দৈনিক ২৭ মিলিয়ন লিটার ক্ষমতাসম্পন্ন শহীদ কামারুজ্জামান শোধনাগার নির্মাণ করেছে।

খুলনা ওয়াসা ২ হাজার ৫৫৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘খুলনা পানি সরবরাহ’ প্রকল্প গ্রহণ করেছে। প্রকল্পটি ২০১৮ সালের মধ্যে বাস্তবায়িত হবে। এটি বাস্তবায়ন হলে দৈনিক ১১ কোটি লিটার ভূ-উপরিস্থ পানি সরবরাহ করা হবে।

ঢাকা ওয়াসার একজন কর্মকর্তা বলেন, সরকার ভূ-গর্ভস্থ পানির উপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে ক্রমান্বয়ে ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবহারের উপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। সে পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ঢাকা ওয়াসার আওতায় ৩টি প্রকল্প অর্থাত্ পদ্মা পানি শোধনাগার প্রকল্প, ঢাকা এনভার্নমেন্টালি সাসটেনেব্ল্ ওয়াটার সাপ্লাই প্রজেক্ট এবং সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার শীর্ষক প্রকল্পের মাধ্যমে ৩টি বড় ভূ-উপরিস্থ পানি শোধনাগার নির্মাণের কাজ চলমান আছে। তবে এসব প্রকল্প থেকে পানি সরবরাহ পেতে আরো কয়েক বছর সময় প্রয়োজন। শোধনাগারগুলো নির্মাণ সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন পানি সরবরাহের কভারেজ ধরে রাখার জন্য চলমান এ প্রকল্পটির অনুমোদিত কার্য পরিধি বাড়িয়ে সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন জানান, ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর ৩ থেকে ১০ মিটার পর্যন্ত নেমে গেছে। সুপেয় পানি ও কৃষিকাজে ভূ-গর্ভস্থ পানির ওপর অধিক হারে নির্ভরশীলতার কারণে এ স্তর নেমে যাচ্ছে। ভূ-গর্ভস্থ পানির পরিবর্তে ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার নিশ্চিত করতে পুকুর খনন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ভূ-গর্ভস্থ পানির যথেচ্ছ ব্যবহারের কারণে আমাদের পানির স্তর প্রতিনিয়ত নিচে নেমে যাচ্ছে। ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে প্রায়োগিক গবেষণা চালানো হচ্ছে। ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার নিশ্চিত করতে সরকার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের মাধ্যমে পুকুর খনন প্রকল্প গ্রহণ করেছে।




এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: