সর্বশেষ আপডেট : ১৯ মিনিট ৫৫ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ২২ জুলাই, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৭ শ্রাবণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

১৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ, সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

unnamed (18)মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি:: মৌলভীবাজারের রাজনগরে ফের বন্যা দেখা দিয়েছে। কুশিয়ারা নদী ও কাউয়াদীঘি হাওরের পানি বৃদ্ধি ও পাহাড়ি ঢলে উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের প্রায় ৫০টি গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। প্লাবন ও আশ্রয় কেন্দ্রের কারণে ১৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ রয়েছে। আশপাশে পানি থাকায় আরও ১০টি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ হবার উপক্রম। এছাড়া মৌলভীবাজার-রাজনগর-বালাগঞ্জ সড়ক বন্যার কারণে বাস যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

দুর্গত এলাকা ঘুরে দেখা যায়, টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে রাজনগরে কুশিয়ারা নদী ও কাউয়াদীঘি হাওরের পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় আবার বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে কুশিয়ারা নদীর ও কাউয়াদীঘি হাওরপারের ফতেপুর, উত্তরভাগ, মুন্সিবাজার, পাঁচগাঁও ইউনিয়নের ৫০টি গ্রামের প্রায় অর্ধলক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। হাওরপারের লোকজন মারাত্মক দুর্যোগের মধ্যে দিনাতিপাত করছেন। এদিকে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় সাম্প্রতিক সময়ে ভাইরাসজনিত জ্বর ও পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত নারী, শিশু ও বৃদ্ধ বয়সীদের নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন স্বজনেরা। দুর্গত এলাকার বেশিরভাগ লোকজন দরিদ্র হওয়ায় খাদ্য সংকট ও বিশুদ্ধ পানির সমস্যায় ভোগছেন। গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন এসব গ্রামের কৃষকেরা। দেখা দিয়েছে গো-খাদ্য সংকট। বন্যার পানিতে ফতেপুর ইউনিয়ন ও বালাগঞ্জ এলাকার সঙ্গে বাস যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। বাস যোগাযোগ বন্ধ থাকায় দুর্গত এলাকার মানুষজন প্রয়োজনীয় কাজে নৌকা নিয়ে যাতায়াত করছেন।

অবিরাম বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কুশিয়ারা নদী ও কাউয়াদীঘি হাওরে পানি বৃদ্ধির কারণে ফতেপুর, উত্তরভাগ; মুন্সিবাজার ও পাঁচগাঁও ইউনিয়নের কাশিমপুর, শাহপুর, আব্দুল্লাহপুর, জাহিদপুর, বেড়কুড়ি, হামিদপুর, বিলবাড়ি, শাহবাজপুর, মুনিয়ারপাড়, বেতাহুঞ্জা, গোবিন্দপুর, ফতেহপুর, বাঘমারা, বাঘেরবাড়ি, কামালপুর, মেদিনিমহল, সুনাটিকি, মিয়ারকন্দি, আমিরপুর, ধুলিজুড়া, কেউলা, বাঘেরবাড়িসহ অন্তত ৫০টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দী আছে। ডুবে যাওয়া গ্রামগুলোর মানুষজন নিকটবর্তী আত্মীয়ের বাড়ি কিংবা উঁচু বাঁধে আশ্রয় নিয়েছেন।
গত সোমবার ও মঙ্গলবার ২দিনে জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে উত্তরভাগ ও মুন্সিবাজার ইউনিয়নের মোট ৩০০ টি বন্যাদুর্গত পরিবারের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ছিলো মুড়ি, চিনি, চিড়া ও গুঁড়ো দুধ। এছাড়াও আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে শুকনো খাবার ও এক বেলা খিচুড়ি বিতরণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে ইউএনও অফিস জানিয়েছে। এছাড়াও উত্তর অন্তেহরি, দক্ষিণ অন্তেহরি, জাহিদপুর, কাশিমপুর, আব্দুল্লাহপুর, শাহপুর, বেড়কুড়ি, ফতেপুর, সুনামপুর, চালবন্দ, বাদেনারায়ণপুর, শাহবাজপুরসহ ১৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে এবং ২টিতে আশ্রয় কেন্দ্র খোলার ফলে এসব বিদ্যালয়ে পাঠদান কিংবা শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। গত শনিবার বিদ্যালয় খোলার দিন হলেও বন্যার কারণে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না। এছাড়াও মুন্সিবাজার, পাঁচগাঁও উত্তরভাগ ইউনিয়নের আরও ১০টি বিদ্যালয়ে পানি প্রবেশ করছে।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জাফর আল সাদেক জানান, দুর্গত এলাকায় ১৪টি বিদ্যালয় বন্যায় প্লাবিত ও ২টিতে আশ্রয় কেন্দ্র খোলায় আপাতত ১৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। এসব এলাকার শিক্ষার্থীদের যাতে ক্ষতি না হয় সেজন্য আপদকালীন সময়ে বিভিন্ন বাড়িতে পাঠদানের ব্যবস্থা চলছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার শরিফুল ইসলাম জানান, পিআইও বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেছেন। কামালপুর ও বকসিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩০টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। জেলা প্রশাসক মহোদয়ের উপস্থিতিতে গত ২দিনে ৩০০টি বন্যাদুর্গত পরিবারের মধ্যে ত্রাণসামগ্রি বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে শুকনো খাবার ও একবেলা খিচুড়ি বিতরণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: