সর্বশেষ আপডেট : ৪ মিনিট ২৬ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ২৩ মে, ২০১৮, খ্রীষ্টাব্দ | ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

‘মানুষ হকল খালি আইন আমরারে লইয়া ফটো তুলবার লাগি’

newspic4july2017___002শিপন আহমদ, ওসমানীনগর ::
‘মানুষ হকল খালি আইন আমরারে লইয়া ফটো তুলবার লাগি। আইজ এক মাস ধরি পানির মাঝে আছি। ঘরও খাওয়ার মতো কুনতা নাই। ঘরো থাকি বার অইতাম পাররাম না। ভোট আইলে হখলেওউ লাম্বা মাত মাতইন, আর অখন আইছইন খালি ফটো তুলবার লাগি। এক সাপ্তা ধরি ফটো তুলতে-তুলতে আমরা হেরান অইগেছি। ফটো তুললে কিতা পেট ভরবোনি কউকা চাই’। এভাবেই সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় ক্ষোভ প্রকাশ করে সাংবাদিকদের বলছিলেন ওসমানীনগর উপজেলার সাদীপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ তাজপুর গ্রামের বানভাসি ত্রাণবঞ্চিত আফছর আলী (৬০) ও পার্শ¦বর্তী লামা তাজপুর গ্রামের ছায়ারুন বেগম (৩৮)।
অনুরূপভাবে সাংবাদিকদের দেখে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বালাগঞ্জ সদর ইউনিয়নের রাধাকোনা গ্রামের পানিবন্দি হাছনা বেগম বলেন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা-কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতীক নেতাসহ সব বয়সি মানুষ হাসিমুখে খালি হাতে আমাদের কাছে আসছেন আর ছবি তুলছেন। ছেলেরা বলে, তাঁরা নাকি পানিবন্দি লোকজনের সাথে সেলফি তুলতে এসেছে। কিন্তু আমরা শত কষ্টে থাকলেও আমাদের দুঃখ দেখার মানুষ নাই। ভোটের সময় জনপ্রতিনিধিরা লাখ লাখ বিলিয়ে দেন, কিন্তু বানভাসিদের কাছে এসে তারা বলেন, সরকারী বরাদ্দ আসলে দেওয়া হবে আমাদের কিছু করার নেই। বালাগঞ্জ ও ওসমানীনগর এক মাসের স্থায়ী বন্যায় পানিবন্দি লোকজনের সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে।
দুই উপজেলার পানিবন্দি লোকজনের মধ্যে বিশুদ্ধ পানির সংকট, গোখাদ্যের চরম সংকট ও ত্রাণের জন্য হাহাকার বাড়ছে। গৃহস্থালি জিনিসপত্র ও গৃহপালিত পশু নিয়ে মানুষজন বিপাকে পড়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্র ও কন্ট্রোল রুমের কথা বললেও দৃশ্যত এর কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাচ্ছে না বন্যাদুর্গতরা।
অন্যদিকে পানিবাহিত রোগের প্রার্দুভাব, পানি বিশুদ্ধকরণ ও রোগবালাই দমনে বালাগঞ্জ ও ওসমানীনগর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য বিভাগের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দ্রুত স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কিন্তু দুই উপজেলার স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আক্রান্ত এলাকায় না গিয়ে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন কর্মীদের দিয়ে তাদের বাসস্থানের পার্শ্ববর্তী এলাকায় ফটোসেশন করে সিভিল সার্জনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দেখিয়ে দায়িত্বের পরিসমাপ্তি ঘটাচ্ছেন।
ইতোমধ্যে বালাগঞ্জ উপজেলায় ১২ টন চাল ও ওসমানীনগর উপজেলার জন্য ৮ টন চালের বরাদ্দ এসেছে। এই যৎসামান্য এই বরাদ্দ বানভাসিদের জন্য কতটুকু সহায়ক হবে এই নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছে।
গতকাল রবিবার দিনব্যাপী বালাগঞ্জ ও ওসমানীনগরের কয়েকটি দুর্গত এলাকায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী, ওসমানীনগরের ইউএনও মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানসহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে সরকারী অনুদানের চাল বন্যার্তদের মধ্যে বিতরণ করেন।
একই দিন বিকেলে সিলেটের জেলা প্রশাসক রাহাত আনোয়ার বালাগঞ্জ উপজেলার বন্যায় দুর্গত কিছু সংখ্যক পরিবারের মধ্যে সরকারি বরাদ্দের চাল বিতরণ করেছেন। এসময় তাঁর সাথে ছিলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান আবদাল মিয়া,সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তাকুর রহমান মফুর, বালাগঞ্জের ইউএনও প্রদীপ সিংহ প্রমুখ। এদিকে বালাগঞ্জ ও ওসমানীনগর উপজেলার প্রায় দেড় শতাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ কমিউনিটি ক্লিনিক সংশ্লিষ্টদের বন্যা দুর্গত এলাকার মানুষদেরকে সার্বক্ষণিক সেবা প্রদানে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।




এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: