সর্বশেষ আপডেট : ৪৭ মিনিট ১৫ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮, খ্রীষ্টাব্দ | ১৩ ফাল্গুন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

মৌলভীবাজারে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

unnamed (3)জালাল আহমদ, মৌলভীবাজার:: মৌলভীবাজার জেলায় তৃতীয় দফা বন্যার সার্বিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। গত রোববার ও গত শুক্রবার বিকেলে উজানে বৃষ্টিপাত হলে বড়লেখা, জুড়ী ও কুলাউড়া উপজেলার বন্যাক্রান্ত এলাকায় পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন করে উঁচু এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। পানিবন্দী মানুষের সংখ্যা প্রতিদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বড়লেখা-মৌলভীবাজার সড়কের কয়েকটি স্থানে বন্যার পানিতে রাস্তা তলিয়ে গিয়ে জেলা সদরের সাথে বড়লেখা উপজেলার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। অনেকেই নিজ বাড়ি ছেড়ে আশ্রয় কেন্দ্রে উঠেছেন। দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় জুড়ী উপজেলা পরিষদ, কুলাউড়া উপজেলা পরিষদের ভেতরসহ পৌর এলাকার ৩টি ওয়ার্ড প্লাবিত হয়েছে। বন্যাকবলিতরা ত্রাণ চায় না, চায় পরিত্রাণ। কিন্তু পরিত্রাণের উপায়ও জানা নেই তাদের।

জেলার রাজনগর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়ন, মৌলভীবাজার সদর উপজেলার আখাইলকুড়া ইউনিয়নের কাদিপুর, নাজিরাবাদ ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। নতুন করে এসব এলাকার রাস্তাঘাটসহ মাধ্যমিক পর্যায়ের ২০টি স্কুল, প্রাইমারি ও মাদ্রাসা পর্যায়ে শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে।

এদিকে গত রোববার ভারী বৃষ্টি হওয়ায় নতুন করে বন্যার পানি বেড়েছে। কুশিয়ারা নদী এবং হাকালুকি, কাউয়াদীঘি ও হাইল হাওরের পানি না কমায় জেলার ৫টি উপজেলার ৫ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছেন। বন্যাকবলিত এলাকায় সার্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। জেলার ১৪২টি প্রাথমিক ও ৪১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ রয়েছে।
জেলার বড়লেখা, জুড়ী, কুলাউড়া, রাজনগর ও সদর উপজেলার ২৩টি ইউনিয়নে বন্যা দেখা দিলেও বিশেষত হাকালুকি ও কাউয়াদীঘি হাওর এলাকায় এর প্রকোপ বেশি। এখানকার অনেক গ্রামবাসী প্রতিবেশি ও আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। কিছু পরিবার আশ্রয় কেন্দ্রে উঠেছে। বড়লেখায় ৩টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, এখানকার বড়ো সমস্যা যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা। অনেক দিন ধরে রাস্তায় পানি। রাস্তায় বড়ো গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।

জুড়ীতে ৪টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। কুলাউড়া উপজেলার ৭০টি গ্রামের প্রায় ৭০ হাজার মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় আছে। এ উপজেলায় ৮টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। উপজেলার ভুকশিমইল ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান জানান, এ ইউনিয়নের ৭০ শতাংশ বাড়িঘরে পানি উঠেছে।

এছাড়া জেলার রাজনগর উপজেলায় পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন প্রায় ৩০ হাজার মানুষ। নৌকা ছাড়া ঘর থেকে বের হওয়ার কোনো উপায় নেই। পানি ওঠায় অনেকে মাচা বেঁধে কোনো রকমে টিকে থাকার চেষ্টা করছেন। এখানে ২টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। মৌলভীবাজার-রাজনগর-বালাগঞ্জ সড়কের ২ কিলোমিটার স্থান তলিয়ে গেছে পানিতে। বন্ধ হয়ে গেছে বাস চলাচলও। তাছাড়া মৌলভীবাজার সদর উপজেলায় প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে আছে।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, বড়লেখা, কুলাউড়া ও জুড়ী উপজেলার সুনাই, কন্টিনালা, জুড়ী নদী ও শতাধিক পাহাড়ি ছড়া দিয়ে ঢলের পানি নামে। এসব নদী ও ছড়া দিয়ে ভারতের পানিও নামে। এই পানি হাকালুকি হাওর হয়ে কুশিয়ারা নদী দিয়ে বের হয়। কুশিয়ারা নদীর পানি কিছুটা কমলেও শেওলায় ৭২ সেন্টিমিটার ও শেরপুরে ২৪ সেন্টিমিটার বিপদসীমার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক তোফায়েল ইসলাম জানান, পাহাড়ধ্বসের আশঙ্কায় সবাইকে সতর্ক করা হচ্ছে। মার্চ মাসের দুর্যোগের পর দফায় দফায় আশ্রয় কেন্দ্রসহ আক্রান্ত এলাকায় ত্রাণসামগ্রি বিতরণ অব্যাহত আছে।

 

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: