সর্বশেষ আপডেট : ১৯ মিনিট ২৭ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৮ আশ্বিন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বড়লেখায় ১২ মাধ্যমিক ও ৭৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম স্থগিত

unnamed (2)জালাল আহমদ, মৌলভীবাজার:: মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলায় ১২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ৭৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে। হাকালুকি হাওরে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় এ সকল বিদ্যালয়ের অনেকটিতে পানি ঢুকে পড়েছে। কোনো কোনোটির চারদিকে পানি। ফলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসা-যাওয়া করতে পারছে না। শিক্ষকরাও ক্লাস নিতে পারছেন না।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রোজার ছুটির পর গত ০১ জুলাই স্কুল খুলে। কিন্তু হাওরপারের স্কুলগুলোতে পানি ঢুকে পড়ায় শিক্ষা কার্যক্রম চালানো সম্ভব হয়নি। স্কুলের চারপাশ পানিতে ডুবে আছে। এতে ছাত্র-শিক্ষক সবার পক্ষে স্কুলে যাওয়া-আসা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠেছে।
উপজেলার হাকালুকি উচ্চ বিদ্যালয়, ইউনাইটেড উচ্চ বিদ্যালয়, কানসাই বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, টেকাহালি উচ্চ বিদ্যালয়, সোনাতলা উচ্চ বিদ্যালয়, মাইজগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়, ইটাউরি হাজী ইউনুছ মিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, পশ্চিম বর্ণি উচ্চ বিদ্যালয়, বর্ণি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, পাকশাইল উচ্চ বিদ্যালয়, হাজী শামছুল হক উচ্চ বিদ্যালয় ও ছিদ্দেক আলী উচ্চ বিদ্যালয়-এই ১২টি স্কুল বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে হাকালুকি ও ছিদ্দেক আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে খোলা হয়েছে বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র।unnamed (3)

পশ্চিম বর্র্ণি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল চন্দ্র সিংহ জানান, স্কুলে পানি উঠেছে। পার্শ্ববর্তী এলাকার রাস্তাঘাটও পানির নিচে। নৌকা দিয়ে স্কুলে এসেছি। আসবাবপত্রের নিচে ইট দিয়ে রাখা হয়েছে। কিন্তু বুঝতে পারছি না, কতোটুকু ভালো রাখা যাবে।
এদিকে ০৬ জুলাই থেকে উপজেলায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অর্ধ-বার্ষিক ও প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা। বন্যার কারণে ওইদিনের বাংলা পরীক্ষা পিছিয়ে ২৩ জুলাই ও ০৮ জুলাইয়ের ইংরেজি পরীক্ষা ২৪ জুলাই পিছিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সমীর কান্তি দেব জানান, স্কুলঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। ছাত্র-শিক্ষক কারও গমনের উপায় নেই। দু’টি পরীক্ষার তারিখ পেছানো হয়েছে।

অপরদিকে উপজেলার ৭৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্যা আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৫৩টির ক্লাসরুমে পানি ঢুকে পড়েছে। ১৫টির চারদিকে পানি এবং ৭টিতে আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। উপজেলার হাকালুকি সংলগ্ন বর্ণি ইউনিয়নের ১৬টির মধ্যে ১৬টিতেই পানি ঢুকেছে। তালিমপুর ইউনিয়নের ১৫টির মধ্যে ১৪টিতে ও সুজনাগর ইউনিয়নের ১৩টির মধ্যে ১৩টিই পানিবন্দী রয়েছে। এছাড়া দাসেরবাজার, নিজবাহাদুরপুর, উত্তর শাহবাজপুর, দক্ষিণভাগ দক্ষিণ ইউনিয়নসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের বিভিন্ন বিদ্যালয়ে বন্যার পানি ঢুকেছে।
অন্যদিকে উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের কবিরা হাজী ও সায়পুর; তালিমপুর ইউনিয়নের হাকালুকি; দাসেরবাজার ইউনিয়নের দাসেরবাজার ও দক্ষিণ বাগিরপার; সুজানগর ইউনিয়নের আজিমগঞ্জ এবং দক্ষিণভাগ দক্ষিণ ইউনিয়নের রাঙাউটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে।
বর্র্ণি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কায়েদে আজম জানান, এলাকার সবক’টি রাস্তা পানির নিচে। স্কুলেও পানি। ছোটো বাচ্চাদের স্কুলে আসার উপায় নেই। আমরা পানিবন্দী অবস্থায় আছি।

এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারি প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো: শহীদুল্লাহ জানান, এ পর্যন্ত ৫৩টি প্রতিষ্ঠানের শ্রেণীকক্ষে পানি, ১৫টির চারদিকে পানি ও ৭টিতে আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। বন্যায় আক্রান্ত বিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: