সর্বশেষ আপডেট : ৩ মিনিট ১৯ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ২৫ জুলাই, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ১০ শ্রাবণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

চিকুনগুনিয়া থেকে রক্ষার উপায়

1498923879মো. আব্দুল বাকী চৌধুরী নবাব:: সার্স, বার্ড ফ্লু, নিপা ভাইরাস, জিকা ভাইরাস, ইত্যাদির তাণ্ডব শেষ হতে না হতেই এখন আবার আর একটি ব্যাধির নাম সবার মুখে মুখে। সেটা হলো চিকুনগুনিয়া। অনেক সুধীজন বলে থাকেন যে, বর্তমানে অমঙ্গলের কবলে পড়েছে ধরিত্রী। একের পর এক ভাইরাসজনিত রোগ মানুষকে দৈহিক ও মানসিক দিক থেকে রুগ্ন ও অপ্রকৃতস্থ করে তুলছে। শান্তি ও সুখ যেন বিশ্ব থেকে ধীরে ধীরে বিদায় নিচ্ছে। অনেকে এমনও আশঙকা করছেন যে এখন তো কলিকাল। এ ধরনের আজব রোগ তো হবেই।

আসলে চিকনগুনিয়া কী? এটি বিশেষ ধরনের ভাইরাসজনিত অসহনীয় ব্যাথা সম্বলিত যন্ত্রণাদায়ক জ্বর। এই জ্বরে আক্রান্ত ব্যক্তির দেহের তাপমাত্রা ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত ওঠে। কিন্তু জ্বর বেশী দিন থাকে না। তারপর মাথায় দেখা দেয় তীব্র ব্যথা। একই সাথে প্রচণ্ড ব্যথা ছড়িয়ে পড়ে সারা শরীরে বিশেষ করে হাঁটুতে এবং হাত ও পায়ের গিরায় গিরায়। প্রচণ্ড ব্যথায় রোগীদের এমন অবস্থা হয় যে, হাঁটতে পর্যন্ত পারে না। মাংসপেশী এবং পায়ের তলায়ও থাকে তীব্র ব্যথা। শরীর ভীষণ দুর্বল হয়ে যায়। অনেকে আবার কয়েক মিনিট পরপর বমি করে থাকে। খাওয়ার রুচি থাকে না একেবারেই। জোর করেও খাওয়ানো যায় না রোগীকে।

ইতোমধ্যে বিভিন্ন রোগীর রক্ত পরীক্ষার পর রোগ তত্ত্ব, নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট তথা আইইডিসিআর জানিয়েছে যে, ডেঙ্গু জ্বরের জন্য দায়ী এডিস প্রজাতির এডিস ইজিপ্টি এবং এডিস এলবোপিকটাস নামের মশা, যা থেকেই চিকুনগুনিয়া রোগের সংক্রমণ ঘটে। চিকুনগুনিয়া টোগা ভাইরাস গোত্রের ভাইরাস জনিত রোগ। মশাবাহিত হওয়ার কারণে একে আরবো ভাইরাসজনিত জ্বর বলা হয়। এসব মশা সাধারণত পানিতে জন্মায়। মূলত ভোরে ও সন্ধ্যায় মানুষকে কামড়ায়। সাধারণত মশা চিকুনগুনিয়া আক্রান্ত ব্যক্তিকে কামড়ানোর পর যদি সুস্থ মানুষকে কামড়ায়, তখন এই রোগ সংক্রমিত হয়। কামড়ানোর ৪ থেকে ৮ দিনের মাথায় এই রোগ দেখা দেয়। জানা যায়, প্রথম এই রোগের প্রার্দুভাব ঘটে ১৯৫২ সালে মোজাম্বিক ও তানজানাইকার বর্ডার ঘেঁষে মেকোনন্ডি এলাকায় (বর্তমানে তানজানিয়ার অংশ বিশেষ)।

অনেকের ভাবনায় এ প্রশ্নটি আসতে পারে যে, এর নাম চিকুনগুনিয়া কেন? চিকুনগুনিয়া শব্দটি এসেছে তদঞ্চলের স্থানীয় কিমাকন্ডি ভাষা থেকে। এর অর্থ হলো তীব্র মোচড়জনিত ব্যথা । তাছাড়া হাঁটুসহ বিভিন্ন স্থানে এমন ব্যথা হয় যে রোগীকে নুঁইয়ে ফেলে এবং তনু মনে অবসাদ এসে ভর করে। এই রোগ প্রায় সত্তর বছরের পুরাতন হলেও অদ্যাবধি এর প্রতিশোধক আবিস্কৃত হয়নি। এই অসুখ হলে মনগড়া কোন ঔষধ না খেয়ে বরং বিশ্রাম নেয়া এবং প্রচুর তরল জাতীয় খাদ্যদ্রব্য গ্রহণ করা অধিকতর শ্রেয়। বাস্তবে দেখা গিয়েছে যে জ্বর নিরাময়ের পরেও ব্যথা থেকে যায়। এটি তিন থেকে চার মাস পর্যন্ত এমনকি এর বেশী থাকতে পারে। এই রোগ মারাত্মক বা জীবন বিনাশী না হলেও হেলা-ফেলা করা উচিত নয়।

রাজধানী ঢাকার দু’টি সিটি করপোরেশনসহ বাংলাদেশে অগনিত মানুষ আজ চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত। বলতে গেলে এডিস মশার কারণে রাজধানীতে চিকুনগুনিয়া এখন ঘরে ঘরে। ডেঙ্গুর মতো চিকুনগুনিয়ার জীবাণু ছড়ায় এডিস মশা। এই দুই জ্বরের লক্ষণের মধ্যে সামঞ্জস্যও রয়েছে। এক সময় এডিস মশার মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ডেঙ্গু ভাইরাস জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়েছিল। আর ২০০৮ সালের প্রথমদিকে বাংলাদেশে চিকুনগুনিয়া ভাইরাসের অস্তিত্ব ধরা পড়ে। আট/নয় বছর ধরে এ ভাইরাস নিয়ে তেমন উচ্চবাচ্চ্য না হলেও গত মে মাস থেকে এ রোগের প্রকোপ ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। হয়তো বর্ষা মৌসুম শেষ হলে এতটা থাকবে না। এই রোগ যাতে না হয় সেদিকেই এখন সচেষ্ট হতে হবে ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। যদি হয়েই বসে, তখন ক) আক্রান্ত সন্ধিতে বরফ সেঁক দিলে ব্যথা কম অনুভব হতে পারে। তাছাড়া গামছা বা তোয়ালে বা নরম কাপড়ে বরফকুচি নিয়ে ব্যথার স্থানে তিন থেকে পাঁচ মিনিট ধরে সেঁক দিলে ব্যথা কমে আসবে। অবশ্য সরাসরি বরফ লাগালে উল্টো ফল হতে পারে। খ) এটা সত্য যে, ব্যথার স্থানে রক্ত চলাচল করলে ব্যথা কিছুটা কমে আসে। আর সেটা মাথা রেখে ম্যাসাজ করলে রক্ত চলাচল বেড়ে ব্যথা তুলনামূলক হ্রাস পাবে। তবে অধিক সময় ম্যাসাজ করা ঠিক হবে না। কেননা এতে সন্ধির টিস্যুর সমস্যা হতে পারে। গ) এক্ষেত্রে ফিজিওথেরাপি তুলনামূলক উপকারী। ঘ) এছাড়া আমরা যে খাওয়ার হলুদ ব্যবহার করি, তাতে এক ধরনের উপাদান আছে, যা চিকুনগুনিয়াজনিত ব্যথা কমাতে সহায়তা করে থাকে বিধায় এক গ্লাস দুধে আধা চামচ হলুদের গুড়া মিশিয়ে দিন রাত্র মিলে দু’বার খেলে উত্তম ফল পাওয়া যায়, (যা ইতোমধ্যে পরীক্ষিত)। প্রয়োজনে নেওয়া যেতে পারে ডাক্তারের পরামর্শও।

n লেখক : গবেষক

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: