সর্বশেষ আপডেট : ৬ মিনিট ৪৮ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ২৭ মে, ২০১৮, খ্রীষ্টাব্দ | ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

হাকালুকি হাওর তীরের কুলাউড়ার ৪টি ইউনিয়ন বন্যা কবলিত, পানিবন্দি ৩৫হাজার পরিবার

unnamed (3)তারেক হাসান:: হাকালুকি হাওর পারের বন্যাকবলিত মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। বাড়ি ঘর ডুবে যাওয়ায় অনেকে আশ্রয় নিয়েছেন আতœীয় স্বজনের বাড়ি ও আশ্রয় শিবির গুলোতে। বিভিন্ন স্থানে রাস্থা ডুবে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। হাকালুকি হাওরে প্রতিদিন পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে কুলাউড়া উপজেলার ৪টি ইউনিয়ন বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। বন্যা কবলিত এলাকাগুলোতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অর্ধবার্ষিকী পরীক্ষা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এছাড়াও গবাদী পশুর গো-খাদ্য নিয়ে পানিবন্দিরা চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন যাপন করছেন। এখন বন্যার জলে ভেসে আসা কচুরিপানাই গোবাদি পশুর বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন। ক্ষতিগ্রস্থ ইউনিয়ন গুলি হচ্ছে ভুকশিমইল, ভাটেরা, কাদিপুর ও জয়চন্ডি এ সকল ইউনিয়ন গুলির ৩৫হাজার পরিবার বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। বন্যাকবলিত এলাকায় চলাচলের একমাত্র মাধ্যম এখন নৌকা ও ঝুঁকিপূর্ণ ভেলা। বিশুদ্ধ খাবার পানির তিব্র সংকট দেখা দিয়েছে।unnamed (4)

ভূকশিমইল ইউনিয়নের সবগুলি গ্রাম’ই এখন বন্যা কবলিত। ভূকশিমইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আজিজুর রহমান মনির জানান ইউনিয়নের ২২টি গ্রামের সব কটি বাড়িতে পানি ঢ়ুকেছে। মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ গ্রামগুলি হচ্ছে সাদিপুর, কুরবানপুর, নাছিরপুর, জালালপুর, বড়দল, কাড়েরা, কানেহাত, চিলারকান্দি, কালেশার, জাব্দা, মুক্তাজিপুর, শশারকান্দি, মদনগৌরি, গৌড়করন ও মনসুরগঞ্জ। এ সকল গ্রামের অধিকাংশ পানিবন্ধি পরিবারের মানুষ অশ্রয় নিয়েছে আত্বীয় স্বজন ও আশ্রয় কেন্দ্রে। কেউ কেউ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হাকালুকি হাওরের প্রচন্ড ঢেউ এর মধ্যে ঘর পাহারা দিচ্ছে। অধিকাংশ মানুষের খাবারের কোন ব্যবস্থা নেই, শুকনো খাবার তাদের বেঁচে থাকার একমাত্র উপায়। ইউনিয়নের কানেহাত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চিলারকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কালেশার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জাব্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মুক্তাজিপুর, শশারকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাদে ভূকশিমইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কাইরচক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মদনগৌরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গৌড়করন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মনসুরগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চিলারকান্দি এবতেদায়ী মাদ্রাসা, গৌড়করন মাদ্রাসা, সপ্তগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়, ভূকশিমইল স্কুল এন্ড কলেজ, নবীগঞ্জ আর্দশ উচ্চ বিদ্যালয় সহ মোট ১৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্লাসরুমে পানি থাকায় বন্ধ হয়ে গেছে। ইউনিয়নে ৩টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

ভাটেরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ একেএম নজরুল ইসলাম জানান তার ইউনিয়নে ১৫টি গ্রামের প্রায় ৭শতাধিক পরিবার বন্যা কবলিত হয়েছে। ২০০৪ সালের পর এইবারের মত বন্যা অতীতে আর দেখা যায় নাই। এই সব গ্রামের লোকজন খুব কষ্টের মধ্যে দিন যাপন করছে। এই ইউনিয়নটি হাকালুকি হাওরের তীরে হওয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে বাড়ি ঘর। বন্যা কবলিত গ্রামগুলি প্রাথমিক বিদ্যালয় শনিবার খুললেও শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না। বোরো ধান নষ্ট হওয়ার পর গ্রামবাসিরা ধার দেনা করে আউস ধান রোপন করেছিল তাও হাকালুকি হাওরের ঢেউ এবং কচুরীপানায় সেই সকল ধান ক্ষেতের আশা চাষীরা ছেড়ে দিয়েছে।

কাদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান সালাম জানান, ইউনিয়নের ১৬টি গ্রামের প্রায় ৬হাজার ৫শত পরিবার বন্যা কবলিত হয়ে অনাহারে অর্ধহারে দিন যাপন করছে। এসকল গ্রামের মাটির দেয়াল ধ্বসে পড়ছে। ক্ষতিগ্রস্থ গ্রামগুলি হচ্ছে লক্ষিপুর, তিলকপুর, রফিনগর, গোপিনাথপুর, গুপ্তগ্রাম, মইনতাম, সম্পূর্ন রুপে পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এই সকল গ্রামের খেটে খাওয়া মানুষ কাজের অভাবে দুর্ভোগে পড়েছে। ইউনিয়নের বন্যা কবলিত প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলির মধ্যে কাদিপুর, ফরিদপুর, ছকাপন বিদ্যালয়ে আশ্রয় শিবির খোলা হয়েছে। কুলাউড়া-গুপ্তগ্রাম ভায়া ছকাপন পাকা সড়কের উপর দিয়ে ৪ ফুট পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

জয়চন্ডি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য লোকমান মিয়া ও চেয়ারম্যান কমর উদ্দিন আহমদ কমরুর বরাত দিয়ে জানান তার ইউনিয়নের ১৯টি গ্রামের ৫হাজার ৬শত পরিবার বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। বন্যার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। পানি বৃদ্ধি হলে নি¤œাঞ্চলের আরো গ্রাম নতুন করে প্লাবিত হওয়ায় সম্ভাবনা রয়েছে। সরকার থেকে প্রাপ্ত সাহায্য বিলিবন্টন করা হয়েছে।

হাকালুকি হাওরের পানি বৃদ্ধির ফলে কুলাউড়া পৌর সদরের নি¤œাঞ্চল বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। কুলাউড়া পৌরসভার রাবেয়া আর্দশ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, উপজেলা পরিষদ চত্বর, কুলাউড়া মহিলা ডিগ্রী কলেজ সড়কসহ বিভিন্ন সড়কের উপর হাটু কোথাও কোমর পানি হয়ে পড়েছে। শহরের নিচু এলাকাগুলির বাসাবাড়ীতে পানি উঠতে শুরু করেছ।

কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার চৌধুরী মোঃ গোলাম রাব্বি জানান উপজেলার বন্যা কবলিত এলাকায় ৮টি আশ্রয় শিবির খোলা হয়েছে। সরকার থেকে প্রাপ্ত ৪৫মেট্রিক টন চাল ও ১লাখ ৫০হাজার টাকা বরাদ্ধ পাওয়া গেছে।




এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: