সর্বশেষ আপডেট : ৬ মিনিট ২৯ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ২৬ মে, ২০১৮, খ্রীষ্টাব্দ | ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

স্বেচ্ছাশ্রমে সরানো হলো বড়লেখা-ডিমাইবাজার সড়কের মাটি

unnamed (7)মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি:: মৌলভীবাজারের বড়লেখা-ডিমাইবাজার সড়কে সম্প্রতি পাহাড়ধ্বসে গত কয়েকদিন ধরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছেন এলাকাবাসী। সরকারি উদ্যোগের অপেক্ষা না করেই স্বেচ্ছাশ্রমে টিলাধ্বসের মাটি সরিয়ে ফেলেন এলাকার লোকজন। গত ৪দিন থেকে এ মাটি সরানোর কাজ চলছে। গত ২১ জুন রাত থেকে মাটি সরিয়ে ফেলার কাজ চলে। এই রাস্তায় টিলার মাটি পড়ার কারণে গত ১ সপ্তাহ ধরে সদর ইউনিয়নের ডিমাই এলাকার অন্তত ২০ হাজার মানুষ অনেকটাই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিলেন।

এলাকাবাসী সূত্র জানায়, গত ১৭ জুন রাতে অতি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বড়লেখা-ডিমাইবাজার সড়কে বনবিভাগের অফিসের সামনে প্রায় ৫০০ ফুট এলাকায় টিলার মাটি ধ্বসে পড়ে। ফলে এ সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। পায়ে হেঁটে যাতায়াত করাও সম্ভব হয়নি লোকজনের। এই পরিস্থিতিতে এলাকাবাসী অনেকটাই গ্রামের মধ্যে আটকা পড়েন। এই সড়ক দিয়েই ডিমাই এলাকার মানুষ উপজেলা সদরে আসা-যাওয়া করেন। ডিমাই এলাকায় সদর ইউনিয়নের ৩টি ওয়ার্ড রয়েছে। এসব ওয়ার্ড মিলিয়ে অন্তত ২০ হাজার মানুষ বসবাস করেন। এই অবস্থায় সদর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সিরাজ উদ্দিন এলাকার জনসাধারণকে সাথে নিয়ে রাস্তার ওপর থেকে মাটি অপসারণের কাজ শুরু করেন।

এলাকার মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে রাতে আলো জ্বালিয়ে গত ২১ জুন রাতে বড়লেখা-ডিমাইবাজার সড়কের উপর পড়ে থাকা মাটি সরানোর কাজ শুরু হয়। প্রথম রাতেই অন্তত ২০০ জন লোক এবং পরের দিন রাতে আরও ১৫০ জনন লোক হাতে কোদাল নিয়ে নিয়ে মাটি সরানোতে অংশ নেন। রোজার কারণে রাতে কাজ করা হয়। দু’দিনের কাজে পায়ে চলার পথ তৈরি হয়েছে। কিন্তু যানবাহন চলাচলের উপযোগী হয়ে ওঠেনি এখনও। এদিকে দ্রুত কাজ শেষ করতে নগদ টাকা দিয়ে সহযোগিতাও করেন অনেকে। মো: আবদুল্লাহ নামের এক ব্যক্তি ১০ হাজার টাকা দিয়েছেন। আরও ২০ হাজার টাকা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। নগদ টাকা পাওয়ায় গত ২৪ জুন এস্কাভেটর (মাটি কাটার যন্ত্র) ভাড়ায় নিয়ে মাটি সরানোর কাজ শুরু হয়। এই এস্কাভেটর দিয়ে কাজ করালেও সড়ক পুরোপুরি যানবাহন চলাচলের উপযোগী করতে আরও ১ সপ্তাহ সময় লাগবে। মানুষজন এ কাজটি করলে লাগবে ১ মাস।

উত্তর ডিমাই এলাকার ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান-২ সৈয়দ লুৎফুর রহমান জানান, তার এলাকায়ও টিলাধ্বসে রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে। তিনিও গত ২৪ জুন থেকে স্বেচ্ছাশ্রমে মানুষ নিয়ে রাস্তার মাটি সরানোর কাজ শুরু করেন।

এদিকে রাস্তার মাটি সরানোর জন্যে উপজেলা প্রশাসনের জরুরী তহবিল থেকে ২৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হলেও টাকা ছাড় দেয়া হয়নি। বড়লেখা সদর ইউপি চেয়ারম্যান সোয়েব আহমদ মাটি সরাতে লোকবলের মজুরির জন্য নগদ ৬ হাজার টাকা দিয়েছেন।
ইউনিয়নের ৯রং ওয়ার্ডের মেম্বার সিরাজ উদ্দিন জানান, ডিমাই এলাকাতে ৩টিা ওয়ার্ডে অন্তত ২০ হাজার মানুষের বাস। মাটি ধ্বসে পড়ায় রাস্তা দিয়ে পায়ে চলাই দায় ছিলো। এলাকার লোকজনকে সাথে নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে মাটি সরানোর কারণে এখন পায়ে হাঁটার একটা ব্যবস্থা হয়েছে। এলাকার বিত্তশালীরা টাকা দিচ্ছেন। এ জন্য এস্কাভেটর দিয়ে কাজ শুরু করা হয়। রাস্তায় অনেক মাটি উপর দিক থেকে পড়েছে। তা সরাতে প্রায় ২ লাখ টাকা লাগবে। স্থানীয় প্রশাসন অবশ্য কিছু টাকা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত ইউএনও সমীর বিশ্বাস জানান, সংশ্লিষ্ট এলাকার জনপ্রতিনিধিরা স্থানীয়ভাবে কাজ করার চেষ্টা করছেন। কাজ চলমান আছে। স্থানীয়ভাবে কিছু ফান্ড করছেন। ডোনাররাও টাকা দিচ্ছেন। প্রশাসনের কাছেও তারা আবেদন করেছেন। তবে প্রশাসন থেকে এখনও কোনো অর্থ দেয়া হয়নি। শীঘ্রই দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে।




এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: