সর্বশেষ আপডেট : ১৩ মিনিট ২৫ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৯ আশ্বিন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ছবিতেই চুমু খায় এসি রবিউলের মেয়ে

Manikganj20170701085320নিউজ ডেস্ক:: গুলশানের হলি আর্টিসান রেস্তোয়ায় জঙ্গি হামলায় নিহত পুলিশ কর্মকর্তা রবিউল করিমের পরিবারের শোক এখনো কাটেনি। থামেনি মা আর স্ত্রীর কান্না। শুধু পরিবারে নয় নিজ গ্রামের মানুষও তার শূন্যতা অনুভব করেন প্রতিনিয়ত।

জন্মের মাত্র এক মাস আগে পৃথিবী থেকে বিদায় নেয়া বাবাকে খুঁজে ফেরে ছোট্ট মেয়ে রাইনা। আধো আধো কণ্ঠে বাবা ডাকতে শিখেছে সে। ১১ মাস বয়সি কামরুন নাহার রাইনা বাবার ছবিতে চুমু খায়, আদর করে। বাবা হারানোর বেদনা তাড়িয়ে বেড়ায় ৮ বছরের ছেলে সাজিদুল করিম সামীকেও।

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার আটিগ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন সাহসী পুলিশ কর্মকর্তা রবিউল করিম। ডাক নাম কামরুল। গ্রামের ছোট বড় সবার সঙ্গেই ছিল তার সুসম্পর্ক। রবিউলের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তার ছোট্ট দুই শিশু সন্তান বেলুন নিয়ে খেলা করছে। সাংবাদিক আসার খবরে এগিয়ে আসেন তার স্ত্রী ও মা।

তারা সবাই সাভারের বাসাতেই থাকেন। ঈদের সময়টা কাটানোর জন্য গ্রামের বাড়ি এসেছেন। রবিউলের কবরও গ্রামের গোরস্থানে।

কথা বলতে বলতে শাড়ির আচঁল দিয়ে রবিউলের বাঁধানো ছবিটি মুছছিলেন স্ত্রী উম্মে সালমা। ছবির দিকে এক পলকে তাকিয়ে থাকেন ছেলে সামী। আর অবুঝ রাইনা তাতে চুমু খাচ্ছিল একের পর এক।

রবিউলের স্ত্রী উম্মে সালমা জানান, মেয়েটি সবার আগে বাবা ডাকতে শিখেছে। তার সামনে বাবার ছবি এগিয়ে দিলে তাতে চুমু খায়, আদর করে। যেন বাবাকে সে অনেক আগে থেকেই চেনে। ছেলেটি ঘুমাতে গেলে কষ্ট পায় সবচেয়ে বেশি।কারণ ওর বাবা বাসায় না আসা পর্যন্ত ও জেগে থাকতো। বাসায় এসেই ছেলেকে নানা গল্প শুনাতো, ছেলের সঙ্গে খেলতো, ঘুম পাড়িয়ে দিত। বাবার সেই আদর ও খুব মিস করে।

বাবা আর কখনো ফিরে আসবে কিনা প্রায়ই প্রশ্ন করে সামী।

উম্মে সালমা বলেন, ঈদের আগের রাতটা খুব কষ্টে গেছে।কারণ ওই রাতেই রবিউলের বাসায় ফেরার কথা ছিল।ডিউটি ছেড়ে যদি আসতে নাও পারতো তাহলে ঈদের দিন সকালে আসতো। কিন্তু সে এসেছে ঠিকই। আমরা যেভাবে প্রত্যাশা করেছিলাম সেভাবে আসেনি। তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্মানের সঙ্গে আসতে হয়েছে। কিন্তু আমরা যেভাবে চেয়েছিলাম সেভাবে আসেনি। আর কখনো আসবেও না। বলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন সালমা।

চোখের পানি মুছতে মুছতে সালমা জানান, রবিউল দেশের জন্য জীবন দিয়েছে। শুধু দেশবাসী নয় সারা বিশ্বকে তার পরিচয় জানিয়ে গেছে। আমি একজন বীরের স্ত্রী। এই সন্তানদের বাবার আদর্শে গড়ে তোলাই আমার এখন একমাত্র স্বপ্ন।

বাবা মারা যাওয়ার পর রবিউল করিমই ধরেন সংসারের হাল। ছোট ভাই আর মাকে কখনো বাবার অভাব বোধ করতে দেননি। এমন নানা কথা আর ছেলের স্মৃতি তুলে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন মা করিমন নেছা।

বাবার কথা জিজ্ঞাসা করলে রবিউলের ছেলে সামি জানায়, তার বাবা অনেক আদর করত। ঘুম পাড়িয়ে দিত। খেলনা কিনে দিত। আকাশের দিকে আঙ্গুল উচিয়ে বলে এখন তার বাবা আকাশের তারা হয়ে গেছে।

রবিউল গ্রামের বাড়িতে প্রতিষ্ঠা করে গেছেন ব্লুমস নামে একটি প্রতিবন্ধী স্কুল। ৩০ জন শিক্ষার্থী আছে সেখানে। তার অবর্তমানে স্কুলটি অর্থাভাবে ধুকছে। রবিউলের বন্ধু বান্ধব আর শুভাকাঙ্ক্ষিদের সহযোগিতায় কোনোমতে চালু রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

স্কুল পরিচালনা কমিটির সদস্য জাহাঙ্গীর আলম জানান, যত কষ্টই হোক রবিউল করিমকে বাঁচিয়ে রাখতে প্রতিষ্ঠানটি আমরা চালু রাখবো। এজন্য সরকারসহ সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা চান তারা।

এছাড়া রবিউল করিমের স্বপ্ন ছিল নিজ গ্রামে একটি প্রবীণ নিবাস করার। তার সে স্বপ্ন পুরণের ইচ্ছে থাকলেও টাকার অভাবে শুরু করতে পারছেন না পরিবার।

দেশের জন্য এসি রবিউলের আত্মত্যাগকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে মানিকগঞ্জ জেলা পুলিশ লাইন্স এর প্রধান গেট তার নামে নামকরণ করা হয়েছে।নির্মাণ করা হয়েছে একটি মুর্যাইলও।

যেখানে লেখা রয়েছে-

“জীবনের অধিক মৃত্যু হয় যার
তাকে মনে রাখে জগৎ সংসার
এই দেশই তাই তোমার মুখচ্ছবি
নিশীথে চাঁদ, দিবসে রবি।
তুমি রবিউল করিম, তুমি বীর
তুমি না মায়ের, না ভাইয়ের, না স্ত্রীর
তুমি মহাকালের মহাসন্তান
তুমি নিলে তাই সর্ব হৃদয়ে স্থান।”

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: