সর্বশেষ আপডেট : ৪ ঘন্টা আগে
বুধবার, ২৬ জুলাই, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ১১ শ্রাবণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

তাহমিদ বিদেশে, হাসনাতের বিষয়ে এখনো রহস্য

Hasnat-Tahmid (1)নিউজ ডেস্ক:: গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার ঘটনায় সন্দেহভাজনদের একজন তাহমিদ হাসিব খান মামলা থেকে মুক্তি পেয়ে এখন বিদেশে অবস্থান করছেন। অপরদিকে সন্দেহভাজন বেসরকারি নর্থ-সাউথ ইউনিভার্সিটির সাবেক শিক্ষক হাসনাত রেজাউল করিম মূল মামলায় আটক থাকলেও তার জড়িত থাকার ব্যাপারে কোনো তথ্যই জানাচ্ছে না মামলার তদন্ত সংস্থা। এই মামলায় অনেকেরই নানাভাবে জড়িত থাকার কথা পুলিশ ব্রিফিং করে জানালেও হাসনাতের জড়িত থাকার ব্যাপারে কোনোভাবেই মুখ খুলছে না তদন্ত সংস্থা বা পুলিশ।

হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার ঘটনায় সন্দেহভাজন হাসনাত রেজাউল করিম ঘটনার সঙ্গে জড়িত কিনা–এ প্রশ্ন এখন জোরালোভাবে আলোচনায় আসলেও রহস্যজনক কারণে মুখ খুলছে না পুলিশ। তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনো কিছুই বলা যাচ্ছে না। তার বিষয়ে নিশ্চিত হতে আরো সময় লাগবে। তবে তদন্ত সংস্থা কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেছেন, হাসনাত করিম এই মামলার সাসপেক্টেড আসামি। সে কারণেই তাকে মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে এবং এখন তিনি কারাগারে আছেন। তদন্ত পুরোপুরি শেষ হলে তার সংশ্লিষ্টতাসহ সবকিছু জানানো হবে।

হলি আর্টিজানে হামলার পরদিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে গুলশানের হলি আর্টিজানে জিম্মি দশার একটি ভিডিওচিত্র প্রকাশ হওয়ার পর হাসনাত করিম ও তাহমিদের বিরুদ্ধে হামলায় জড়িত থাকার সন্দেহের কথা উঠে আসে। হাসনাত করিম ও তাহমিদ হাসিব খানের গতিবিধির ভিডিও ফুটেজ, ছবি এবং তার অতীত কিছু কর্মকাণ্ডে অনেকেই তাকে নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। এরপর গত বছর ৩ আগস্ট হাসনাত রেজাউল করিম ও তাহমিদকে সন্দেহভাজন হিসেবে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে গত বছরের ৩ অক্টোবর তাহমিদকে ৫৪ ধারার সেই অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয় আদালত। এতে তিনি মুক্তি পেলেও সেদিনই তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৭৬ ধারায় তদন্তকাজে কোনো তথ্য দিয়ে সহযোগিতা না করার অভিযোগ এনে নতুন মামলা করে পুলিশ। এ মামলায় জামিনে ছিলেন তাহমিদ। এরপর সেই মামলায়ও খালাস পান তাহমিদ। এরপর তিনি কানাডায় চলে যান। হলি আর্টিজানের হামলার ঘটনায় করা মামলা থেকে তাহমিদ খালাস পেলেও হাসনাতকে সন্ত্রাস দমন আইনে করা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। বর্তমানে তিনি কাশিমপুর কারাগারে আছেন।

হাসনাত করিম এই ঘটনায় কতটা সম্পৃক্ত বা তার জড়িত থাকার প্রমাণ কি? এমন প্রশ্নে তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম বিভাগের কর্মকর্তারা বরাবরই বলে আসছেন তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কিছুই বলা যাবে না। তবে হলি আর্টিজান হামলার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে গ্রেফতারকৃত রাজিব গান্ধী, মিজানুর রহমান বড় মিজান, রাকিবুল ইসলাম রিগানের সম্পৃক্ততার তথ্য প্রকাশ করেছে তদন্ত কর্মকর্তারা। হাসনাত রেজাউল করিমের ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। এমনকি এখন পর্যন্ত আদালতে তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেয়া হয়নি। হাসনাত করিম ২০০৭-০৮ শিক্ষাবর্ষে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হিজবুত তাহরীরের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা থাকার অভিযোগে ২০১২ সালে তাকে চাকরি ছেড়ে দিতে বাধ্য করে নর্থ সাউথ কর্তৃপক্ষ। হলি আর্টিজানে হামলার মাস্টার মাইন্ড তামিম চৌধুরীর সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল। তামিম চৌধুরী ও হাসনাত মিলে ১ জুলাই গুলশানে হলি আর্টিজানে হামলার দিন-ক্ষণ নির্ধারণ করেন বলে অভিযোগ । ঘটনাস্থলে থাকা ও পুরো বিষয়টি মনিটরিংয়ের জন্য আগে থেকেই মেয়ের জন্মদিন পালনের নামে হলি আর্টিজানের দুটি টেবিল বুকিং দিয়েছিলেন তিনি। নিজেকে সন্দেহের ঊর্ধ্বে রাখতে ঘটনার কিছুক্ষণ আগে রাত ৮টার দিকে সে দুই সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে সেখানে হাজির হন। হলি আর্টিজানে হামলার রাতে হাসনাতের দায়িত্ব ছিল দেশি-বিদেশি নাগরিকদের জিম্মি করে হত্যার ভিডিওচিত্র ধারণ ও মোবাইলের বিশেষ অ্যাপ ব্যবহার করে সেটি দেশের বাইরে পাঠানো।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: