সর্বশেষ আপডেট : ৫৫ সেকেন্ড আগে
বৃহস্পতিবার, ২৭ জুলাই, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ১২ শ্রাবণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

নবীগঞ্জে গ্রামবাসীর স্বেচ্ছাশ্রমে সংস্কার হচ্ছে সড়ক

unnamed (3)মতিউর রহমান মুন্না, নবীগঞ্জ:: হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার বাউশা ইউনিয়নের বাশডর এলাকায় প্রায় ২০ বছর আগে কাঁচা সড়কটি ইট সলিং হয়েছিল এর পরে এক মুঠো মাটি পর্যন্ত পড়েনি। এলাকাবাসী সড়কটি সংস্কারের আবেদন করতে করতে ত্যক্ত-বিরক্ত হয়ে পরেছেন। তাদের চলাচলের একমাত্র সড়কের বেহাল দশা হওয়ার ফলে গ্রামবাসীর ভোগান্তি বেড়েছে চরম পর্যায়ে। তবে এবার আর করো কাছে কোনো আবেদন নয়, ঈদে ভ্রমনে না গিয়ে কোন আনন্দ না করে এলাকার যুবকেরাই স্বেচ্ছাশ্রমে শুরু করে দিল সংস্কারের কাজ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার বাউশা ইউনিয়নের বাশডর, দাশেরকোনা ও দেবপাড়া গ্রামের চলাচলের একমাত্র ভরসা প্রায় সাড়ে ৪ কিলোমিটারের এই সড়ক। এই গ্রামে রয়েছে দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৬টি মসজিদ, ২টি মন্দির। জনসংখ্যা প্রায় ৭ হাজারের মতো।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় ২০ বছর আগে তাদের প্রধান এই কাচা সড়ক ইট সলিং হয়েছিল। এর পর থেকেই ধীরে ধীরে ইট উঠে যায়। একপর্যায়ে বেহাল দশা বিরাজ করে এই সড়কের। এতে বিপাকে পড়েন স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও ভার্সিটিতে আসা যাওয়া করা ছাত্র-ছাত্রীসহ ওই এলাকার কয়েক হাজার মানুষ। বিভিন্ন নির্বাচনের আগে পরে অনেকেই আশ^াস দিয়েছেন কিন্তু কাজ করেননি কেউই। ভোক্তভূগি গ্রামবাসী সড়কটি সংস্কারের জন্য আবেদন-নিবেদন করেছেন অনেক, কিন্তু কোনো ফল আসেনি। অবশেষে ঈদ উল ফিতরের পরের দিন থেকে ঈদের আনন্দ উল্লাস বাদ দিয়ে শেষ পর্যন্ত এগিয়ে এলেন গ্রামের যুবকেরা। তাঁদের সঙ্গে যোগ দিলেন অন্যরা। তাদের স্বেচ্ছাশ্রমে সংস্কার হচ্ছে এই সড়কের।
গ্রামের লোকজন জানান, এই সড়ক দিয়ে চলাচলে ভোগান্তির শেষ ছিল না। এ ছাড়া গ্রামের অসুস্থ কোনো ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে যেতেও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। কোন রাস্তা না পেয়ে এ কাজে হাত লাগিয়েছে স্থানীয় তরুণ, শিক্ষক, ছাত্রসহ বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষ।

এলাকার বাসিন্দা এম এ মোশাব্বির আহমেদ বলেন, সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন বাশডর এলাকার স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ শত শত লোক যাতায়াত করে। এ ছাড়া এলাকার মাছ ও তরিতরকারিসহ বিভিন্ন পণ্য আনা-নেওয়ার একমাত্র সড়ক এটি। অথচ গত ২০ বছর ধরে সড়কটি কাজ করা হয়নি। ঈদ আনন্দ না করে আমরা রাস্তা সংস্কারের কাজ করছি।

ওই এলাকার জুনিয়র স্কুলের শিক্ষক কে এম আবুল কাশেম বলেন, জনপ্রতিনিধিরা শুধু আশ^াসই দেয়, কোন কাজ হয়না। তাই এই গ্রামটি অবহেলিত‘র তালিকায় রয়েছে। এই এলাকার প্রতি সুনজর দেয়ার জন্য জনপ্রতিনিধিদের প্রতি আহবান জানান তিনি।
বাশডরের কলেজের ছাত্রী সাদিয়া আক্তার জানায়, বৃষ্টির দিনে সড়কটি কাদায় ভরে যায়। চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। অকেদিন হাঁটুসমান কাদা পেরিয়ে কলেজে যাতায়াত করতে হয়।

সবুজ আহমেদ বলেন, শীত মৌসুমে হেঁটে চলাচল করা গেলেও বৃষ্টির সময় এ সড়কে চলাচল করা দায়। সড়কটি সংস্কার না করায় চরম বিপাকে পড়েছিলাম। অবশেষে এলাকার যুবকরা স্বেচ্ছায় মাঠে নেমেছে।

বাউশা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু সিদ্দিক বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে রাস্তাটি পিছ করার মতো কোন সুযোগ নেই। তবে উপজেলা উন্নয়ন কমিটির সভায় একাধীক বার সড়কটি সংস্কারের জন্য আলোচনা হয়েছে। এবং কার্যকরী তালিকায় সড়কটির নাম আছে। যদি কোন বরাদ্ধ আসে তাহলে আমরা সংস্কার করতে পারবো। যুব সমাজের পক্ষ থেকে সংস্কারের উদ্যোগটি খুব মহৎ বলেও প্রশংসা করেছেন তিনি।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: