সর্বশেষ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
শনিবার, ২২ জুলাই, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৭ শ্রাবণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

জগন্নাথপুরে শিক্ষক সংকট থাকা সত্বেও এগিয়ে চলছে প্রাথমিক শিক্ষা

01.-daily-sylhet-jogonnathpur-news2জগন্নাথপুর প্রতিনিধি:: হাওর-বাওড় বেষ্টিত সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা। মরমী কবি রাধারমণ দত্তের জন্মভূমি প্রবাসী অধ্যূষিত ঐতিহ্যবাহী এ উপজেলায় ১৫৫ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন কাঠামো দুর্বল থাকায় ও আত্মীয়-স্বজনের চাপে শিক্ষিত ব্যক্তিদের প্রবাসে যাওয়ার প্রবণতা বেশি রয়েছে। দেশের অন্যান্য উপজেলা থেকে এ উপজেলায় তুলনামূলকভাবে শিক্ষাগত যোগ্যতার কমতি থাকায় এবং সরকারি চাকুরিতে নারীদের আগ্রহ না থাকায় খুব কম লোক শিক্ষকতা করছেন। ফলে বেশিরভাগ দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে শিক্ষিত বেকার লোকজন এখানে এসে শিক্ষকতা করছেন। যাদের মধ্যে অনেকে তার নিজ এলাকার কোঠায় শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাননি এবং সুনামগঞ্জের কোঠায় নিযোগ পেয়ে কিছু দিন চাকুরি করে আবার তাদের নিজ এলাকায় বদলি হয়ে ফিরে গেছেন ও যাচ্ছেন। যে কারণে জগন্নাথপুরের শিক্ষক শুন্যতা থেকেই যাচ্ছে।

এছাড়া মামলা সংক্রান্ত জটিলতায় এ উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ থাকায় শুন্য পদের সংখ্যা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে ৭০ টি প্রধান শিক্ষক ও ১৭০ টি সহকারি শিক্ষকের পদ শুন্য থাকায় শিক্ষক সংকট দেখা দিয়েছে। স্কুলে শিশু শিক্ষার্থী ভর্তি হার ৯৯.৪৮ ভাগ। ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর হার ১৬ ভাগ। তাছাড়া জগন্নাথপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসেও লোকবল সংকট দেখা দিয়েছে। সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তার পদ ৮টি থাকলেও কর্মরত আছেন মাত্র ৩ জন। এতোসব সমস্যার ভেড়াজালে থাকা সত্বেও জগন্নাথপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার নেতৃত্বে ও আন্তরিকতায় এগিয়ে চলছে জগন্নাথপুর উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষা। বেড়েছ শিক্ষার হার ও মান।

জানাগেছে, ২০১৫ সালে জগন্নাথপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে জয়নাল আবেদীন যোগদান করেন। তিনি জগন্নাথপুরে যোগদানের পর থেকে শক্ত হাতে এসব পরিস্থিতি মোকাবেলা করেন। প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার ফলাফল বর্তমানে শতভাগ। যা পূর্বে ৫০ ভাগের নিচে ছিল। বিদ্যালয়ে বিদ্যালয়ে হোম ভিজিট, উঠান বৈঠক, মা-সমাবেশ ও অভিভাবক সমাবেশ করে তিনি স্থানীয় লোকজনকে উদ্বুব্ধ করেন। সেই সাথে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা জগন্নাথপুরের প্রবাসীদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে তাদের সহযোগিতায় প্যারা শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে শিক্ষক সংকট দুরীকরণে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

এছাড়া প্রবাসীদের উদ্বুব্ধ করে এবং তাদের সহযোগিতায় বিভিন্ন বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর নির্মাণ, শহীদ মিনার নির্মাণ, বিদ্যালয়ের শ্রেণি কক্ষ বৃদ্ধিসহ নানা উন্নয়ন কাজ ও বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্কুলমুখি করতে নতুন স্কুল ড্রেস ও খেলাধূলার সামগ্রী প্রদান করা হয়। মডেল টেস্ট পরীক্ষার মাধ্যমে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় অংশ গ্রহনকারী শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে গড়ে তোলা হয়। জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ ও জগন্নাথপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীনের প্রচেষ্টায় এ পর্যন্ত ২৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ৫ টি মাল্টিমিডিয়া স্কুল চালু করা হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দেয়। জগন্নাথপুরের শিক্ষা বিস্তারে নেয়া হয়েছে ব্যাপক প্রশংসনীয় উদ্যোগ। জগন্নাথপুর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ইতোমধ্যে ১৩৪ টি বিদ্যালয়ে প্রদান করা হয়েছে নিরাপদ পানির ফিল্টার। শিক্ষার্থীদের প্রদান করা হয়েছে নতুন পোষাক, মেইল কাটার, টুথব্রাশ, টুথপেস্ট, টিফিনবক্স, স্কুলব্যাগ ইত্যাদি। এতে বেড়েছে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি হার। যা এর আগে ছিল না। উপজেলার ১২০টি চালু করা হয়েছে মিড ডে মিল। শিক্ষকদের মান বাড়াতে নেয়া হয়েছে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মশালা। সেই সাথে শিক্ষার্থীদের মেধা বৃদ্ধির লক্ষে গণিত ও ইংরেজি প্রশ্নপত্র তৈরি মাধ্যমে বিতর্ক প্রতিযোগিতা হয়ে থাকে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জগন্নাথপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন জানান, আমি শুধু আমার দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করছি। জগন্নাথপুরের পিছিয়ে থাকা শিক্ষার হার ও মান বাড়ানোর চেষ্টা করছি। এক সময় আমি চলে গেলেও এ অঞ্চলের মানুষ আমর কর্মকে স্বরণ করবে।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: