সর্বশেষ আপডেট : ৩৪ সেকেন্ড আগে
বৃহস্পতিবার, ২৭ জুলাই, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ১২ শ্রাবণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ডিজে হতে মেয়েদের আগ্রহ বাড়ছে

aW1hZ2UtNDAzMjMuanBn-300x225নিউজ ডেস্ক:: ‘ডি-জে’ বা ডিস্ক জকি- বিশ্বের অনেক দেশেরই আমোদপ্রিয় মানুষের কাছে বেশ পরিচিত। বাংলাদেশে একটা সময় পুরুষদের মধ্যে কাজটি সীমাবদ্ধ থাকলেও কয়েক বছর ধরে এর প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়েছে মেয়েদেরও। বিবিসি বাংলা অোজ বুধবার এই বিষয়ে একটি বিশ্লেষণী প্রতিবেদন তৈরি করেছে।

জানা যায়, রাতের বিভিন্ন পার্টিতে গানের মিক্সিং করে তার তালে তালে অতিথিদের মাতানোর কাজটি করেন একজন ডিজে। বিবিসি মতে, বাংলাদেশে নারীদের অনেকেই পেশাদার ডিজে হিসেবে কাজ করছেন।

ডিজে রাজিয়া সুলতানা সুমি বলেন, ‘একটি অনুষ্ঠানে দর্শকরা উঠে দাঁড়িয়ে যখন মিউজিকের সাথে সাথে তাল মেলাতে থাকেন, নাচতে থাকেন তখনই একজন ডিজের সার্থকতা।’ তিনি জানান, পাড়া-মহল্লা ও গ্রামীণ জনপদেও এখন ডিজে পার্টির চাহিদা রয়েছে।তিনি আরও জানান, বাংলাদেশে মেয়েদের মধ্যে প্রথম ডিজে হিসেবে মনে করা হয় যাকে, সেই ডিজে সনিকাকে দেখে আগ্রহী হয়ে ২০০৭ সাল থেকে কাজ শুরু করেন ডিজে সুমি।

তিনি বলেন, তবে শহরাঞ্চলে এখনকার তরুণ-তরুণীদের কাছে ডিজে পার্টি বা ডিজে শো খুব পরিচিত। নিউইয়ার পার্টি, থার্টি ফার্স্ট নাইট, বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক অনুষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়ের রি-ইউনিয়ন থেকে শুরু করে জন্মদিন বিয়ে সবকিছুতেই ডিজে মানে বিশেষ আনন্দ।

ডিজে সনিকার পুরো নাম মারজিয়া কবীর। তিনি শুধু দেশেই নন, ভারত, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়ার বিভিন্ন শোতে নিয়মিত ডিজে হিসেবে কাজ করেন।

ডিজেদের ডাক পড়ে বড় বড় রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানেও। আইসিসি ওয়ার্ল্ড কাপ ২০১১ ইভেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান কিংবা হাতিরঝিলে ডান্স অব ফাউন্টেন এর উদ্বোধনে মিউজিক করার তেমনই অভিজ্ঞতার কথা জানান ডিজে সনিকা। তবে মেয়েদের জন্য এখনো এটি ঝুঁকিপূর্ণ পেশা’ বলে মনে করেন তিনি।

সনিকা বলেন, ‘আমি একেবারে মিডিয়া থেকে আলাদা ছিলাম। কিন্তু ডিজে রাহাত তার ডিজে স্কুলে বাংলাদেশে প্রথম কোনও ডিজে শিখতে আগ্রহী প্রথম ব্যাচকে বিনামূ্ল্যে শেখাবেন। তখন প্রথম আমি জানলাম মেয়ে ডিজে নেই দেশে। আমার তখন মনে হলো এটা করতে হবে।’

তবে সনিকা বলেন, ‘মূলত লোকজন সন্ধ্যার দিকেই ডিজে করতে পছন্দ করে। খুব কম দিনে হয়। জন্মদিন বা পিকনিক এগুলো দিনে হয়। বাকিটা কিন্তু রাতেই হয়। একটা মেয়ের জন্য রাতে বের হয়ে কাজ করা অনেক বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। সেক্ষেত্রে আমাকে তো সেরকম সিকিউরিটি নিয়ে যেতে হবে। যাতে নিরাপদে গিয়ে নিরাপদে ফিরতে পারি। দুজন মানুষকে সাথে রাখতে হয়।

প্রথমদিকে যারা বাংলাদেশে ডিজে সংস্কৃতি চালু করেন তাদের মধ্যে ডিজে প্রিন্স, ডিজে রাহাত, ডিজে লিটন, ডিজে মিরাজসহ অনেকে এই নামগুলো উঠে আসে। তাদের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে বর্তমানে আরো অনেক তরুণ-তরুণীই কাজ করছেন।

ডিজে মিরাজ ১০ বছর ধরে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে পারফর্ম করছেন। তিনি নিজেই প্রশিক্ষণও দিচ্ছেন উঠতি অনেক ডিজেকে।

তিনি বলেন, ‘কর্পোরেট ইভেন্ট বা ওয়েডিং ইভেন্ট বর্তমানে অনেক বিস্তার লাভ করেছে। আমি বলবো এখন যদি কেউ এটাকে পেশা হিসেবে নিতে চায়, তাহলে তা অন্য অনেক পেশার চেয়ে তুলনামূলক অনেক ভালো।’

জানা গেছে, ডিজেদের মধ্যে কেউ কেউ অ্যালবামে মিউজিক করছেন, কেউ কেউ চলচ্চিত্রে সুর দিচ্ছেন। সুযোগ আছে অর্থ ও পরিচিতি দুটোই পাওয়ার। আবার কেউ কেউ বিজ্ঞাপন বা মিউজিক ভিডিওতে মডিলং করছেন বা অংশ নিচ্ছেন নাটক অথবা নাচের প্রোগ্রামে। তাই আগ্রহী হচ্ছেন অনেক তরুণ তরুণী। তবে এ পেশার প্রতি সামাজিক মনোভাব যথেষ্ট ইতিবাচক হয়ে উঠতে আরও সময় লাগবে বলে মনে করেন ডিজেরা।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: