সর্বশেষ আপডেট : ৫ মিনিট ৫২ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ২২ জুলাই, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৭ শ্রাবণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ইংল্যান্ডে ঈদজামাতে লাখো মুসল্লির ঢল

1498723452লন্ডন সংবাদদাতা:: ইংল্যান্ডের বার্মিংহামে কড়া নিরাপত্তার মাঝে এবারের ঈদুল ফিতরের জামাতে লক্ষাধিক মুসল্লি সমবেত হয়েছেন। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে একাধিক মুসলিম সন্ত্রাসী হামলার প্রেক্ষাপটে বাড়তে থাকা ইসলাম বিদ্বেষের মধ্যে স্থানীয় সময় রোববার সকালে বার্মিংহামের হিথপার্কে ইউরোপের সর্ববৃহৎ এই ঈদজামায়াত অনুষ্ঠিত হয়। এতে এক লাখের বেশি মুসলিম স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।

সশত্র পুলিশ নিরাপত্তায় ইংল্যান্ডের ইতিহাসে ঈদ অনুষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম এটাই প্রথম। সকাল থেকে দল বেঁধে নারী-পুরুষ, শিশু সহ সব বয়সী মানুষ সর্ব প্রকার ভেদাভেদ ভুলে পার্কে জড়ো হতে থাকেন।এরপর খোলা আকাশের নিচে কাতারে সামিল হয়ে সকলে নামাজ আদায় করেন। মহিলাদের জন্য পার্কের পাশেই পৃথক ব্যবস্থা করা হয়। তারা হিজাব পরে জামাতে শরিক হন।যুক্তরাজ্যে ৩ মিলিয়ন মুসলিম নাগরিকের প্রায় ১ মিলিয়নেরও বেশি বসবাস করেন বার্মিংহামে।

দীর্ঘ একমাস সিয়াম সাধনার পর মুসলমানদের অন্যতম প্রধান এই ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান যুক্তরাজ্যজুড়েই অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে মুসলিম শিশুরা বরাবরই জমকালো বাহারি পোশাক পরে আনন্দে মেতে ওঠে। সরকারিভাবে স্কুল বন্ধ না থাকলেও মুসলিম শিশুদের ঈদের ছুটি ভোগ করতে কোনো বাঁধা নেই।

হিথপার্ক এলাকার বাসিন্দা মি.সায়মন উইলিয়ামস ইত্তেফাককে বলেন ”সকালে যখন দেখতে পেলাম শতশত শিশু নানা রংয়ের পোশাকে সেজেগুজে পুরো হিথপার্ক এলাকাটি আনন্দফুর্তিতে মাতিয়ে তুলেছে তখন মনটা খুশিতে ভরে গেলো। সন্ত্রাসী হামলায় যারা প্রাণ দিয়েছে তাদের জন্য এই আনন্দ উৎসর্গ করতে ইচ্ছে হলো। আমি সবকিছুই ভুলে গেলাম। যে ধর্মে এই ধরণের প্রাণোচ্ছল ফুর্তির রেওয়াজ রয়েছে সেখানে কি করে সন্ত্রাসী তৈরি হয় এমন প্রশ্ন করে তিনি বলেন, ইংল্যান্ড সম্মিলিতভাবে সকল সন্ত্রাস প্রতিহত করবেই। এই ঈদ সমাবেশ তারই বার্তা দিচ্ছে।”

নামাজ শেষে বয়স্কদের পাশাপাশি তরুণ-তরুণী এবং শিশুরা একেঅপরকে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আলিঙ্গনে জড়িয়ে ধরেন। এরপর শুরু হয় ঈদমেলা। এতে নানা ধরণের , গৃহস্থালি সামগ্রী এবং শিশুদের নানা খেলনা বেচা কেনা হয়। শিশুদের বিনোদনের জন্য ছিল নানা ধরণের রাইড, ছোটদের গল্প খেলা সহ বিভিন্ন আয়োজন।

স্থানীয় গ্রিন লেন মসজিদ এবং কমিউনিটি সেন্টারের জেনারেল ম্যানেজার আমির ইজাজ জানান, বার্মিংহামের পাঁচটি মসজিদ এবং কয়েকটি মুসলিম দাতব্য সংস্থা মিলে কাউন্সিল কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়।তিনি আরো জানান গত বুধবার থেকে এজন্য সাধারণ মানুষের কাছথেকে তারা অর্থ সংগ্রহ করেছেন। তিনি বলেন, নভেম্বর থেকে এই অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করেছিলাম। অনুষ্ঠান সফল হওয়ায় মুসলিম কমিউনিটি সহ সকলেই খুশি।

সম্প্রতি ব্রিটেনে কয়েক দফা সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে। এতে মুসলিম কমিউনিটির মাঝে একটি আতঙ্ক বিরাজ করছিলো। বিশেষ করে ম্যানচেস্টারে একটি সংগীত অনুষ্ঠানে আত্মঘাতী বিস্ফোরক হামলায় অন্তত ২৪ জন নিহত এবং ১১৬ জন তরুণ-তরুণী আহত হওয়ার পর ওই এলাকায় মুসলিম বিদ্বেষ বেড়ে যায়। গবেষণা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়, ৭৭৮টি রেকর্ডকৃত ঘটনায় ৬১শতাংশ আহত হয়েছে।

রিপোর্টে বলা হয় ম্যানচেস্টার হামলার পর জাতীয়ভাবে গড়ে দৈনিক ৫৪টি হামলা হয়েছে। যা পূর্বে ছিল ২৫টি। লন্ডন ব্রিজ এলাকায় হামলায় ৮ জন নিহত হওয়ার পর তা বেড়ে প্রায় দ্বিগুণে দাঁড়ায়। অর্থাৎ দৈনিক হামলা হয়েছে ৬৩টি। এতে যুক্তরাজ্যে মুসলিম কমিউনিটিতে বেশ উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে ঈদের মাত্র কয়েকদিন আগে উত্তর লন্ডনের একটি মসজিদের কাছে তারাবির নামাজ শেষে ঘরে ফেরার পথে মুসল্লিদের উপর এক শ্বেতাঙ্গ ব্যক্তি গাড়ি হামলা চালায়। এতে একজন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হন। এছাড়া পশ্চিম লন্ডনের একটি বহুতল আবাসিক ভবনে দুই সপ্তাহ আগে এক অগ্নিকাণ্ডে এ পর্যন্ত ৮০জন প্রাণ হারায় এবং অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন। যাদের অধিকাংশ মুসলিম। এসব ঘটনায় মুসলিমদের মাঝে ঈদের জামায়াত নির্বিঘ্নে অনুষ্ঠান নিয়ে একটি সংশয়ে দেখা দিয়েছিলো।

মুসলিম নেতারা চরমপন্থি কর্মের নিন্দা করলেও তাতে তেমন কোনো প্রতিকার হয়নি বলে বেসরকারি সংস্থাগুলো মনে করে। বিশেষ করে এই মুসলিম বিদ্বেষী হামলায় হিজাব পরা নারীরা আক্রান্ত হচ্ছেন বেশি। পরিবহন বিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়,মুসলিম বিদ্বেষ ক্রমাগতভাবে বেড়ে চলায় পাবলিক পরিবহনে মুসলিম নারীদের যাতায়াত উল্লেখযোগ্যহারে হ্রাস পেয়েছে। এমনকি বেশ কিছু স্কুলে মুসলিম ছাত্রীদের স্কুল থেকে বাহিরে বের হতে কর্তৃপক্ষ বারণ করেছেন।

পুলিশ জানিয়েছে শুধু ঈদ উপলক্ষে নয় সবসময়ের জন্য সকল কমিউনিটির নিরাপত্তা যাতে নিশ্চিত হয় তার যথাযথ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। অবশ্য ঈদ উপলক্ষে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিহত করতেই অতিরিক্ত নিরাপত্তা দেয়া হয়েছে।

এদিকে পূর্ব লন্ডনের বাঙালি কমিউনিটিতে হামলা নিয়ে তেমন কোনো উদ্বেগ ছিল না। কারণ বাঙালি কমিনউনিটি বেশ ঐক্যবদ্ধ বলে কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন।এর আগে বহুবার বাঙালিদের উপর হামলা করতে এসে বর্ণবাদীরা পাল্টা হামলার শিকার হয়ে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে। ফলে পূর্ব লন্ডনে নির্বিঘ্ন ছিল ঈদ উৎসব। এখানে বিভিন্ন পাড়া মহল্লার মসজিদ ছাড়াও একাধিক পার্কে নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। একাধিক জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়েছে ইস্ট লন্ডন মসজিদ ও ব্রিকলেন মসজিদে। এ ছাড়া মাইলএন্ড পার্কে ৫ হাজারের বেশি মানুষ নামাজ আদায় করেছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

বরাবরের মতোই ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে যুক্তরাজ্যের মুসলিমদের পাশাপাশি বিশ্ব মুসলিম উম্মাহকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এছাড়া অন্যান্য শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বার্তা প্রেরণ করেন।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: