সর্বশেষ আপডেট : ১৪ মিনিট ১২ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৭ আশ্বিন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

হাওরপারের ৩ উপজেলার মানুষের মাঝে নেই ঈদ আনন্দ!

28junenewspic027মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি ::
ভাই, যে ভয়াবহ বিপদের মাঝে আছি চিন্তা কররাম কিলা খাইয়া বাঁচতাম। ঘরে ভাত নাই, থাকার জায়গা নাই, এক ট্যাখা রুজিও নাই। স্মরণকালের ভয়াবহ বিপদে পড়ে কিলা দিন যার আমরা বুঝরাম। আগে বাঁচি, বাঁচলে আগামী ঈদে কেনাকাটা করবো, ফূর্তি করবো, আনন্দ করবো। কথাগুলো বলছিলেন হাকালুকি হাওরপাড়ের ভুকশিমইল ইউনিয়নের গৃহবধূ নাজমা বেগম।
এচিত্র শুধু ভুকশিমইল নয়, পুরো হাকালুকি হাওরতীরবর্তী গ্রামগুলোতে যেনো হাহাকার চলছে। এর আগে অকাল বন্যায় শতভাগ বোরো ফসল হারিয়েছে মানুষ। জেলার ৩ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছে। সেই সঙ্গে খরস্রোতা মনুনদীর ভাঙনের কবলে সর্বস্বহারা কুলাউড়ার মানুষ। সবমিলিয়ে জেলার হাওরপারের ৩ উপজেলার মানুষের মাঝে নেই ঈদ আনন্দ।
একদিকে পাহাড় আর অন্যদিকে এশিয়ার বৃহত্তম হাওর হাকালুকি। ভারতীয় সীমান্তঘেঁষা অপরূপ প্রকৃতির এই লীলাভূমিকে প্রকৃতিই করেছে লণ্ড ভণ্ড। চৈত্র মাসের মাঝামাঝি সময় অকাল বন্যায় কুলাউড়া, জুড়ী ও বড়লেখায় উপজেলার ৮ হাজার ২৩০ হেক্টও বোরো ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেই ক্ষতের দাগ যখন দগদগে, তখনই হাওরতীরের মানুষ পড়েছে ভয়াবহ বন্যার কবলে। হাওরপাড়ে তাই এবার নেই ঈদের আনন্দ।

এদিকে চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে সীমান্তের ওপার থেকে আসা কুলাউড়ার দুঃখখ্যাত মনুনদীর ভয়াল হানায় ল-ভ- হয়ে যায় আরও ৬টি ইউনিয়ন। শুধু মনুনদী নয়, পাহাড়ি ঢলে কুলাউড়া উপজেলা দিয়ে প্রবাহিত গোগালী ও ফানাই নদীতেও ভাঙন সৃষ্টি হয়। ফলে উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের মানুষের ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট আর আউশ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়। এ দু’টি বড় বিপর্যয়ের মাঝে ছিলো কালবৈশাখীর তা-ব ও শিলাবৃষ্টির আঘাত। গোটা রমযান মাসজুড়ে এ উপজেলার মানুষ লড়াই করেছে নদী ভাঙন আর বন্যার সাথে। বিশেষ করে কৃষিনির্ভর নিম্ন আয়ের মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছে। অকাল বন্যায় হাকালুকি হাওরতীরের ফসলহারা মানুষের জন্য ওএমএস’র চাল বিক্রি করা হলেও চাহিদার তুলনায় তা যথেষ্ট অপ্রতুল। সেই চালের জন্য অভাবি মানুষকে সেহরির পর থেকে ৬ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়েছে। তারপরও সবার ভাগ্যে জুটেনি ৫ কেজি চাল। আর একবার পেলেও আবার পেতে অপেক্ষা করতে হয় ৬দিন।
স্মরণকালের ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে পড়া এ উপজেলার মানুষের এই দুঃসময়ে সরকারি অপ্রতুল ত্রাণের পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিরাও বাড়িয়েছেন সাহায্যের হাত। তবুও শতভাগ ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে পোঁছায়নি সরকারি কিংবা বেসরকারি ত্রাণ।
হাকালুকি হাওরতীরের ভুকশিমইল ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান মনির জানান, সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে বোরো ধান হারানোর পর এবার ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছে ইউনিয়নের মানুষ। ইউনিয়নে মোট ৬ হাজারের বেশি পরিবার রয়েছে। বোরো ফসলহারার পর এবার বন্যায় শতভাগ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত। এখানে মানুষের মাঝে ঈদ নিয়ে কোনো আগ্রহ কিংবা আনন্দ নেই বললেই চলে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার চৌধুরী মো: গোলাম রাব্বি জানান, প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ক্ষেত্রে এ উপজেলার মতো অন্য উপজেলা ততোটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। ঈদ এলে গরিব ওঅসহায় মানুষকে ভিজিএফ চাল দেওয়া হয়। কিন্তু এবার গরিব নয়, যেনো ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে এই চাল দেওয়া হচ্ছে। তবে কুলাউড়ার মানুষ তাদের প্রবল মানসিক শক্তি দিয়ে এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় কাটিয়ে উঠবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এ বিষয়ে বড়লেখা উপজেলা চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম জানান, অব্যাহত ভারী বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। হাওরপারের ২ ইউনিয়নে ৪টি আশ্রয় কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। বন্যাদুর্গতদের মাঝে ত্রাণও বিতরণ করা হচ্ছে।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: