সর্বশেষ আপডেট : ৪ মিনিট ২৬ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ২৩ জুলাই, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৮ শ্রাবণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ঈদের আনন্দ নেই তাহিরপুরের ৩টি শুল্ক বন্দরে

unnamed (18)জাহাঙ্গীর আলম ভুঁইয়া,তাহিরপুর:: সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের নেই ঈদের আনন্দ নেই। হাওরবাসীর জীবন-জীবিকার একমাত্র এক ফসলী বোরো ধান সর্ম্পূন পানিতে ডুবে যাওয়ায় সর্বতই হাহাকার বিরাজ করছে। এখন হাওরে নেই মাছ,নেই কোন কাজ। বিকল্প কাজের ব্যবস্থা না থাকায় হাহাকার বিরাজ করছে জেলার তাহিরপুর,জামালগঞ্জ,ধর্মপাশা,দিরাই,শাল্লা,বিশ্বম্ভরপুর সহ ১১টি উপজেলায়। জেলার তাহিরপুর উপজেলা সীমান্তের অর্থনৈতিক জোন খ্যাত দেশের উত্তর-পূর্ব সীমান্তের মেঘালয় পাহাড়ের পাশে অবস্থিত ব্যস্ততম ৩টি শুল্ক বন্দর (বড়ছড়া,চারাগাঁও,বাগলী) বন্দর গুলো গত বুধবার (৩১মে,২০১৭ইং) থেকে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কর্মহীন হয়ে বিরান ভুমিতে পরিনত হয়েছে সীমান্ত এলাকার চারপাশ। আর সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমান রাজস্ব। এই ৩টি শুল্ক বন্দর বন্ধ হওয়ায় এর সাথে জরিত ৫শতাধিক আমদানী কারক,বন্দরের পাশে অবস্থিত ৩শতাধিক স্থানীয় ছোট বড় শাড়ী,কাপড়সহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও কর্মরত ৫০হাজারের অধিক শ্রমিকগন আশা-নিরাশার ধুমজালে সময় পার করছেন। ফলে বোরো ধান হারিয়ে যারা এই শুল্ক বন্দরে এসে কাজ করে কোন রখমে জীবন পার করছিল। তারা এখন বেকার সময় পার করছে। ৩টি বন্দর বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এলাকা ছেড়ে শহর মুখি হচ্ছে হাজার হাজার শ্রমিকগন ও হাওর পাড়ের কৃষকগন। জানাযায়,গত বছরের ২৩নভেম্বর থেকে কয়লা আমাদী শুরু হলেও ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের নোট বাতিলের সিদ্ধান্তের কারনে বন্দর গুলো আমদানী-রপ্তানী কার্যক্রম কোন রখমে চলছিল। এই বছরের ৫জানুয়ারী থেকে আবারও পুরুদমে চলে কার্যক্রম। ৬মাস চালুর পর বুধবার (৩১শে মে,২০১৭ইং) থেকে সকল কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ৫শতাধিক আমাদনী কারন তাদের কর্মচারী ও কর্মরত শ্রমিকগন হতাশায় ভুগছে।

আরো জানাযায়,ভারতের মেঘায়ের পরিবেশবাদী সংঘটন ডিমাহাসাও জেলা ছাত্র ইউনিয়নের আবেদনের ভিত্তিতে ২০১৪সালে ১৭এপ্রিল ভারতীয় আদালতে একটি মামলা দায়ের করে ন্যাশনাল গ্রীন ট্রাইবুনাল (এনটিজি) মেঘালয় সরকারের অবৈধ কয়লা খনন ও পরিবহন বন্ধের নিদের্শ দেয়। ২০১৪সালে ১৩মে থেকে মেঘালয় সীমান্তে জেলা গুলোয় ১৪৪দ্বারা জারি করার পর কয়লা পরিবহন নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। বন্ধ থাকার কারনে সরকারের রাজ্যস্ব আদায়ে ধস নেমেছিল তিনটি শুল্ক বন্দরের কার্যক্রমে। এর পর কয়েক দফা কয়লা আমদানী কার্যক্রম চালু হলেও গত বছরের ১৬মে আবারও বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে বন্দর সংশ্লিষ্ট ৫শতাধিক আমদানিকারক নতুন কোন এলসি খোলে কয়লা-চুনাপাথর আমদানি করতে না পারায় মারাতœক ক্ষতির সম্মুখীন। আর বিপুল পরিমান রাজ্যস্ব হারাচ্ছে সরকার।

বড়ছড়া কাষ্টমস সূত্রে জানাযায়-গত ২০১২-২০১৩অর্থ বছরে কয়লা আমদানীর রাজ্যস্ব আদায় প্রায় ১১৮কোটি টাকা। ২০১৩-২০১৪ইং অর্থ বছরে রাজস্ব্য আদায় করা হয়েছে-১৪৩ কোটি ৮৮ লাখ ৬৪ হাজার ৭২৮টাকা। দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ বিবেচনা করে ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য মাত্রা ছিল ১০৫ কোটি ৯৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। প্রায় ১১মাস বন্ধ থাকার পর ২০১৪-১৫ইং অর্থ বছরে ৩০জুন পযর্ন্ত রাজ্যস্ব আদায় হয়েছে-৮কোটি টাকা। প্রায় ১১মাস বন্ধ থাকায় চলতি বছরের নির্ধারীত লক্ষ্য মাত্রার চেয়ে প্রায় ৯৭কোটি টাকা রাজস্ব ও গত বছরের তুলনায় প্রায় ১২৭কোটি টাকা রাজস্ব্য আদায় থেকে বঞ্চিত সরকার। ১৫-১৬ ও ১৬-১৭বছরের রাজস্ব আদায়ে তেমন লাভবান হতে পারে নি সরকার। ৩টি শুল্কষ্টেশনের শ্রমিকরা জানান-আমরার কথা কেউ শুনে না,কেউ ভাবে না,আমরা কাম ছাড়া চলমো কেমনে ? এখন একবারেই বেকার সময় পাড় করতাছি। ঘরে টাকা নাই,ঘরে চাল নাই। খেয়ে না খেয়ে চলতাছি। সমানে ঈদ ঈদে ছেলে-মেয়েরে নতুন কাপড় কিনে দিতা পারতাছি না। মামলা টামলা বুঝি না আমরা শ্রমিকরা চাই ৩ডা বন্দর চাল থাকুক সব সময়। ব্যবসায়ী সুমন দাস ও শংকর দাস জানান-কয়লার দাম বেশি থাকায় ও ভারত সরকারে নানান স্বার্থের কারনে আমরা আমাদের ব্যবসায় বাব বার ক্ষতির শিকার হচ্ছি ফাটা বাঁশের চিপায় পড়ে আছি এর সমাধান খুবেই প্রয়োজন। এবাবে বার বার শুল্ক বন্দর বন্ধ থাকলে একবারেই ত শেষ হয়ে যাব। কয়লা আমদানী কারক সমিতির নেতৃবৃন্ধ ও বিভিন্ন কয়লা আমদানী কারক প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধীকারীগন জানান-শুল্ক বন্দর আবার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অসহায় হয়ে পরেছি। আমদানি চালু হবে তা কেউই সঠিক ভাবে বলতে পারছি না। যার ফলে এর সাথে জরিত শ্রমিকরা এলাকা ছেড়ে শহর মুখী হচ্ছে কাজের সন্ধানে। তবে ভারতীয় কয়লা রপ্তানী কারকগন আইনী লড়ায় করছে। গুরুত্বপূর্ন ৩টি শুল্ক বন্দরের আমদানী কার্যক্রম চালুর জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসন সহ বাংলাদেশ সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করছে তাহিরপুর উপজেলাবাসী। তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কারুজ্জামান কামরুল জানান,এমনিতেই এবার ফসল হারিরে হাওর পাড়ে সর্বত হাহাকার বিরাজ করছে। এখন হাওরে কাজ-কর্ম কিছুই নাই এর মধ্যে উপজেলার ৩টি বন্দর বন্ধ হয়ে গেছে। এখানে বোরো ফসল হারা অনেক কৃষক কাজ করে কোন রখমে চলছিল তাও শেষ। ব্যস্ততম ৩টি শুল্ক বন্দর (বড়ছড়া,চারাগাঁও,বাগলী) বার বার কোন না কোন বন্ধ হয়ে যায় এই বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিয়ে দ্রুত চালুর জন্য সরকারের হস্তক্ষেপ করা প্রয়োজন।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: