সর্বশেষ আপডেট : ৪ ঘন্টা আগে
বুধবার, ২৬ জুলাই, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ১১ শ্রাবণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ফসলহানী ও চুনাপাথর ব্যবসা বন্ধে ঈদবাজারে নেতিবাচক প্রভাব, ব্যবসায়ীরা হতাশ

1. daily sylhet 0-6জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, ছাতক:: ছাতকে বোরো ফসলহানি ও চুনাপাথর ব্যবসা বন্ধ থাকায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে এবারের ঈদবাজারে। চৈত্র মাসে প্রায় ৯০ ভাগ বোরো ফসল পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় হাওর পাড়ের মানুষের মাঝে বইছে বেঁচে থকার লড়াই। বাঁচার লড়াইয়ে অনেক কৃষক পরিবার নিজ এলাকা ছেড়ে বিভিন্ন এলাকায় চলে গেছেন কাজের সন্ধানে। এসব কারনে এবারের ঈদুল ফিতরের আনন্দ অনেকাংশেই ম্লান হয়ে যাবে বলে অনেকেই মনে করছেন। শহরের ছোট-বড় বিপণী বিতান ও শপিং কমপ্লেক্সের ব্যবসায়ীরা অনেকেই অলস সময় পার করতে দেখা গেছে। ঈদের বাজার তো দূরের কথা অনেক কৃষক পরিবারে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে দু’মোটো ভাত খেয়ে বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে।

ফসলহানীর প্রভাবে এখানের ঈদ বাজার এখনও জমে উঠেনি। জমবে কিনা এ নিয়ে ব্যবসায়ীরা হতাশায় ভোগছেন। কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, এবছর অসময়ে হাওরের বোর ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় গোলায় ধান তুলতে না পারা। এবং ছাতকে কৃষির পাশাপশি ছোট-বড় প্রায় হাজারো বোল্ডার পাথর ও চুনাপাথর ব্যবসা প্রতিষ্টান রয়েছে। গত ৬ মাস ধরে ভারত থেকে চুনাপাথর আমাদানি বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীরা চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারী থেকে পাথর তুলতে না পারাসহ তাহিরপুর উপজেলার (বড়ছরা-চারাগাঁও-বাগলী) শুল্কষ্টেশনের কয়লা আমদানী বন্ধ থাকায় জেলার মানুষের মধ্যে ঈদের আমেজ নেই। অন্য বছর ঈদের ১৫ দিন পূর্বেই এখানের সবকটি হাট-বাজারের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় থাকলেও এ বছর দোকানে ক্রেতা নেই।

ছাতক উপজেলায় প্রায় সাড়ে ৩ লাখের বেশি মানুষের বসবাস। ছাতক শহর ঘুরে দেখা গেছে, তাহির প্লাজা, মনিকা প্লাজা, চৌধরী কমপ্লেক্স, দেওয়ান কমপ্লেক্স, মেহতাজ শপিং মলসহ বিভিন্ন বিপণী বিতানগুলোর অধিকাংশ দোকানে ক্রেতাদের ভিড় নেই। মাঝে মধ্যে কিছু কাপড়-চোপড় বিক্রি হলেও ঈদ-বাজার একেবাড়েই জমেনি। অন্য বছরগুলোতে ১০ রোজা পার হলেই বিশেষ করে কাপড়ের দোকানগুলোতে কেনাকাটার একটা ধূম পড়ে যায়। কিন্তু এবারে পুরো ভিন্ন চিত্র পরিলক্ষিত হচ্ছে। কৃষক, নিম্নবিত্ত ও ছোট ব্যবসায়ীদের কেনা কাটার আগ্রহ থাকলেও নেই সার্মথ্য। উপজেলার মধ্যে জাউয়াবাজার হচ্ছে পরিচিত বড় একটি বাজার। ক্রেতা শুন্য এবাজারটি ঘুরে দেখা গেছে কাপর ব্যবসায়ীসহ সকল ধরনের ব্যবসায়ই মন্দা অবস্থা।

বাজারে আশা দক্ষিণ সুনামগঞ্জের দেখার হাওর পাড়ের রনশি গ্রামের রুনা বেগমের কাছে ঈদ উপলক্ষে কেনা-কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভাই আমরা তো হওরপারের মানুষ বোরো ফসলের উপর নির্ভরশীল । বোরো ফসল ভাল হলে ধান বিক্রি কইরাতো ঈদের কিনা-কাটা করি। ইবার আমরার ধানও গেছে, মাছও গেছে। ঘরে ধান নাথাকায় ঈদের বাজার করার সামর্থ্য নাই। বাজারের জনাতা ভেরাইটিজ সু-ষ্টুরের মালিক তরুন ব্যবসায়ী কৃপেশ সুত্রধর জনান, ১৬/১৭ বছর যাবৎ বাজারে ব্যবসা করে আসছি। প্রতি বছর ১৫ থেকে ২০রমজানের মধ্যেই বাজরে ক্রেতাদের উপচে পরা ভীড় লেগে থাকতু। কিন্তু এবছর বাজারটি ক্রেতা শুন্য লাগছে। বিগত দিনে ঈদের বাজারে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০হাজার টাকার বিক্রি দিয়েছি। কিন্তু এবছর সারা দিনে ২০ হাজার টাকার বিক্রি দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ছাতকসহ উপজেলার বিভিন্ন বাজারে একাধিক ক্রেতা-বিক্রেতা জানান বন্যায় কৃষি ফসলের ক্ষয়-ক্ষতিসহ ভোলাগঞ্জে পাথর কোয়ারি বন্ধসহ ভারত থেকে চুনা পাথর আমদানী-রপ্তানী না থাকায় ঈদ বাজারে এর প্রভাব পড়েছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবছর বাজার গুলো ক্রেতা শুন্য মনে হচ্ছে। ফলে কাপরের দোকানে বিক্রি কম হচ্ছে। উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারের একাধিক কাপড় ব্যবসায়ী জানান, ঈদের বাজারের অবস্থা ভালো নয়। প্রতি বছরে পবিত্র ঈদ-উল ফিতর উপলক্ষে ঈদ-বাজারে বিক্রির বড় লক্ষ্যমাত্রা থাকে। কিন্তু অন্য বছরের তুলনায় বছর তুলনা মুলক হারে বিক্রি কম হওয়ায় দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: