সর্বশেষ আপডেট : ৩৭ মিনিট ৪৮ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৮ আশ্বিন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

মধ্যরাতেও সরগরম নগরীর ঈদবাজার

1. daily sylhet 0-19জীবন পাল:: দরজায় কড়া নাড়ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। কেনাকাটা শেষ হলেও যেন কিছু বাকি থেকেই যায়। আবার অনেকে সারা মাস দেখেশুনে কেনাকাটা সারেন শেষের দিকেই। ঈদের ঠিক আগ মুহূর্তে সিলেট নগরীর বিপনীবিতানগুলোতে ব্যাপক ব্যস্ততা চলছে। সবমিলিয়ে দিন ছাপিয়ে মধ্যরাতেও ক্রেতাদের পদচারনায় মুখর রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেট, ফ্যাশানহাউজ ও শপিংমলগুলো। বাড়তি লাভের আশায় দোকানীরাও দোকান খোলা রাখছেন ভোররাত পর্যন্ত।

ক্রেতারা বলছেন, দিনের ব্যস্ততা শেষ করে ভিড় এড়িয়ে দেখেশুনে কেনাকাটার জন্য রাতই ভাল। আর বিক্রেতারা বলছেন, মধ্য রমজানের পর থেকে শুরু হয়েছে রাত জেগে কেনাকাটা। দিনে শিশু ও মহিলা ক্রেতা বেশি থাকলেও রাতে তরুণ-তরুণী ও পুরুষ ক্রেতাই বেশি।

ঘড়ির কাটায় যখন রাত ১১টা বেজে ৩০ মিনিট তখনও তীব্র যানজট লেগে আছে নগরীর বারুতখানা পয়েন্টে। একটানা বাঁশি বাজায়ে ট্রাফিক পুলিশের ছুটোছুটি। স্বেচ্ছাসেবীরাও যানজট নিয়ন্ত্রণে আনতে তাদের সাথে কাজ করছেন । যানজট সারাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তবুও তাদের।

এই চিত্রটা বারুতখানারই যে তা কিন্তু নয়। জিন্দাবাজার, নয়াসড়ক, জেলরোড, কুমারপাড়া, বন্দরবাজারসহ ব্যস্ততম সবকটি সড়কের একই অবস্থা। ট্রাফিক পুলিশ জানিয়েছে, নগরীতে যানবাহনের চাপ রেড়েছে। নগরের বাহির থেকেও অনেকে কেনাকাটা করতে আসছেন। রাতের বেলাটাকে  ঈদ উপলক্ষে কেনাকাটা করার উপযুক্ত সময় হিসেবে বেছে নেওয়ায় নগরীতে যানজট বেড়ে গেছে।

আড়ং-এ বন্ধুদের নিয়ে বেশ মজা করে ঘুরে ঘুরে শার্ট-প্যান্ট কিনছেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাব্বি। ফ্যামিলির সঙ্গে ঈদ করছেন জানিয়ে বলেন, ‘বন্ধুরা মিলে গত কয়েকদিন ধরেই কেনাকাটর জন্য বের হচ্ছি। সুযোগ ও পছন্দ মতো যে যার মতো কিনছি।’

তবে তাদের মধ্যে কোনো বন্ধু না কিনলেও গ্রুপের সঙ্গে মার্কেটে আসতে হবেই বলে যোগ করেন রাব্বির বন্ধু তুহিন।

কমবেশি কেনাকাটা করছেন উচ্চ, নিম্নবিত্তসহ প্রায় সবাই শ্রেণীর মানুষই। জিন্দাবাজারের সিটি সেন্টার, ব্লুওয়াটার, শুকরিয়া, বন্দরবাজারের মধুবন, হাসান মার্কেট ও হকার্স মার্কেটে বহু মানুষের উপস্থিতি চোখে পড়ে রাত ১২টার দিকেও।

বেশ কয়েকটি নামিদামি ব্র্যান্ডের দোকান থাকায় ক্রেতাদের বাড়তি সমাগত লক্ষ্য করা গেছে নগরীর নয়াসড়ক ও কুমারপাড়ায়। বর্ণিল আলোকসজ্জায় সাজানো হয়েছে গোটা এলাকাকে । উচ্চবিত্ত ও উচ্চ মধ্যবিত্ত শ্রেণীর ক্রেতারা মূলত সেখানে বেশি ভিড় করছেন । যেখানে আড়ং, মাহা, অঞ্জন’স, দেশিদশ, কে ক্র্যারাফট, এডিশন, কমলা ভান্ডার-এর মতো নামীদামি ব্রান্ডের পাশাপাশি আছে স্থানীয় বুটিক ও জামাকাপড়ের দোকান। যার কারনে এসব এলাকাও জমজমাট থাকে অনেক রাত পর্যন্ত ।

গৃহিনী সাদিয়া ইসলাম বলেন, ‘কেনাকাটা করে একেবারে বাসায় গিয়ে সেহরি খেয়ে নেব এটাই তো ভালো। গরম নাই, ধাক্কাধাক্কিও নাই। তাছাড়া রাতের বেলা ঝামেলা কম থাকে বলেই মার্কেটে আসা।’
একেবারে চাঁনরাত (ঈদের আগের দিন) পর্যন্ত এভাবে রাতের বেলা বেঁচা-কেনা চলবে বলেও জানান বিক্রেতারা।

রমজানের প্রথম দিকে দোকানে ক্রয়-বিক্রয় কম থাকলেও বর্তমানে ক্রেতার সংখ্যা অনেক বেশি। ক্রেতাদের ভীড় সামাল দিতে অনেক মার্কেটেই দোকানিদের হিমশিম খেতে দেখা গেছে। এমনকি এবারের ঈদ মার্কেটে ক্রেতাদের মধ্যে বেশিরভাগই নারী।

তবে নিম্ন আয়ের ক্রেতারা ফুটপাতের দোকানগুলোতে ভিড় জমাচ্ছে বেশি। এর বাইরে কসমেটিকস ও স্টেশনারি দোকানেও কমতি নেই ক্রেতাদের।
গত বছরের তুলনায় পোষাকের দাম এবার দাম খুব একটা না বাড়ায় সন্তুষ্ট ক্রেতারা। সেই সাথে কেনা-কাটার নিরাপদ পরিবশের কারণেও ক্রেতারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: