সর্বশেষ আপডেট : ১০ মিনিট ১৪ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ২ কার্তিক ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

টানা বৃষ্টিতে নবীগঞ্জের কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত

sdltমতিউর রহমান মুন্না, নবীগঞ্জ:: গত ক‘দিনের টানা বৃষ্টিতে হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার দীঘলবাক ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম আবারো প্ল্যাবিত হয়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন প্রায় সহস্রাধিক পরিবার। কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ওই এলাকার বসতবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, আউশ ধান ও বিভিন্ন জাতের সবজি ক্ষেত তলিয়ে গেছে। বিধ্বস্ত হয়েছে বহু কাঁচা ঘর-বাড়ি। পানি ঘরে প্রবেশ করায় অনেকেই মানুষ মানবেতর জীবন যাপন করছেন। তাৎক্ষনিকভাবে বেড়ি বাধ নির্মাণ না হলে কুশিয়ারার করাল ঘ্রাসে গ্রামগুলো বিলিন হওয়ার আশংকায় স্থানীয়রা।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গত কয়েক দিন ধরে টানা বৃষ্টি হওয়ায় নবীগঞ্জের কুশিয়ারা নদীতে উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানি বিপদ সীমার ওপর প্রবাহিত হয়ে নদীর তীরবর্তী ও কুশিয়ারা ডাইকের বাহিরের অংশে দীঘলবাক, কসবা, চরগাঁও, মাধবপুর, মতুরাপুর, রাধাপুরসহ ৯ টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ মানুষের বসতঘরে পানি প্রবেশ করায় পানিবন্দী হয়ে প্রায় সহস্রাধিক পরিবার মানবেতর জীবন যাপন করছেন। অনেকেই নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন। আবার অনেকে সাপ আতংকে রাত পাহাড়া দিচ্ছেন।

অন্যদিকে বন্যা নিয়ন্ত্রন বাধ কুশিয়ারা ডাইক এর বেশ কয়েকটি স্থান ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। যে কোন সময় বন্যা নিয়ন্ত্রন বাধ কুশিয়ারা ডাইক ভেঙ্গে যাওয়ার আশংকায় রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন স্থানীয় লোকজন। বিশেষ করে দীঘলবাক বাজারে অনন্ত শতাধীক দোকান পানিবন্দী অবস্থায় আছে। দোকানে পানি থাকায় দোকানে কাষ্টমার নেই এমনকি বর্ষা মৌসুমে বাধ্য হয়ে দোকান বন্ধ রাখতে হয় বলে জানানেল ব্যবসায়ীরা। আর টানা বর্ষনের কারণে কর্মহীন হয়েপড়েছে নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ।

অকাল বন্যায় অনেকেই ঘরবাড়ি ছেড়ে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন, কিন্তু কোন চেয়ারম্যান, মেম্বার অথবা জেলা বা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোন ধরনের ত্রাণ সহায়তা পাচ্ছিলেন না স্থানীয়রা। কয়েকদিন পূর্বে এ সংক্রান্ত প্রতিবদেন বিভিন্ন টিভি চ্যালেন, এবং জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর প্রায় ৩শত পরিবারকে ত্রাণ সহায়তা করে উপজেলা প্রশাসন।
অপর দিকে পবিত্র রমাজান মাসে অনেক বাড়ি ঘরে পানি উঠায় ইফতার কিনবা সেহরীর সময় তারা টিক মতো রান্না করতে পারছেননা। কোন উপায় না পেয়ে ঘরে তালা ঝুলিয়ে আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে গিয়ে তাকতে হচ্ছে তাদের। আর যাদের অন্য কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই তারা অনেকটা কষ্ট করে পানিবন্দী অবস্থায়ই বসবাস করছেন। দিন যায় যেমন তেমন রাত হলে সাপসহ নানা আতংকে থাকেন তারা। বিশেষ করে সমস্যায় পড়তে হয় স্কুল কলেজ পড়–য়া ছাত্র-ছাত্রীদের। বেড়ি বাধ নিমার্ণসহ সরকারের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ক্ষতিগ্রস্থরা। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য তাৎক্ষনিক কোন ব্যবস্থা না নিলে পুরো দীঘলবাক বিলিন হওয়ার আশংকায় আছেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবু সাঈদ এওলা মিয়া।
আর খুব শীঘ্রই বেড়িবাধ ও সুইছ গেইট নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে বলে জানালেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাজিনা সারোয়ার।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: