সর্বশেষ আপডেট : ১ মিনিট ৭ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ২ কার্তিক ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

লক্ষাধিক জনগোষ্ঠীদের যাতায়াতের কাঠের সেতু !

htr copyমো রুবেল মিয়া তালুকদার, চুনারুঘাট:: হবিগঞ্জে চুনারুঘাট উপজেলার ৯ নং রানিগাঁও ইউপির ৪ নং ওয়ার্ডে মিরাশী নতুনবাজারে অদূরে তেরাশুট গ্রাম সংলগ্নে করাঙ্গী নদীর উপর নির্মিত কাঠের সেতু দেখা গেছে। বিশ্বায়নের যুগে এই রকম কাঠের সেতু গ্রাম-গঞ্জে প্রত্যন্ত এরিয়া দেখা যায়। দীর্ঘদিন ধরে সেতু নির্মাণ না করায় লক্ষাধিক জনসাধারণের যাতায়াত এবং কৃষি পন্যসামগ্রী পারাপারের স্বাভাবিক ভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সরজমিনে ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়,সড়কটি মিরাশী নতুনবাজারে থেকে পারকুল বস্থি, গোয়াল্যাছড়ি, গরমছড়ি, শ্রীবাড়ি অতিক্রম করে হুগলী হয়ে শ্রীমঙ্গলের সাথে মিলিত হয়েছে। পারকুল বস্তিবাসীরা ছোট ছোট যানবাহনে যাতায়াত করেন । প্রতি বছরই এটি নবায়ন করা হয়। জানা যায়, স্থানীয় ইউপির চেয়ারম্যান প্রতি বছর পর পর কাঠের সেতু নির্মাণ করেন ।

সপ্তম শ্রেনী ছাত্রী মালেকা বলেন, ব্রীজ অাদৌ হবে কি হবে জানি না! তবে কাটের ব্রীজ টি থাকায় আপতত স্কুলে আসা-যাওয়া সম্ভব হচ্ছে। আমরা মিরাশী উচ্চ বিদ্যালয়ের পড়ি এবং প্রতিদিন আঁকা-বাঁকা পথ পেরিয়ে প্রায় ৩/৪ মাইল জায়গা হাঁটি।

পারকুল বস্তিগামী সি,এন,জি বহরে যাওয়ারত ষাটোর্ধ আব্দুল হালিম ও করিমুল্লাহ বলেন, এই ব্রীজ দিয়ে হালকা যানচলাচল করে যেমন রিক্সা, টেম্পু, হোন্ডা, টমটম। পারকুল গ্রামের অধিবাসীরা প্রায় ৪/৫ কিলোমিটার মাটির সড়ক দিয়ে মিরাশী নতুনবাজার হয়ে চুনারুঘাটের আসা-যাওয়া করা হয়।

করাঙ্গী নদীতে গোসলরত আব্দুল খালেক বলেন, কাঠের সেতু দিয়ে মুলত ছোট ছোট যানবাহন চলাচল করে। তবে শুকনো সময় ভারি যানবাহন তথা ট্র্যাক্টর নদী দিয়ে পারাপার করে থাকে ।

রাখাল শিশু করিমুদ্দিন বলেন,”আমি প্রতিদিন এই গাছতলায় বসে গরু রাখালি করি। দেখি প্রতিনিয়ত গ্রাম-গঞ্জে প্রত্যন্ত এলাকা থেকে মানুষ সি,এন,জি বা রিক্সা, বা কেউ কেউ হোন্ডা এবং কেউ কেউ হেঁটে কাঙ্খিত স্থানে আসা-যাওয়া করেন । আগে দেখতাম, এই কাঠেরর সেতু না থাকায় শুখনো সময়ে অসুস্থ রোগিদের ক্ষেত্রে স্বজনদের সাহায্য নদীর পারাপার হতেন। বিপত্তি ঘটতো বর্ষার সময়, প্রচন্ড পানি স্রোত থাকত, নতুন শক্তিতে উজ্জীবিত হতো। পারাপার সুযোগ না থাকায় অনেকে রোগি চিকিৎসার করতে আশা ছেড়ে দিতেন। এখন ২/৩ বছর ধরে কাঠের সেতু তৈরি হওয়ায় অন্ততপক্ষে গ্রাম-গঞ্জে নারী-পুরুষরা চিকিৎসার কার্যে চুনারুঘাটের আসতে পারতেছেন”।

পারকুল গ্রামের বাসিন্দা জনাব আম্বর আলী জানান,”পাকা ব্রীজ কখন হবে, সেটি বলতে পারছি না। তবে দেখি লোকজন আইয়া( আসা) দেখে যায় । মাপঝোক নেয় এবং বলে, এটি খুব দ্রুতই নির্মাণ করা হবে!

সেতু নির্মাণে কোনো পরিকল্পনা আছে কি জানতে চাইলে চুনারুঘাট উপজেলার এলজিইডি কর্মকর্তা রাশেদুল আলম বলেন, সরজমিনে ঘুরে দেখেছি। কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন হয়ে গেলে কাজ শুরু হবে। সেতু হয়ে গেলে জনদুর্ভোগ কমে যাবে।

উপজেলার পরিষদ চত্ত্বরে দেখা হলে এ বিষয়ে জানতে চাইলে চুনারুঘাটে ৯ নং রানিগাঁও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুল মোমিন চৌধুরী ফারুক বলেন, পারকুল গ্রামের লোক সংখ্যা প্রায় লক্ষাধিক উপরে বসবাস করেছে। সেতু না থাকায় এ গ্রামের কৃষিপণ্য আনা-নেওয়া সমস্যা হয়। অল্প অল্প করে মালামালের পারাপার করেন। ফলে কৃষিপণ্য ব্যয় বেড়ে যায়। অাপাতত সমস্যা থেকে পরিত্রাণের লক্ষ্যে প্রতিবছর ই কাঠ দিয়ে নতুন সেতু তৈরি করা হয় অন্ততপক্ষে কিছুটা কাজ হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, সেতুর নির্মাণে জন্য কাগজপত্র দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। অাশা করি অনুমোদন হলে যাবতীয় কার্যকাক্রম শুরু হবে।সেতুটি হলে প্রত্যন্ত গ্রামগুলো উন্নত হবে। চুনারুঘাটে সাথে পারকুল বস্তির-গরমছড়িসহ শ্রীবাড়ির সাথে যোগাযোগ সহজ হবে।

এমপি মহোদয়ের নিকট সুদৃষ্টি কামনা করে স্থানীয় জনসমষ্টিগণ আশা করছেন ব্রীজ টি নির্মাণে যতদ্রুত সম্ভব কাজ শুরু করা। যাতে পারকুল বস্তিরবাসীর যাতায়াত দুর্ভোগ যেনো কমে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: